ইরফান উল্লাহ, ইবি :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে দুই দিন ব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যালেন্ডার বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রতিটি ক্যালেন্ডারের পেছনে ১৫ টাকা করে ১৬ হাজার ক্যালেন্ডার ছাপানোসহ কাজটি সম্পন্ন করতে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানায় সংগঠনটি।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে সংগঠনটি। ক্যালেন্ডারে ২০২৫ এর জুলাই থেকে ২০২৬ এর জুন পর্যন্ত একাডেমিক কার্যদিবস ও ছুটির দিন উপস্থাপন করা হয়েছে।
সরজমিনে দেখা যায়, সংগঠনটি বিশ্বিবদ্যালয়ের বটতলায় বুথ স্থাপন করে ক্যালেন্ডার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। উক্ত স্টলে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই এরকম কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানান।
এই আয়োজন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী রিদ্ধা বলেন, “বিনামূল্যে এ ক্যালেন্ডার পেয়ে আমরা আনন্দিত। এটি আমাদের সকলের জন্য খুব প্রয়োজনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন কার্যদিবস বন্ধ থাকবে আমরা তা সহজেই জানতে পারবো।
এটি আমাদের ডেক্সে থাকলে অনলাইনে ছুটির তারিখ খুঁজতে হবে না। এ ভিন্নধর্মী আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির কে ধন্যবাদ জানাই।”
শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ইউসুব আলী বলেন, “আজ বিনামূল্যে ক্যালেন্ডার বিতরণের দ্বিতীয় দিন চলছে। গতকাল আমরা প্রায় ৩ হাজার ক্যালেন্ডার বিতরণ করেছি। আজকেও আনন্দঘন পরিবেশে বিতরণ হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি।আজকের পরেও যদি শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্যালেন্ডারের চাহিদা থাকে তাহলে আমরা তা সরবরাহ করবো।”
ক্যালেন্ডার বিতরণের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের সংগঠনের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য’ই এ আয়োজন। ক্যালেন্ডারে ছুটির দিনের তালিকা থাকায় এটি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় একটি জিনিস।”
সংগঠনের আয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই কাজটি সম্পন্ন করতে আমাদের মোট খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। প্রতিটি ক্যালেন্ডারের পেছনে ১৫ টাকা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে এই ব্যয় হয়েছে।
এই খরচের টাকাটা মূলত আমাদের অ্যালামনাইদের কাছ থেকে আসে। আমাদের অনেক অ্যালামনাই এখন সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখেন এবং এ ধরনের কল্যাণমূলক কাজে সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন যা আমাদের তহবিলের একটি বড় উৎস। এর পাশাপাশি আমাদের নিজেদের জনশক্তিরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে একাজে অংশগ্রহণ করে।”