মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুঃখ কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া

রাফি হোসেন ‎কুবি প্রতিনিধি : ‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের(কুবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের শেষ নেই। নিম্নমানের খাবার, চড়া মূল্য, অপরিচ্ছন্নতা, অব্যবস্থাপনা এবং বহিরাগত পর্যটকদের খাবার ব্যবস্থাপনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানা ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ‎‎আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় বহিরাগত পর্যটকদের কারণে খাবার খেতে পারেনি বলে ছাত্র পরামর্শকের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে […]

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুঃখ কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:২৯

রাফি হোসেন ‎কুবি প্রতিনিধি :

‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের(কুবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের শেষ নেই। নিম্নমানের খাবার, চড়া মূল্য, অপরিচ্ছন্নতা, অব্যবস্থাপনা এবং বহিরাগত পর্যটকদের খাবার ব্যবস্থাপনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানা ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

‎‎আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় বহিরাগত পর্যটকদের কারণে খাবার খেতে পারেনি বলে ছাত্র পরামর্শকের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে একাধিক শিক্ষার্থী।

‎শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুপুরের খাবারের সময় ক্যাফেটেরিয়ায় পর্যাপ্ত বসার জায়গা পাওয়া যায়নি। ক্যাফেটেরিয়ার প্রায় পুরো অংশ বহিরাগত পর্যটকে পরিপূর্ণ ছিল। কেউ কেউ খাবার পেলেও সব আইটেম পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি খাবারের মান, সময়মতো টেবিল পরিষ্কার না করা এবং পানি ও অন্যান্য উপকরণ যথাসময়ে সরবরাহ না করার অভিযোগও নিয়মিত বলে জানান তারা।

‎ক্যাফেটেরিয়া সূত্রে জানা যায়, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন বহিরাগত অতিথিদের জন্য খাবারের অর্ডার দেন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ক্যাফেটেরিয়া কর্তৃপক্ষকে আগেই জিজ্ঞেস করেছিলাম যে আমার কিছু অতিথি আসবে, তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে কি না।

ক্যাফেটেরিয়া পরিচালক আমাকে নিশ্চিত করেন, শিক্ষার্থীদের কোনো ভোগান্তি হবে না। সেজন্যে আমি অর্ডার দিয়েছি।”

‎ভুক্তভোগী ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান আস সাদী বলেন, “আজ ক্যাম্পাসের অন ডে। কিন্তু ক্যাফেটেরিয়া কর্তৃপক্ষ বাইরের পর্যটক দিয়ে পুরো ক্যাফেটেরিয়া দখল করে রেখেছে। একটা টেবিলও খালি নাই। পরিবেশ এত কোলাহলপূর্ণ যে শান্তভাবে বসে খাবার খাওয়ার সুযোগ নেই।

এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরই দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জায়গাই না থাকে, তাহলে এই ক্যাফেটেরিয়ার প্রয়োজনীয়তা কী?”

‎গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, “ক্যাফেটেরিয়া কর্তৃপক্ষ বহিরাগত শিক্ষার্থীদের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আমি যখন খেতে বসি তখন টেবিল পরিষ্কার ছিল না, পানি ছিল না। কিন্তু বাহিরের শিক্ষার্থীরা আসার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত টেবিল পরিষ্কার করা হয়েছে।

এমনকি তারা এসে আমাকে তারাতাড়ি টেবিল ছাড়তে বলেছে। বাধ্য হয়ে আমি খাবার না খেয়েই উঠে যাই। এখন প্রশাসনের কাছে একটাই দাবি শিক্ষার্থীদের সমস্যাটা বুঝে ক্যাফেটেরিয়ার অব্যবস্থাপনা সংস্কারের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”

‎এ বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়ার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, “আমাদের কিছুটা ভুল ছিল। আমরা বিষয়টি আগে সেভাবে বুঝতে পারিনি। শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছিল, কিন্তু পরে সেখানে অতিথিরা বসে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকব।”

‎এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। তিনি বলেন, ‎“আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি, দুপুর বেলায় শিক্ষার্থীরা ক্যাফেটেরিয়ায় এসে বসার জায়গা পাচ্ছিল না।

ক্যাফেটেরিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তারা নিশ্চয়তা দিয়েছে, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের খাবারের সময় ক্যাফেটেরিয়া শুধু শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হবে। এ ধরনের পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না বলে আশা করি।”

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।