রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে নির্বাহী সদস্য পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মনজুরুল ইসলাম।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) শহীদ সাজিদ ভবনে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। মনজুরুল ইসলাম সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর নিজের অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “জকসু হোক জবিয়ানদের স্বপ্নের ক্যাম্পাস বিনির্মাণের এবং অধিকার বাস্তবায়নের বাতিঘর। আর যেন কোনো প্রিয় ভাই–বোন কিংবা পিতৃতুল্য শিক্ষককে অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমে রক্তাক্ত হতে না হয়। ‘হলবিহীন ক্যাম্পাস’ ট্যাগ থেকে মুক্ত হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হোক স্বপ্ন ও আস্থার নির্ভরযোগ্য স্থান।”
তিনি জানান, নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেবেন।
মনজুরুল ইসলাম বলেন, প্রথম কাজ হিসেবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ডিং ও বিশ্ব র্যাঙ্কিং উন্নয়নে কাজ করতে চান। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ব র্যাংকিংয়ের টপ ৫০০–এর মধ্যে নিয়ে আসাকে লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করব। গবেষণার সুযোগ–সুবিধা, উন্নতমানের ল্যাব, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গবেষণায় ভর্তুকি বাড়িয়েই গবেষণানির্ভর একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে চাই।”
এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের দুটি বড় সমস্যা আবাসন সংকট ও ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান নিয়ে তাঁর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা না থাকাকে ‘চরম অবহেলা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের হল নিশ্চিতে তিনি জকসুকে শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে চান।
মনজুরুল ইসলাম আরও বলেন, “দুই দশক পেরিয়ে গেলেও হলে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়নি। আমাদের ভাই–বোন ও শিক্ষকদের বারবার আন্দোলন করতে হয়েছে, রক্ত দিতে হয়েছে, তবুও সমাধান আসেনি। একবিংশ শতাব্দীতেও শিক্ষার্থীদের হলবিহীন জীবনযাপন করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই শিক্ষার্থীদের এই মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের জন্য জকসু মঞ্চ থেকেই সর্বোচ্চ জোরালো ভূমিকা রাখতে চাই।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত হলে জবিয়ানদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, একাডেমিক সংকট এবং ক্যাম্পাস–সংক্রান্ত নানামুখী ইস্যুতে তিনি “সাহসী ও প্রগতিশীল কণ্ঠস্বর” হয়ে কাজ করে যেতে পারবেন।