রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দুই দশক পূর্তিতে চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ৫ম বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ও ৪র্থ ও ৫ম বার্ষিক প্রদর্শনীর পুরস্কার বিতরণ কর্মসূচি। যেখানে ৪র্থ বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর মিশ্র ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ স্থান অর্জন করেছেন নাঈম মৃধা।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০:৩০ এ জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রেজাউল করিম শহিদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচতলায় ৫ম শিল্পকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
প্রদর্শনীগুলো মূল্যায়নে বিচারক হিসেবে ছিলেন ড্রইং এন্ড পেইন্টিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ অলপ্তগীন তুষার, সহকারী অধ্যাপক মোঃ মাইনউদ্দিন এবং নাজমুন নাহার। চূড়ান্ত বিচারক কমিটি জানান তারা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজের নান্দনিকতা, কৌশল ও অভিনবত্ব ভিত্তিতে চিত্রকর্মগুলো মূল্যায়ন করেছেন।
অতঃপর দুপুর ১২:৩০ এ জবির বিজ্ঞান ভবন প্রাঙ্গণে গত বছর ও এই বছরের চিত্র প্রদর্শনীর পুরস্কার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে এমএফএ ও বিএফএ পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। যেখানে এমএফএ পর্যায়ে ৪র্থ বার্ষিক প্রদর্শনীতে নাঈম মৃধার চিত্রকর্ম “একটি মৃত পৃথিবীর প্রতিধ্বনি” কে শ্রেষ্ঠ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া এমএফএ পর্যায়ে আল আতিকা জেরিন (নিরীক্ষামূলক ড্রয়িং), খাইরুন নাহার মীম (নিউমিডিয়া), রাফিয়া জামান অসমিতা (অ্যাক্রেলিক) সহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও পুরস্কার লাভ করেন।
নিজের চিত্রকর্ম সম্পর্কে নাঈম মৃধা জানান, তার প্রদর্শিত চিত্রকর্মে যান্ত্রিকবৃক্ষকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যা আধুনিক জীবনের যান্ত্রিক প্রভাবকে তুলে ধরার চেষ্টা করে। এর চারপাশে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন বীজ ও চারাগাছ, যা দ্বারা প্রতীকীভাবে নতুন জীবনের সম্ভাবনা ও পরিবেশের পুনরুদ্ধারের আহবান জানানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান তার শিল্পকর্মটি দ্বারা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সচেতনতার মাধ্যমে আমরা সবাই মিলে যান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্রকৃতিকে রক্ষা করে আমাদের ভবিষ্যৎকে সবুজ ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারি।
পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি প্রসঙ্গে নাঈম মৃধা বলেন, “যেকোনো কাজের স্বীকৃতি পেলে সত্যিই আনন্দ হয়। এটি নতুন উদ্যমে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।”
নিজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “প্রতি বছর নিয়মিত এবং সুন্দরভাবে এরকম প্রদর্শনী আয়োজন করা হোক। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য সৃজনশীলতা প্রকাশের একটি সুযোগ এবং আমাদের উদ্যমকে আরও দৃঢ় করে।”
মূলত, ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে চারুকলা অনুষদ থেকে বার্ষিক প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। কিন্তু গত বছর ৪র্থ বার্ষিক প্রদর্শনীর পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত হলেও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়নি। যার ফলে এবছর একই সাথে ৫ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী এবং ৪র্থ ও ৫ম প্রদর্শনীর পুরুষ্কার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।