শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

বিজয় দিবসে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকার ঘৃণাস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ

আবু তাহের, জাককানইবি বিজয় দিবসে একাত্তরের ঘাতক, রাজাকার, আল-বদরদের ছবি দিয়ে নির্মিত ঘৃণাস্তম্ভে উন্মুক্ত জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ভাস্কর্যের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, ঘৃণাস্তম্ভটি কাদের মোল্লা, নিজামী, গোলাম আজম, এ কে এ নিয়াজী, রাও ফরমান আলীসহ […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩:৫৯

আবু তাহের, জাককানইবি

বিজয় দিবসে একাত্তরের ঘাতক, রাজাকার, আল-বদরদের ছবি দিয়ে নির্মিত ঘৃণাস্তম্ভে উন্মুক্ত জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ভাস্কর্যের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘৃণাস্তম্ভটি কাদের মোল্লা, নিজামী, গোলাম আজম, এ কে এ নিয়াজী, রাও ফরমান আলীসহ একাত্তরের আল-বদর, রাজাকার বাহিনীর সঙ্গে জড়িত বিভিন্নজনের প্রতীকী ছবি ও পোস্টার দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

এসময় জুতা নিক্ষেপে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদেরও অংশ নিতে দেখা যায়। ছোট থেকে বড় সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। জুতা নিক্ষেপ করলেই উপহারস্বরূপ একটি করে চকলেট দেওয়া হয় অংশগ্রহণকারীদের।

ফোকলোর বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য হৃদয় বলেন, মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের দ্বারা আমার দেশের মানুষ নিহত হয়েছে। আজ আমরা দেখছি, এই রাজাকাররা আবার ডানা মেলতে শুরু করেছে। তারা আমাদের পাকিস্তানে ফিরিয়ে নিতে চায়, এই দেশকে গোলাম আজমের বাংলা বানাতে চায়। কিন্তু আমরা বলতে চাই, এই দেশ আমাদের, আর এখানে কোনো রাজাকারের ঠাঁই হবে না।

আয়োজনে অংশ নেওয়া একজন দর্শনার্থী বলেন, এই রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতে শুধু জুতা নয়, আরও বড় কিছু মারা উচিত। আর কিছু না পেয়ে জুতাই মারলাম।

ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন সরকার বলেন, আজকে জুতা নিক্ষেপের মাধ্যমে আমার ভেতরের ঘৃণাকে প্রকাশ করেছি। শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজনকে সাধুবাদ জানাই। আর যারা নব্য রাজাকার হতে চাচ্ছে, আজকের আয়োজন থেকে তারা যেন শিক্ষা নেয়—সেই আহ্বান রইল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রাতুল বলেন, একাত্তরে এই রাজাকাররা এবং এদের সহায়তায় পাকিস্তানি হানাদাররা আমাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে, হত্যা করেছে, ধর্ষণ করেছে মা-বোনদের। তাই আজকের এই মহান বিজয়ের দিনে সেসব ঘাতকদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশে আজকের এই কর্মসূচি।

শিক্ষাঙ্গন

ইসকনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় যবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে হত্যার হুমকি

যবিপ্রবি প্রতিনিধি ইসকনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) তাহসিন আরাফাত নামের এক শিক্ষার্থীকে সোশাল মিডিয়ায় হত্যার হুমকি দিয়েছে ভারতীয় এক নাগরিক। ভুক্তভোগী তাহসিন আরাফাত যবিপ্রবির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) জুম’আর নামজের পরে যবিপ্রবি ইসলামিক কালচারাল সোসাইটি এবং যবিপ্রবি ইসলামিক নলেজ সিকার্স সোসাইটির যৌথ […]

ইসকনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় যবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে হত্যার হুমকি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৮ অক্টোবর ২০২৫, ২৩:৪৯

