মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

হলে সিট প্রাপ্তও পেলেন আবাসন বৃত্তি, উভয় থেকে বঞ্চিত জবির ২০ ব্যাচের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী

রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আবাসন বৃত্তির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রথম ও দ্বিতীয় তালিকা মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী এই বৃত্তির আওতায় এসেছেন। তবে এই তালিকায় এমন অনেক শিক্ষার্থী স্থান পেয়েছেন যারা ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে আবাসন সুবিধা ভোগ করছেন। অন্যদিকে, সম্পূর্ণ নতুন শহরে আবাসন ও আর্থিক সংকটে থাকা […]

হলে সিট প্রাপ্তও পেলেন আবাসন বৃত্তি, উভয় থেকে বঞ্চিত জবির ২০ ব্যাচের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০০:১৯

রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আবাসন বৃত্তির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রথম ও দ্বিতীয় তালিকা মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী এই বৃত্তির আওতায় এসেছেন। তবে এই তালিকায় এমন অনেক শিক্ষার্থী স্থান পেয়েছেন যারা ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে আবাসন সুবিধা ভোগ করছেন।

অন্যদিকে, সম্পূর্ণ নতুন শহরে আবাসন ও আর্থিক সংকটে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনতম ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এই তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে হলের শিক্ষার্থীরা আবাসন ও বৃত্তি উভয় সুবিধা পেলেও, ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উভয় সুবিধা থেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। এই ‘দ্বিমুখী নীতি’ নিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কৃতক প্রকাশিত তালিকা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, প্রথম তালিকায় ২০১৯–২০ থেকে ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের মোট ৮,৩৩০ জন এবং দ্বিতীয় তালিকায় আরও ১,৯৮৯ জন শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কিন্তু আবাসন সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী ২০তম ব্যাচকে এখনই বৃত্তির আওতায় আনা হচ্ছে না; তাদের বিষয়টি বৃত্তির দ্বিতীয় কিস্তিতে বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ অবিচার’ বলে দাবি করে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের অর্থাৎ ২০তম আবর্তনের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শফিক খান হাসিব ব্যাচের শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা নতুন একটি শহরে এসেছি।

এখানে থাকার জায়গা নেই, টিউশন সংকট প্রকট, এর ওপর মেস ভাড়ার বোঝা। অথচ প্রশাসন আমাদের বাদ দিয়ে এমন অনেককে বৃত্তি দিচ্ছে যারা ইতিমধ্যেই হলে থাকছে। কাউকে আবাসন ও আবাসন বৃত্তি দুটোই দেওয়া হচ্ছে, আবার কাউকে দুটোর একটিও দেওয়া হচ্ছে না এটা কোন ধরনের ন্যায্যতা? যদি সবাইকে দিতো, তাহলে হলের শিক্ষার্থীরা পেলেও আমাদের সমস্যা ছিলো না।”

মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বলেন, “আস-সুন্নাহ হলে যারা থাকেন, তাদের বিষয়টি ভিন্ন। সেখানে পরিবেশ ও সিটের স্থায়িত্ব নিয়ে সমস্যা থাকায় তাদের বৃত্তি পাওয়া যৌক্তিক হতে পারে।

একইভাবে মেয়েদের হলের খুব অস্বচ্ছলদের বিষয়টিও বিবেচনা করা যায়। কিন্তু ঢালাওভাবে হলের সিটপ্রাপ্তদের বৃত্তি দিয়ে পুরো ২০ ব্যাচকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

আন্দোলনে অংশ না নেওয়ার অযুহাতে ২০ ব্যাচকে বাদ দেওয়ার মানসিকতার কড়া সমালোচনা করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা বলেন, “অনেকে বলছেন ২০ ব্যাচ বৃত্তির আন্দোলন করেনি, তাই তাদের বাদ দেওয়া যৌক্তিক।

তাদের বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ বা হল আন্দোলন আমাদের পূর্বপুরুষ বা সিনিয়ররা করেছেন। তার সুফল কি আমরা ভোগ করছি না? প্রকৃত অধিকার আদায়ে যারা লড়েন, তারা সবার জন্যই লড়েন।

তাছাড়া তখন তো আমরা ক্যাম্পাসে ভর্তিই হইনি, তাই আন্দোলনে থাকার প্রশ্নই আসে না। এই খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে কাউকে ‘ডাবল বেনিফিট’ দেওয়া আর নবীনদের রাস্তায় রাখা প্রহসন ছাড়া কিছু নয়।”

শিক্ষার্থীদের দাবি, অনতিবিলম্বে আবাসন বৃত্তির নীতিমালায় সংস্কার এনে ২০তম ব্যাচকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিশেষ করে যারা হলে সিট পাননি এবং অনাবাসিক হিসেবে চরম কষ্টে দিন পার করছেন, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বৃত্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায়, নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্ট এই অসন্তোষ বড় ধরনের আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে জকসুর এজিএস মাসুদ রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টিকে ‘সাংঘর্ষিক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি অবশ্যই সাংঘর্ষিক। আমরা চাই আবাসন বৃত্তি তারাই পাবে যারা আবাসন সুবিধায় বা হলে থাকেন না, মেসে থাকেন।

আমি বর্তমানে বাড়িতে থাকায় অফিশিয়ালি এখনো বিস্তারিত দেখিনি। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তালিকা সংশোধন করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাব।”

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ট্রেজারার, জকসুর ভিপি এবং সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রাসঙ্গত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লং মার্চ টু যমুনা আন্দোলনের ফলে সরকার আবাসন বৃত্তি চালুর উদ্যোগ নেয়। তবে বণ্টন প্রক্রিয়ায় হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রকৃত সংকটগ্রস্ত নবীনদের বাদ দেওয়ায় এই মহৎ উদ্যোগটি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।