রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ জানিয়ে ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তবে কিছু সময়ের মধ্যেই সেই পোস্ট নিজের টাইমলাইন থেকে সরিয়ে ফেলেন তিনি, যা নিয়ে ক্যাম্পাসে চলছে নানামুখী আলোচনা ও সমালোচনা।
শুক্রবার রাতে প্রকাশিত ওই পোস্টে ফয়সাল অভিযোগ করেন, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনের কার্যক্রমের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে সব মনোযোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু কেন্দ্রিক রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ রেখেছে। তিনি লেখেন, “আমরা যারা জবিতে ছাত্রশক্তির ব্যানারে কাজ করেছি, তাদের প্রতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দায়িত্বশীল আচরণ করেনি।”
তিনি আরও বলেন, “আহ্বায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু সহকর্মীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করে এই দায় আর নিতে পারছি না, তাই আমি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।”
তবে পোস্টটি কিছুক্ষণ পর মুছে ফেলার পর থেকে ফয়সাল মুরাদ কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি তাকে।
এর আগেও জবির কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন ঘিরে ফয়সালের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক হয়, প্রথমে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও পরে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রার্থী হন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নূরনবী ইসলাম বলেন, “ফয়সাল পদ ও প্রভাবের রাজনীতি করে। আগে ছাত্রদল, পরে বাগছাস, এখন ছাত্রশক্তি, সব জায়গাতেই পদ না পেলে ক্ষোভ দেখায়। এবারও সেটাই ঘটেছে।”
অন্যদিকে জবি ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মন্তব্য করেন, “পদত্যাগ করে আবার পোস্ট ডিলিট করা দুর্বলতার পরিচয়। রাজনীতি মানে সিদ্ধান্তে স্থির থাকা। যে সংগঠনে নিজের অবস্থান বোঝা যায় না, সেখান থেকে সঠিক সময়ে সরে দাঁড়ানোই সাহসের কাজ।”
শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ফয়সালের এই পদত্যাগ নাটক আসলে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি রাজনীতির কৌশলগত চাল।