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

ইসকনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) তাহসিন আরাফাত নামের এক শিক্ষার্থীকে সোশাল মিডিয়ায় হত্যার হুমকি দিয়েছে ভারতীয় এক নাগরিক। ভুক্তভোগী তাহসিন আরাফাত যবিপ্রবির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) জুম’আর নামজের পরে যবিপ্রবি ইসলামিক কালচারাল সোসাইটি এবং যবিপ্রবি ইসলামিক নলেজ সিকার্স সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল করে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিলটি পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে যবিপ্রবির প্রসাশনিক ভবনের সামনে শেষ হয়। সেখানে ইসকনের বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদান করে তাহসিন আরাফাত। 

আরাফাতের সেই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেলে তাকে পর দিন (২৬ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক মেসেঞ্জারে অশ্রাব্য ভাষায় গালিসহ হত্যার হুমকি দেয় এক ভারতীয় নাগরিক। সেই ভারতীয় নাগরিক এর ফেসবুক আইডির নাম দিপংকর বর্মন।

তাহসিন আরাফাত জানায়, উক্ত ফেসবুক আইডিটি সক্রিয় এবং এর নিজস্ব মালিক দিপংকর বর্মান। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সে শিলিগুরির বাসিন্দা। ফেসবুক আইডি খোলা হয়েছে ২০২১ সালের মার্চ মাসে এবং এতে ফলোয়ার সংখ্যা পাঁচ হাজার।

অধিক সত্যতা যাচাই এর জন্য ‘মাথাভাঙা শহর’ ফেসবুক গ্রুপে ২০২৪ সালের ২ আগস্ট দেওয়া এক পোস্টে তার মুঠোফোন নম্বর খুজে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সেই নম্বর ‘টুকলার’ অ্যাপের মাধ্যমে অনুসন্ধান করলে দেখা যায় সেই নম্বর রেজিস্টারকৃত মালিক ‘ছি সিতাল কে দিপংকর বার্মান ২২’ এবং এটির অবস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আরোও জানা যায় সে ভারতের এক ছাত্র সংগঠন ‘এবিভিপি’ সংগঠনের স্টেইট সেক্রেটারি। 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে যবিপ্রবির শিক্ষার্থী তাহসিন আরাফাত সোমবার (২৭ অক্টোবর) যশোরের কোতয়ালী মডেল থানায় অফিসার ইন চার্জ বরাবর একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন।

সাধারণ ডায়েরিতে (জি.ডি নাম্বার ২৪১২) আরাফাত উল্লেখ করেন, গত ২৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে শুক্রবার বাদ জুমা আমরা যবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেশে ইসকন সংগঠনের সদস্য কর্তৃক মুসলিম মেয়ে ধর্ষণ, ইমাম গুম ইত্যাদির প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে থাকি।

মিছিল শেষে আমরা কয়েকজন ক্যামেরার সামনে বাংলাদেশে ইসকনের এসব অপরাধমূলক কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরে প্রতিবাদমূলক বক্তব্য দিয়ে থাকি।

তার মধ্যে আমিও কিছুক্ষণ বক্তব্য দিয়েছিলাম। আমার বক্তব্যের অংশটুকু নিয়ে আমি ৩ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ ফেইসবুকে আপলোড করি, যেটি এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৯ শত শেয়ার হয়েছে, এবং ভিডিওটি দেখেছেন ৯৮ হাজার জন মানুষ। এরপর গত ২৬শে অক্টোবর সকাল ৮ টা ১৮ মিনিটে আমার ফেইসবুক মেসেঞ্জারে ‘Dipankar Barman’ (@dipankar.barman.884411) নামের একটি আইডি থেকে আমাকে হত্যা, আমার পরিবারের মহিলাকে ধর্ষণের হুমকি দেয়,

এবং এই আইডি থেকে আল্লাহর রাসূল (সাঃ), আম্মাজান আয়িশা (রাঃ)-কে নিয়ে অত্যন্ত বাজে ও নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে, এবং ইসলাম বিষয়েও প্রচুর গালিগালাজ করতে থাকে। ঐ ব্যাক্তি বলে সে ভারতীয়, বর্তমানে খুলনাতে অবস্থান করছে সেইসাথে আমাকে খুলনাতে যেতে বলে, এবং সেখানে আমাকে ‘বলি’ দেওয়ার হুমকি দেয়।

