আবু তাহের, জাককানইবি
বাঙালির গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুরের রস। নানা প্রতিকূলতায় আবহমান বাংলার এই ঐতিহ্য এখন কোণঠাসা অবস্থায়। বাঙালির হারাতে বসা এই গ্রামীণ সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘রস ও পিঠা উৎসব–২০২৬’।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) কুয়াশাভরা শীতের সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ভাস্কর্যের সামনে বসে রস ও পিঠার মেলা। রংপুর ডিভিশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তপন কুমার সরকার, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, পরিবহন প্রশাসক ও সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী, শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক জনাব মো. ওমর ফারুক সরকার (মাসুদ রানা), রংপুর ডিভিশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান ও সাবেক সদস্যবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রংপুর ডিভিশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাহাবির হোসেন সাব্বির এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুন রোমা।
রস উৎসব নিয়ে অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, ‘আমি যখন জানতে পারি আজ রস উৎসব, তখন প্রতি বছরের মতো এই দিনটির কথা মনে পড়ে যায়। রংপুর ডিভিশনের নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি, যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতি ধরে রাখা ও লালন করে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। আমি তাঁদের এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই এবং মনে করি, রংপুর অ্যাসোসিয়েশন সকল ক্ষেত্রেই সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত।’
রস উৎসব নিয়ে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এমন আয়োজনের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু শিখতে ও জানতে পারি, পাশাপাশি আমাদের ঐতিহ্যকে চিনতে পারি। শীতের মনোরম সকালে রস খেতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আর এ বছর এটাই আমার প্রথম খেজুরের রস খাওয়া। আমি মনে করি, এমন আয়োজন আরও বেশি বেশি হওয়া উচিত।’
রংপুর ডিভিশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুন রোমা বলেন, ‘রংপুর ডিভিশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন প্রতিবারের মতো এবারও আয়োজন করেছে “রস ও পিঠা উৎসব–২০২৬”। আমাদের সংস্কৃতি, শীতের আমেজ, ভালোবাসা ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতেই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। এমন একটি সুন্দর আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমি নিজেও আনন্দিত। সেই সঙ্গে সবাইকে পিঠা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাই এবং যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ।’
রংপুর ডিভিশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাহাবির হোসেন সাব্বির বলেন, ‘রংপুর ডিভিশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো রস ও পিঠা উৎসব। এ আয়োজনে শুধু রংপুর বিভাগের নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন। আজকের এই আয়োজনে শিক্ষার্থীরা রস, পিঠা ও বিভিন্ন মিষ্টান্ন উপভোগ করে দারুণ অনুভূতি প্রকাশ করেন। এত সুন্দর একটি আয়োজন করতে পেরে আয়োজকরাও আনন্দিত।’