রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মহোৎসব ও কালো টাকার ছড়াছড়ি চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী ও জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। ফয়সাল মুরাদ দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বড় প্যানেল যাদের একটি নিজেদের দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এবং অন্যটি সবচেয়ে ধনী ছাত্রসংগঠন দাবি করে তারা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ঘোষণা দিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। অথচ নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জকসু নির্বাচনকে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের স্তরে নামিয়ে আনা হয়েছে। ভোটারদের প্রভাবিত করতে বাস ও ট্রাকে করে রিসোর্টে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, দেওয়া হচ্ছে নানা উপঢৌকন। বিশেষ করে হলের শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করতে টাকার খেলা চলছে। কেউ সারাদিন স্টারে খাওয়াচ্ছে, কেউবা রিসোর্টে নিয়ে আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা করছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারি বা জুলাই থেকে কার্যকর হবে এমন একটি ‘সম্পূরক বৃত্তি’র প্রজ্ঞাপন নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে দেওয়াটা সন্দেহজনক। প্রশাসনের ভেতরের একটি অংশ নির্দিষ্ট প্যানেলকে সুবিধা দিতেই এমনটা করছে বলে মনে হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফয়সাল মুরাদ বলেন, “জকসু নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার মঞ্চ হিসেবে আমরা দেখতে চাই না। এখানে মনে হচ্ছে কালো টাকার ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে। কেউ স্টারে খাওয়াচ্ছে, কেউ বাসে করে রিসোর্টে নিয়ে যাচ্ছে। এটা কোনো ছাত্রসংগঠনের আদর্শ হতে পারে না। আমরা নির্বাচন করছি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও আত্মমর্যাদার জন্য, টাকার খেলার জন্য নয়।”
নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি নখদন্তহীনভাবে তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে না পারে, তবে পাতানো ও টাকার খেলার নির্বাচনের প্রয়োজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেই।”
ফয়সাল মুরাদ দাবি জানান, অবিলম্বে আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে উত্তর পাড়া-দক্ষিণ পাড়ার প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই প্রহসন মেনে নেবে না।
প্রসঙ্গত, আসন্ন জকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসে প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে থাকলেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র ও ছোট প্যানেলগুলো অভিযোগ করছে যে, ক্ষমতাসীন ও ধনী ছাত্রসংগঠনগুলো টাকার প্রভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোট কেনার চেষ্টা করছে।