রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে আপিল শুনানির পর ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে বাতিলের সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিলের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা।
৮ ডিসেম্বর (সোমবার) ডোপটেস্টের জন্য তালিকা ও সময়সূচি সংবলিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নাম না থাকার বিষয়টি আবারো আলোচনায় উঠে আসে।
মূলত গত ৩০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আপিল শুনানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়। এতে ১৫ জন আপিলকারীর মধ্যে মাত্র ৬ জনের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ৯ জনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।
এরপর ভিসির সাথে বিভিন্ন প্যানেল ও প্রার্থীরা যোগাযোগ করে। তবে ডোপ টেস্টের তালিকায় নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুনভাবে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে যাদের আপিল নামঞ্জুর হয়েছে তারা হলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শাহরিয়ার আদিব, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মো. মাহবুব আলম খান, বাংলা বিভাগের মো. সৌরভ আহমেদ এবং ইংরেজি বিভাগের মোহাম্মদ কায়েস।
এছাড়া অর্থনীতি বিভাগের মো. সোহান মোল্লা, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের মো. রাসেল, পরিসংখ্যান বিভাগের এ. এন. এম. আকরামুষজামান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল্লাহ সালেহ চৌধুরী এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের লিখন এর আপিলও নামঞ্জুর করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তের পরপরই ‘মাওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী ইভান তাহসিব ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন।
তিনি জানান, তাদের প্যানেলের কার্যনির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী শাহরিয়ার আদিব সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হলেও ফরম পূরণের সময় অনুষদের নামের জায়গায় ইংরেজি বানানে সামান্য ওলট-পালট হয়েছিল। এই তুচ্ছ কারণে প্রার্থিতা বাতিল করা এবং পরবর্তীতে আপিলও নামঞ্জুর করাকে অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তারা।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আপিল করে সংশোধন করার পরও কেন এটা গ্রহণ করা হবে না, তা বোধগম্য নয়। আমরা ভিসি স্যারের অফিসে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছি, কিন্তু প্রশাসন বা কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো মাথাব্যথা দেখছি না।”
অন্যদিকে ভুক্তভোগী প্রার্থী শাহরিয়ার আদিব বলেন, “নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী মনোনয়ন ফরম পূরণে আমাদের কিছু ভুল হয়েছিল। তবে আপত্তি নিষ্পত্তির সময় আমরা নিয়ম মেনে আপিল করেছিলাম। সংশোধনের সুযোগ থাকার পরও কেন আমাদের আপিল গ্রাহ্য করা হলো না এবং কেন আমাদের বাদ দেওয়া হলো তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা কমিশন দেয়নি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, “তাদের ফর্মে অনেক ভুল তথ্য ও ত্রুটি ছিল।
কারো স্বাক্ষর ছিল না, আবার কারো পদের নাম উল্লেখ ছিল না। আপিলগুলো উপাচার্য মহোদয় যাচাই-বাছাই করেছেন। তিনি ৬টি অনুমোদন করেছেন এবং বাকি ৯টি নামঞ্জুর করেছেন। এখানে কমিশনের আলাদা কোনো হাত নেই।”
উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়নের কারণে ১৭ জনের নাম বাদ পড়েছিল। এর প্রেক্ষিতে ১৫ জন প্রার্থীতা ফিরে পেতে আপিল করেন।