আবু তাহের, জাককানইবি
সময়ের স্রোতে আরেকটি বছর শেষ হয়ে ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে ঝরে পড়ছে অতীতের দিনগুলো। আনন্দ–বেদনা, সাফল্য–ব্যর্থতার নানা স্মৃতি সঙ্গী করে বিদায় নিচ্ছে পুরোনো বছর, আর নতুন প্রত্যাশা নিয়ে আগমনী বার্তা দিচ্ছে নতুন বছর। শীতের কুয়াশামাখা সকালের সূর্য যেন নতুন আশার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে চারপাশে। ক্যালেন্ডারের নতুন পাতার সঙ্গে সঙ্গে সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।
নতুন বছর মানে নতুন স্বপ্ন, নতুন লক্ষ্য আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়। সেই প্রত্যয়ের ছোঁয়া লেগেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও। পুরোনো বছরের ক্লান্তি ও স্থবিরতা ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যমে একাডেমিক কার্যক্রমে আরও সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা করছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের চায়ের আড্ডায় এখন আলোচনার মূল বিষয়—কেমন কাটবে নতুন বছর? কার পরিকল্পনাই বা কী?
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জায়েদ আহাম্মদ বলেন, ‘২০২৬-এর প্রথম সূর্যোদয় আমাদের হৃদয়ে নতুন উদ্যমে পথচলার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলছে। বিগত বছরের অপ্রাপ্তি আর ভুলগুলো যেনো এবার অভিজ্ঞতার পাথেয় হয়ে সাফল্যের ফুল হয়ে ফুটে ওঠে। নতুন বছরে ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়েও বড় প্রার্থনা হোক রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক শান্তি। আমি স্বপ্ন দেখি এক মানবিক ও সহনশীল সমাজের, যেখানে মানুষের পরিচয় হবে কেবল তার কর্ম ও যোগ্যতায়; পাড়ায়-মহল্লায় সুদৃঢ় হবে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন।
রাজনীতিতে প্রতিহিংসা ভুলে আসুক গঠনমূলক আলোচনার সংস্কৃতি, যাতে রাষ্ট্রযন্ত্র সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গায় পরিণত হয়। একইসাথে শিক্ষাব্যবস্থায় আসুক ইতিবাচক পরিবর্তন; জিপিএ-র পেছনে না ছুটে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেনো সৃজনশীল ও নৈতিক শিক্ষায় বলীয়ান হয়ে আগামীর সৎ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে ওঠে।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘নতুন বছর ২০২৬ আমাদের সামনে হাজির হোক অপার আশাবাদ ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে। এটি হোক এমন এক স্বপ্নময় বছর, যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থী নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তুলবে সমাজের আলোকবর্তিকা হিসেবে। আমি চাই এমন একটি সকাল,যেখানে সোনালি রোদের আলোয় শুরু হবে পড়াশোনার সুশৃঙ্খল রুটিন, আর প্রতিটি শিক্ষার্থী নতুন দক্ষতার আয়নায় নিজেকে আবিষ্কার করবে ডিজিটাল বিশ্বের আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে।
আমাদের প্রত্যাশার শিক্ষাব্যবস্থা হবে দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী। সেখানে থাকবে বাস্তবমুখী ও দক্ষতামূলক শিক্ষাক্রম, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল ক্লাসরুমের ব্যাপক সম্প্রসারণ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত গবেষণার সুযোগ এবং পর্যাপ্ত শিক্ষাবাজেটের কার্যকর বৃদ্ধি। পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য থাকবে উন্নত ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের সুব্যবস্থা, যাতে তাঁরা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারেন।
২০২৬ হোক সেই বছর—যেখানে শিক্ষা শুধু পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা হয়ে উঠবে দক্ষতা, চিন্তাশক্তি ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার শক্তিশালী মাধ্যম।’
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী সারায়েত জামান বলেন, ‘নতুন বছর নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে আমি বলেছি, নতুন বছর আমার কাছে কেবল সময়ের পরিবর্তন নয়, বরং নতুনভাবে ভাবা ও নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ। আমি চাই এই বছর হোক আত্মবিশ্বাসে ভরপুর, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত হবে দায়িত্বশীল ও সাহসী। সততা ও নৈতিকতাকে সামনে রেখে নিজের কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। নতুন বছরে নিয়মিত শেখার মাধ্যমে নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে চাই। একই সঙ্গে দেশের জন্য কিছু করার, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ইচ্ছাও নতুন বছরে আরও দৃঢ় হয়েছে। বিশেষ করে সচেতনতা, সত্যনিষ্ঠতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার কাজে নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে চাই। সময়ের সঠিক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হবে আমার অগ্রাধিকার। সব মিলিয়ে নতুন বছর হোক আত্মউন্নয়ন, দেশপ্রেম ও অগ্রগতির প্রতীক।’
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাসকেরাতুন নূর বর্না বলেন, ‘আমরা চলিব পশ্চাতে ফেলি পচা অতীত, গিরি-গুহা ছাড়ি খোলা প্রান্তরে গাহিব গীত
অতীতকে আকড়ে ধরা নয়, বরং অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণের মধ্যদিয়ে নতুন উদ্দমে পথ চলাই হোক আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
সকল একাকিত্ব ও হতাশার গ্লানি মুছে নতুন বছরের পথচলা হউক সম্ভাবনাময় এবং প্রাণচঞ্চল।
আমি চাই যেন আমাদের দেশ একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, ন্যায়ানুগ সমাজে রূপান্তরিত হয়,যেখানে আইনশৃঙ্খলা জননিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য প্রতিপালক।
এমন শিক্ষা ব্যবস্থা আশাকরি যা তরুণ প্রজন্মকে স্বনির্ভর করে তুলবে।’