সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি প্রতিনিধি:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) কর্তৃক বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য জারিকৃত সাম্প্রতিক নির্দেশনার একটি বিশেষ ধারার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
উক্ত নির্দেশনার প্রতি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে বৈষম্যমূলক হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আপত্তি তুলে ধরেছেন।
গত ৫ জানুয়ারি জারি করা ওই নির্দেশনায় ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার রিপোর্টে কেবলমাত্র এমবিবিএস রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করায় এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
প্রতিবাদ বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ডায়াগনস্টিক রিপোর্টে স্বাক্ষর প্রদান কোনো ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিস বা রোগ নির্ণয়মূলক সিদ্ধান্ত নয়। এটি মূলত পরীক্ষার পদ্ধতিগত যথার্থতা, মান নিয়ন্ত্রণ, বিশ্লেষণী নির্ভুলতা এবং ফলাফলের দায়ভার গ্রহণের একটি পেশাগত দায়িত্ব।
সেই দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বীকৃত একাডেমিক যোগ্যতা, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের ওপর ন্যস্ত হওয়াই যুক্তিসংগত বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, Clinical Biochemist সহ ল্যাবরেটরি-ভিত্তিক বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ যেমন Clinical বা Medical Biochemist, Histopathologist, Hematologist, Microbiologist এবং Clinical Pathologist দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাক্রম ও কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রি-অ্যানালাইটিক্যাল,
অ্যানালাইটিক্যাল ও পোস্ট-অ্যানালাইটিক্যাল ধাপে দক্ষতা অর্জন করেন। বাংলাদেশের বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা অনুযায়ী, এসব বিশেষজ্ঞ দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ পেশাগত সীমার মধ্যে পরীক্ষার রিপোর্টে স্বাক্ষর দিয়ে আসছেন, যা কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত।
শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এই নীতির স্বীকৃতি রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিকা, আইএসও ১৫১৮৯ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ল্যাবরেটরি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী পরীক্ষার রিপোর্টে স্বাক্ষরের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয় বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে,
কেবলমাত্র মেডিকেল ডিগ্রির ওপর নয়। সে কারণে উক্ত নির্দেশনাটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবাদ বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, এই নির্দেশনা কার্যকর হলে ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হবে এবং একই সঙ্গে সংবিধানস্বীকৃত পেশাগত সমতা ও ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থীভাবে একটি বৃহৎ ও দক্ষ পেশাজীবী শ্রেণিকে প্রান্তিক করে তোলার ঝুঁকি তৈরি হবে। এটি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক স্বার্থের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তারা মনে করেন।
সবশেষে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান, বিতর্কিত ধারাটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করে বিদ্যমান আইন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, পেশাগত ন্যায়বিচার ও জনস্বার্থের আলোকে বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত নীতিনির্ধারণ নিশ্চিত করা হোক।