আবু তাহের, জাককানইবি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি হওয়া সকল নিয়োগে ‘জামায়াতপন্থীদের একচেটিয়া’ নিয়োগের অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের কক্ষে উচ্চবাচ্যের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) জ্যেষ্ঠতার নীতিমালা বিষয়ক কমিটি পুনর্গঠন এবং কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা, নিজেই অভিযুক্ত থেকে ‘প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি’ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির দায়িত্বে থাকা উপ-রেজিস্ট্রার আমিনুল ইসলামের অপসারণসহ নানান দাবি নিয়ে উপাচার্যের নিকট দেখা করতে যান বিএনপিপন্থী সাদা দলের কর্মকর্তারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা ফরহাদ হোসাইন।
প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, কর্মকর্তা ও সাবেক ছাত্রদল নেতা উপাচার্যের কাছে দাবিসমূহ উত্থাপন এবং কথোপকথন চলাকালীন উচ্চস্বরে বাক্য বিনিময় করেন।
এ বিষয়ে উপাচার্য দপ্তরে কর্মরত প্রিন্সিপাল ডেমোনস্ট্রেটর (সফটওয়্যার) প্রকৌশলী মো. আলমগীর কবির বলেন, “আওয়ামী আমলে আমরা অনেকেই মিথ্যা হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার হয়েছি। জ্যেষ্ঠতার নীতিমালা বিষয়ক কমিটির মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধান চাইতে স্যারের সাথে দেখা করি। একই সঙ্গে একজন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব রাখায় আমরা তার অপসারণও চাই।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা বলেন, সেখানে আমরা প্রায় ২০ জনের অধিক কর্মকর্তা ছিলাম। সবাই দাবিগুলোর পক্ষে নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করেছে। একারণে একসাথে কথা বলায় কিছুটা হট্টগোল তৈরী হয়।
এ বিষয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা ফরহাদ হোসাইন বলেন, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগগুলোতে সকল জামায়াতপন্থী প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ৫ আগস্টের পরে আমরা এমন বাংলাদেশ চাইনি। এ বিষয়ে স্যারের সাথে কথা বলতে গিয়েছিলাম। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটিতে এখনো আওয়ামীপন্থী ও বিতর্কিতদের রাখা হচ্ছে। এইসব বিষয়ে আপত্তি জানাতে গিয়েছিলাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কর্মকর্তারা তাদের কিছু দাবি নিয়ে এসেছিলো আমি সেগুলো শুনেছি, নিজের বক্তব্য জানিয়েছি। একজন অভিযোগ করেছে আমি একতরফাভাবে নিয়োগ দিচ্ছি৷ মূলত প্রত্যেকটি বোর্ডে কয়েকজন সদস্য থাকেন, এখানে আমার একার কিছু করার সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত এমন কোনো নিয়োগ নেই যেখানে বোর্ডের কারোর দ্বিমত ছিলো।