এই আইডি ঘুরে আমার নকল আইডি মনে হয় নি বরং পুরনো, একটিভ ও আসল আইডি মনে হয়েছে। সে তার প্রোফাইলে নিয়মিতই মুসলিমবিরোধী পোস্ট দেয় এবং নরেন্দ্র মোদির কথা শেয়ার করে। এসব হতে আমার মনে হয় এই লোক সহ কেউ বা কারা আমাকে অনুসরণ করছে। আমি আমার নিরাপত্তার বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এমতাবস্থায় উপরোক্ত বিষয়টি বিবেচনা করে ভবিষ্যতের জন্য সাধারণ ডাইরীভূক্ত করে রাখি।

শিক্ষাঙ্গন

জবিতে উদীচীর কক্ষে গাজার আসর, নিষেধ করায় সাংবাদিককে হুমকি

রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) উদীচীর কক্ষে নিয়মিত গাজাসেবনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কিছু শিক্ষার্থীকে গাজা সেবনরত অবস্থায় ধরে ফললে এবং তা করতে নিষেধ করলে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেন নাট্যকলা বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোস্তাকিনসহ সৌমিক বোস, রুদ্র ও তার সহযোগীরা। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে অবকাশ ভবনের […]

জবিতে উদীচীর কক্ষে গাজার আসর, নিষেধ করায় সাংবাদিককে হুমকি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৫ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩১

রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) উদীচীর কক্ষে নিয়মিত গাজাসেবনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কিছু শিক্ষার্থীকে গাজা সেবনরত অবস্থায় ধরে ফললে এবং তা করতে নিষেধ করলে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেন নাট্যকলা বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোস্তাকিনসহ সৌমিক বোস, রুদ্র ও তার সহযোগীরা।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে অবকাশ ভবনের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অবকাশ ভবনের চতুর্থ তলায় প্রেসক্লাবের সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলছিল। এ সময় উদীচীর কক্ষ থেকে তীব্র গাজার গন্ধ পাওয়া গেলে কয়েকজন সাংবাদিক গন্ধের উৎস জানতে সেখানে যান। তারা জানতে চান, উদীচীর কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত আছেন কি না।

থাকলে তার সাথে কথা বলতে চান। তখন নাট্যকলা বিভাগের ১৬ ব্যাচের শোভন নামের এক শিক্ষার্থী নিজেকে দায়িত্বশীল বলে জানালে সাংবাদিকরা তাকে জানান এখান থেকে তীব্র গাজার গন্ধ আসছে। তারা কাউকে গাজা সেবন করতে দেখেছেন কিনা।

তখন নাট্যকলা বিভাগের শোভন নামের ওই শিক্ষার্থী বলেন অনেকেই সেখানে যাওয়া আসা করছে। কে গাজা সেবন করেছে তাকে তারা দেখেন নি। পরে সাংবাদিকরা উদিচির জানালার পাশে সেবন করা গাজার ছাই দেখতে পান। সেখান থেকে তীব্র গাজার গন্ধও ভেসে আসছিল। পরে সাংবাদিকরা বলেন, এখান থেকেই গাজার গন্ধ আসছিল।

এখনও আছে। আপনাদের মধ্যে হয়তো কেউ হতে পারে। এগুলো এখানে করা ঠিক না। গাজার গন্ধে পাশের রুমগুলোতেও থাকা যায়না। এই কথা বলে সাংবাদিকরা সেখান থেকে চলে আসতে ধরল গাজাসেবনের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “এখানে অনেকেই আসে, তাদের মধ্যে কেউ হতে পারে; আমরা কিছু জানি না।”

