আতিকুর রহমান, রাবি প্রতিনিধি
‘ওয়ার্ল্ড অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল অ্যাওয়ারনেস উইক’ (১৮–২৪ নভেম্বর) উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সচেতনতা কর্মসূচি পালন করেছে আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজি স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার অব ইউনিভার্সিটি অব রাজশাহী (এএসএমআরইউ)।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) ক্যাম্পাসে এক বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের দুই সম্মানিত উপদেষ্টা—প্রফেসর ড. ইমতিয়াজ হাসান, চেয়ারম্যান, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ এবং প্রফেসর ড. ফজলুল হক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। র্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর)–এর ঝুঁকি ও অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বিষয়ে সচেতনতা লিফলেট বিতরণ করা হয়।
বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স দিনদিনই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিভিন্ন গবেষণায় জানা গেছে, ভুলভাবে কিংবা চিকিৎসা নির্দেশনা ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে সাধারণ সংক্রমণও জটিল আকার ধারণ করছে।
দেশের বাজারে বহুল ব্যবহৃত অ্যামোক্সিসিলিন, সেফিক্সিম, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও মেট্রোনিডাজল অনেক ক্ষেত্রেই আগের মতো কার্যকারিতা দেখাতে পারছে না—কারণ ব্যাকটেরিয়া এসব ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করেছে।
অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার এখন বিশ্বব্যাপী এক নীরব সংকটে রূপ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বর্তমানে বৈশ্বিক শীর্ষ ১০ স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি। প্রতি বছর প্রায় ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এএমআর–জনিত জটিলতায়।
এ অবস্থায় এএসএমআরইউ আয়োজিত এ ধরনের সচেতনতা কার্যক্রম জনসাধারণকে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে এবং ভবিষ্যতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।