রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের সম্পাদক পদের একজনসহ মোট তিনজনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এমন সিদ্ধান্তের কোনো সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্যানেলটি। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও তারা প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুর ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই অভিযোগ ও দাবি জানান প্যানেলটির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্যানেলটি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা বলেন, “নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের একজন সম্পাদক পদপ্রার্থী এবং দুইজন কার্যনির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে। শুধু তাদের প্যানেলই নয়, অন্যান্য প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনেকের প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়েছে। তবে কী কারণে এসব প্রার্থিতা বাতিল করা হলো, সে বিষয়ে কমিশন এখন পর্যন্ত স্বচ্ছ কোনো ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেনি।”
তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের সনদের নামের পাশাপাশি প্রচলিত বা ডাকনাম ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও জকসু কমিশন এ বিষয়ে অনীহা দেখাচ্ছে। ব্যালটে প্রচলিত নাম ব্যবহার করতে না দিলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে। একে একটি বিশেষ পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন তারা।
নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমরা জকসু নির্বাচন কমিশনের নিকট স্পষ্টভাবে দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে বাতিলকৃত প্রার্থিতার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা কারণ ও যুক্তি জনসমক্ষে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করতে হবে। কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত বা প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা জকসুর মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।”
এছাড়াও তিনি কমিশনকে সকল প্রার্থী ও প্যানেলের প্রতি সমান ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিশ্চিত করারসহ বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো সংশোধন করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের পথে ফিরে আসার জোর দাবি জানান।
এর আগে, গত ১১ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচন কমিশন এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। ওই বিজ্ঞপ্তির ১২ নং ক্রম অনুযায়ী জানানো হয়, প্রাথমিক তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় এবং সেগুলোর তদন্ত চলমান থাকায় চূড়ান্ত তালিকা থেকে তাদের নাম আপাতত বাদ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের প্রার্থীতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।