শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

দলের বাইরে থেকে ভিপি ও জিএস প্রার্থী দেওয়ার পথে ছাত্রদল! তৃণমূলে অসন্তোষ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দীর্ঘ ৩৮ বছর পর হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর যা প্রথম। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন ঘিরে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে রাজনৈতিক জোট ও পদবণ্টনের হিসাব-নিকাশ। ছাত্রদলের সম্ভাব্য প্যানেলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। যা ক্যাম্পাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রতিনিধি ডেস্ক

১১ নভেম্বর ২০২৫, ২২:১৩

রোকুনুজ্জামান, জবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দীর্ঘ ৩৮ বছর পর হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর যা প্রথম। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন ঘিরে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে রাজনৈতিক জোট ও পদবণ্টনের হিসাব-নিকাশ। ছাত্রদলের সম্ভাব্য প্যানেলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। যা ক্যাম্পাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সংগঠনটির অনেক তৃণমূল নেতাকর্মী অভিযোগ করছেন, নিজেদের দীর্ঘদিনের সক্রিয় কর্মীদের বাদ দিয়ে ছাত্রদলের বাইরের প্রার্থী দিয়ে প্যানেল সাজানো হচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ছাত্রদলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একক শক্তিকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে একটি মহল জোরালো ভাবে কাজ করছে। এই সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের চাপ রয়েছে বলেও অভিযোগ করছেন তাঁরা।

ছাত্রদলের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদল জকসু নির্বাচনে যে প্যানেল ঘোষণা করতে যাচ্ছে যেখানে শীর্ষ দুইটি পদ ভিপি এবং জিএসসহ সম্পাদকীয় এবং সদস্য পদে আরও ৮ পদসহ মোট ১০টি পদেই ছাত্রদলের বাইরের প্রার্থীদের দিয়ে প্যানেল ঘোষণা হতে পারে। এরমধ্যে ছাত্র অধিকার পরিষদ ও অন্যান্য সংগঠনের কয়েকজন নেতাকে এই প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এর বাইরে দুয়েকজন পরিচিত মুখ সাধারণ শিক্ষার্থীও থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। এতে করে ছাত্রদলের দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা নিজেদের অবমূল্যায়িত মনে করছেন।

তারা বলছেন, বহু বছর ধরে তারা সংগঠনের পতাকা বহন করে আন্দোলন করেছেন নির্যাতন সহ্য করেছেন। অথচ এখন বাইরের মানুষ এসে নেতৃত্বের আসনে বসবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না বলেও অভিযোগ তাদের।

ছাত্রদল ও অন্যান্য সূত্রমতে, ছাত্রদল তাদের প্যানেলে ২১টি পদের মধ্যে প্রায় ১০টি পদ বাইরের সংগঠন বা অরাজনৈতিক প্রার্থীদের দিতে প্রস্তুত। এর মধ্যে ছাত্র অধিকার পরিষদের কাছে যেতে পারে ভিপি পদসহ ৬টি পদ, এখানে ভিপি পদে ছাত্র অধিকার পরিষদ জবি শাখার সভাপতি একেএম রাকিব, জিএস পদে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও খাদিজাতুল কুবরাকে, যিনি আওয়ামী লীগের সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাভোগ করেছিলেন। এজিএস পদে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতিকুর রহমান তানজিলের নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানা গেছে। ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এমন হলে শীর্ষ তিন পদের মধ্যে এক এজিএস ছাড়া ভিপি ও জিএস শীর্ষ দুই পদেই ছাত্রদলের বাইরের প্রার্থী হবেন।

এদিকে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছেন, ছাত্রদলের প্যানেল গঠনের সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক সিন্ডিকেট প্রভাব ফেলছে। অনেকে বলছেন, ছাত্রদলের জবি শাখার ওপর একটি বিশেষ মহল চাপ প্রয়োগ করছে যাতে যৌথ প্যানেলে ছাত্রদলের বাইরের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এতে স্থানীয় নেতারা রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান হারানোর আশঙ্কা করছেন। নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একক শক্তিকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে একটি মহল জোরালো ভাবে কাজ করছে। এই সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের চাপ রয়েছে বলেও অভিযোগ করছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাখা ছাত্রদলের এক যুগ্ম আহবায়ক বলেন, ছাত্রদল সবসময় জবিতে শক্ত অবস্থানে ছিল। এখন যদি বাইরের প্রার্থীদের দিয়ে প্যানেল গঠন হয়, তাহলে আমাদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মূল্য শূন্যে নেমে আসবে। আমরা চাই, জবি ছাত্রদলের নিজস্ব প্রার্থীরাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের একাধিক যুগ্ম আহ্বায়ক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ছাত্র সংগঠন। এর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান—সব জায়গায় জবি ছাত্রদল ছিল সামনের কাতারে। এখন যখন জকসু নির্বাচন সামনে, তখনই বহিরাগতদের প্রাধান্য দিয়ে আমাদের উপেক্ষা করা হচ্ছে। এটি একটি মহলের ষড়যন্ত্র, যারা জবি ছাত্রদলের ঐক্য ও নেতৃত্বকে ধ্বংস করতে চায়।

তারা আরও বলেন, আমরা চাই আমাদের সংগঠনের যোগ্য, মেধাবী ও ত্যাগী নেতারাই প্রার্থী হোক। বাইরের সংগঠনের নেতাদের এনে প্যানেল সাজানো মানে হচ্ছে ছাত্রদলকে দুর্বল করা। ভাড়াটে প্রার্থী দিয়ে কখনও ছাত্র রাজনীতি টেকে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের যে ঐতিহ্য আছে, তা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।

শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওতুল ইসলাম পরাগ বলেন, আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না যেখানে বিগত সরকারের সময়ে নির্যাতনের শিকার কোনো ত্যাগী কর্মী তার প্রাপ্য জায়গা থেকে বঞ্চিত হবে। আমাদের অভিভাবক দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে অনুরোধ, তিনি যেন তৃণমূলের নেতাকর্মীদের যোগ্যতাকেই অগ্রাধিকার দেন। আমি সবসময় দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তবে এমন সিদ্ধান্ত যেন না হয় যা আমাদের কর্মীদের হতাশ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিন বলেন, সবকিছু বিবেচনা করে আমরা একটা ইনক্লুসিভ প্যানেল দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা চেষ্টা করছি, আশা করি ভালো কিছু হবে।

শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অসন্তোষের বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে সবাই তো নিজেকে মনে মনে ভিপি ভাবে। এতে আবার অনেক মিডিয়া হাইপও তুলে দেয়। কিন্তু আসলে বাস্তবতা তো ভিন্ন।

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।