তবে সাংবাদিকরা জানান, ঘটনার সময় বাইরে কেউ প্রবেশ বা বের হননি। গন্ধের কারণে পাশের কক্ষে থাকা অসুবিধা হচ্ছে, এ কথা জানিয়ে তারা বের হয়ে আসার চেষ্টা করলে উদীচীর কক্ষের ভিতর থেকে নাট্যকলা বিভাগের ১৬ ব্যাচের মনন মোস্তাকিন নামের এক শিক্ষার্থী তেড়ে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয়। তখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, এ সময় উদীচীর কক্ষ থেকে নাট্যকলা বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোস্তাকিন এসে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সাংবাদিকরা তাকে উদীচীর দায়িত্বশীল কিনা জানতে চাইলে তিনি উল্টো চিৎকার করে বলেন, “আমিই উদিচির দায়িত্বশীল। কি করার আছে কর।” তখন সাংবাদিকরা তাকে বলেন, “এখান থেকে গাজার গন্ধ আসছিল, আশেপাশে গন্ধে থাকা যাচ্ছেনা। আপনাদের প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারির সাথে এবিষয়ে কথা বলবো।”

তখন মোস্তাকিন সবার উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে এসে চিৎকার করে বলে, “আমি গাজা খাই। ভিসি ভবনের সামনে চল, মাইকিং করে সবাইকে বলবো আমি গাজা খাই।” এরপর তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আরো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে তাঁদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়। এ সময় কক্ষে উপস্থিত দুই নারী শিক্ষার্থীও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অশোভন অঙ্গভঙ্গি করেন।

এছাড়াও নিজেদের উদীচীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তাদের মধ্যে একজন আলোচিত বাংলাদেশ পত্রিকার সাংবাদিক রাকিবুল ইসলামের ছবি তুলে নিয়ে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এবং নাট্যকলা ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী সৌমিক বোসসহ উপস্থিত রুদ্র, মোস্তাকিন ও আরও কয়েকজন উপস্থিত একাধিক সাংবাদিককে হুমকি প্রদান করেন।

পরে উদিচীর বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমরিন জাহান অমি এসে বলেন, “এমন ঘটনা আগেও অনেক ঘটেছে। অনেককেই আমিও সামনের জায়গাটায় গাজাসেবন সহ অনৈতিক কাজ করতে দেখেছি। আমি নিষেধও করেছি।

উদীচীর আগের কমিটির অনেকেও অফিসে বসেই এসব করতেন। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর উদীচীর সদস্যদেরও বারবার এসব বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। আমরাও এবিষয়ে অভিযোগ দেবো। এর আগেও আমরা প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দিয়েছিলাম।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “আমি ঘটনাটি শুনেছি। একজন সহকারী প্রক্টরকে সেখানে পাঠিয়েছিলাম। ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শিক্ষাঙ্গন

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার […]

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:০৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আলতাফ হোসেন শরিফ ওসমান হাদিকে কটূক্তিমূলকভাবে ‘জংলি’ আখ্যা দেন।

ওই পোস্টে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে হাদির নাম জড়িয়ে মন্তব্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের মতে চরম অবমাননাকর ও উসকানিমূলক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—‘হাদিকে যিনি জংলি বলেন, তিনি নিজেই জঞ্জাল’, ‘আপনি জংলি কাকে বলেন? জুলাই যোদ্ধাকে?’, ‘হাদি ভাইয়ের মতো আমরা সবাই জংলি, এই জঙ্গলে আমরা এমন শিক্ষক চাই না’—ইত্যাদি।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অপতৎপরতা বন্ধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা,

ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদির নামে হল বা স্থাপনার নামকরণ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন বিপ্লবীকে ‘জংলি’ বলা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং দেশের জন্য আত্মত্যাগ ও জাতির সম্মানকে অপমান করার শামিল। তারা দাবি করেন, যিনি জাতির বিবেক গঠনের দায়িত্বে আছেন, তাঁর কাছ থেকে এমন ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ক্যাম্পাসে আবারও ফ্যাসিবাদী মানসিকতা মাথাচাড়া দিতে পারে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন বর্তমানে স্কটল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।