নীলফামারীর ডোমার সরকারি কলেজে ভর্তি ফরম বিক্রির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং নিয়মিত ক্লাস না করার অভিযোগ উঠেছে কলেজের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ রাশেদুল হকের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয় এবং ফরম প্রদানে গড়িমসি করা হয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামিম ইসলাম, বাদল রায়, মাসুদ রানাসহ অন্যরা জানান, ভর্তি ফরম বাবদ একশ টাকা নেওয়া হয়েছে যা নির্ধারিত নয়।
অভিযোগ আরও রয়েছে, সহকারী অধ্যাপক মোঃ রাশেদুল হক নিয়মিত ক্লাস না করে বিনা অনুমতিতে কলেজ ত্যাগ করেন। একাধিকবার সরেজমিনে গিয়ে তাকে কলেজে পাওয়া যায়নি, ফলে ক্লাস ব্যাহত হয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কলেজের অন্যান্য শিক্ষকরা বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছেন।
সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষ প্রফেসর নাসিমা আক্তার বানু বলেন, কলেজের ব্যাংক হিসাব থেকে মোঃ রাশেদুল হক ৪১ দিন ধরে বেআইনিভাবে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। তিনি আরও বলেন,উনি কোনো অধ্যক্ষকেই ডোমার কলেজে থাকতে দেন না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ রাশেদুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়ে ছুটিতে আছেন। তবে ছুটির কোনো প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি। অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর নূর মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভর্তির নির্ধারিত ফি বোর্ডের ওয়েবসাইটে উল্লেখ থাকে। কেউ অতিরিক্ত টাকা নিলে এবং ক্লাস ফাঁকি দিলে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।