রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিউম্যান রাইটস সোসাইটির (জেএনইউএইচআরএস) উদ্যোগে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘হিউম্যান রাইটস ও মিডিয়া লিটারেসি অলিম্পিয়াড-২০২৬’।
তরুণদের মানবাধিকার, গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতা (এমআইএল), সমালোচনামূলক চিন্তা এবং ডিজিটাল যুগে দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব বোধকে শানিত করার লক্ষ্যে এই অনলাইনভিত্তিক অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
১৮ জানুয়ারি (রবিবার) থেকে অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়। যা আগামী ২২ জানুয়ারি রাত ১২ টা পর্যন্ত চলমান থাকবে।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৩ জানুয়ারি এই অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। ৫০ মিনিটের এই পরীক্ষায় ৪০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) এবং ১০টি মুক্ত উত্তরভিত্তিক (Open-ended) প্রশ্ন থাকবে। সব প্রশ্নই হবে দৃশ্যপটভিত্তিক (scenario-based), যা বিচারবুদ্ধি, নৈতিকতা এবং সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর গুরুত্ব দেবে।
আয়োজকরা জানান, আগ্রহী শিক্ষার্থীরা অনলাইনে (https://forms.gle/VE4iBw989sq2oPTz9) সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অলিম্পিয়াডের প্রশ্নগুলো মূলত মানবাধিকার, মিডিয়া ও ইনফরমেশন লিটারেসি, তথ্যের বিশৃঙ্খলা (মিসইনফরমেশন,
ডিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা, ডিপফেকের মতো বিষয়), ডিজিটাল আচরণ, নির্বাচনের সময় দায়িত্বশীল তথ্য আদান-প্রদান এবং বাংলাদেশের সংবিধান ও নাগরিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি গতানুগতিক কোনো মুখস্তনির্ভর পরীক্ষা নয়। অলিম্পিয়াডটি সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকার, গণমাধ্যম, তথ্য, নাগরিকত্ব এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের বাস্তব জীবনের পরিস্থিতির (Real-life situations) ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। যেখানে অংশগ্রহণকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা যাচাই করা হবে।
জবি হিউম্যান রাইটস সোসাইটির সভাপতি জুনায়েদ মাসুদ বলেন, “আমাদের এই অলিম্পিয়াড আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এই আয়োজনে যারা অংশগ্রহণ করবেন, তারা সবাই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে অংশ নেবেন।
এর ফলে অংশগ্রহণকারীরা মানবাধিকার, মানবাধিকার আইন ও তার বাস্তব প্রয়োগ, নাগরিকতা ও নাগরিক দায়িত্ব, পাশাপাশি মিডিয়া সাক্ষরতা বিষয়ক প্রয়োজনীয় ও সমসাময়িক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতন, দায়িত্বশীল ও মানবাধিকারসম্মত চিন্তাধারা গড়ে তুলতে চাই।”
উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকলের জন্য ই-সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া শীর্ষ ৩ জন পারফর্মারের জন্য বিশেষ পুরস্কার, বই ও ক্রেস্ট প্রদান করা হবে।