জাতীয় নির্বাচনের অজুহাতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নির্বাচন বন্ধ করার এই সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা কখনোই মেনে নেবে না।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে ডাকসু প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
সাদিক কায়েম জানান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়েই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী এই নির্বাচন হতে দিতে চায় না বলেই হঠাৎ করে স্থগিতের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে এ ধরনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রায় চার কোটি তরুণ ভোটার ও শিক্ষার্থী সম্পৃক্ত। নির্বাচন কমিশন এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না, যাতে তরুণ সমাজের মধ্যে ইসির প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়—এমন প্রত্যাশা আমাদের। আমরা সময়মতো নির্বাচন চাই এবং সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আমাদের আশ্বাস দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে ডাকসু ভিপি বলেন, শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই তাদের দাবি ও মতামত যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারে। ছাত্র সংসদের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চায়।
আসন্ন গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে। যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, তারা মূলত অতীতের দমন-পীড়ন ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে চায়।
কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, ‘যারা ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে তারা ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিনিধিত্ব করে। তারা দেশকে পেছনে টেনে নিতে চায়। জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তারা শাপলা চত্বর, পিলখানা ট্র্যাজেডি কিংবা আলেম-ওলামা হত্যার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি চায় এবং আয়নাঘরের মতো গুম-খুনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাই দেশের স্বার্থে গণভোটে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।’