রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ (জকসু) নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল ও শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা সংস্থা ‘সোচ্চার’-এর জরিপ অনুযায়ী, ভিপি, জিএপীস ও এজিএস এই গুরুত্বপূর্ণ তিন পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। তবে জরিপে অংশগ্রহণকারী বিপুল সংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থী এখনো কোনো পক্ষ বেছে না নেওয়ায় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে জল্পনা রয়েই গেছে।
গত ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টির ৬০২ জন শিক্ষার্থীর ওপর এই জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, ভিপি পদে ছাত্রশিবিরের রিয়াজুল ইসলাম ২৭.৭ শতাংশ এবং ছাত্রদলের একেএম রাকিব ২৫.১ শতাংশ শিক্ষার্থীর পছন্দের তালিকায় আছেন। জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ ও এজিএস পদে মাসুদ রানা এককভাবে এগিয়ে থাকলেও এখনো সিদ্ধান্ত নেননি এমন ভোটারের হার যথাক্রমে ৩৭.৪ শতাংশ ও ৩৫.৪ শতাংশ। বিশেষ করে ছাত্রীদের একটি বিশাল অংশ (প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি) এখনো কাউকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেননি।
অনিশ্চিত ভোটারদের তথ্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে সোচ্চার এক পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের মতে, চূড়ান্ত লড়াইয়ে ভিপি পদে শিবিরের রিয়াজ ৩ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতে পারেন। অন্যদিকে জিএস ও এজিএস পদে শিবিরের প্রার্থীরা প্রায় ১২ শতাংশ ভোটের বড় ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা রাখছেন।
জরিপটি পরিচালনার পর সোচ্চার জানায়, “শিক্ষার্থীরা এবার এমন প্রতিনিধি চাচ্ছেন যারা দলীয় লেজুড়বৃত্তির ঊর্ধ্বে উঠে আবাসন সমস্যা ও খাবারের মান উন্নয়নে কাজ করবেন। বিশেষ করে ১৭.৬ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে কোনো না কোনোভাবে নির্যাতিত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবিকে আরও জোরালো করেছে।”
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা প্রার্থীদের ব্যক্তিগত সততা, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং ক্লিন ইমেজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে মাদকাসক্তি, যৌন কেলেঙ্কারি বা ছাত্র নির্যাতনে জড়িত প্রার্থীদের সরাসরি বর্জনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভোটাররা। জরিপে দেখা গেছে, ৪৮.৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন দেশের অন্যান্য ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব জকসু নির্বাচনেও পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, এই জরিপে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মতামতও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত ‘অনিশ্চিত’ ভোটাররাই জকসু নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।