শেকৃবি প্রতিনিধি
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) সায়েন্স ক্লাবের উদ্যোগে “থিসিস রাইটিং, রিসার্চ ডিজাইন ও ডাটা অ্যানালাইসিস” শীর্ষক দুইদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। ২১ ও ২২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে গবেষণা পরিকল্পনা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং থিসিস রাইটিংয়ের কৌশল নিয়ে হাতে-কলমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ‘ডে পার্টিসিপ্যান্ট’ হিসেবে ২ জন এবং ‘অ্যাক্টিভ পার্টিসিপ্যান্ট’ হিসেবে ২ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের গবেষণার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি ও একাডেমিক দক্ষতা বৃদ্ধিই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
ক্লাবের মডারেটর মো. মাসুদুল হাসানসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রপরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক ড. মো. আশাবুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আরফান আলী। তিনজনই শিক্ষার্থীদের গবেষণা দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কোর্স ইন্সট্রাক্টর হিসেবে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন অধ্যাপক ড. মির্জা হাসানুজ্জামান, মীর মোহাম্মদ আলী ও তনুশ্রী হালদার। প্রশিক্ষণের শেষে তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, “শেকৃবি সায়েন্স ক্লাব একটি চমৎকার আয়োজন করেছে। আপনাদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে গবেষণার প্রতি আপনাদের আগ্রহ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, যা ভবিষ্যতে আপনাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সমৃদ্ধ করতে পারব।”
ড. মো. আশাবুল হক বলেন, “হাসানুজ্জামান স্যার দীর্ঘদিন ধরে গবেষণায় যুক্ত, তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষক। তাঁর দক্ষতায় শিক্ষার্থীরা যে উপকৃত হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”
প্রক্টর ড. মো. আরফান আলী বলেন, “এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করতে পারে যে ক্লাব, তাদের কৃতিত্ব অবশ্যই প্রাপ্য। মির্জা হাসান একজন আন্তর্জাতিকমানের বিজ্ঞানী তাকে ট্রেইনার হিসেবে পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বড় পাওয়া। মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য এমন কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
অধ্যাপক ড. মির্জা হাসানুজ্জামান বলেন, “শিক্ষার্থীদের সাথে দুইদিনের এই ট্রেনিংয়ে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। সবাই নিষ্ঠার সঙ্গে অংশ নিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন—যা তাদের আগ্রহ ও মনোযোগের প্রমাণ। আমার আশা, এই প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর আর কেউ ডাটা অ্যানালাইসিসের জন্য বাইরে যাবে না; নিজেরাই সব করতে সক্ষম হবে।”