রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিন্যান্স বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (১৫তম ব্যাচ) বিবিএ চূড়ান্ত বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নূর নবী দীর্ঘদিন ধরে Osteosarcoma নামের বিরল ধরনের অস্থি ক্যান্সারে ভুগছেন। দীর্ঘ চিকিৎসা ও সংগ্রামের পথে চিকিৎসকদের পরামর্শে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। তবুও তিনি থেমে যাননি, কৃত্রিম পা নিয়ে নিয়মিত ক্লাস করেছেন, পরীক্ষা দিয়েছেন, এবং পড়াশোনায় দেখিয়েছেন অনন্য দৃঢ়তা।
তবে সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। চিকিৎসকরা জানান, ক্যান্সারটি তার হাড় এবং ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে ভারতের CMC Vellore Hospital-এ তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা তাকে Cabozantinib 40mg নামের উচ্চমূল্যের ঔষধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু এ ঔষধের খরচ অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় নূর নবীর পরিবার আর্থিকভাবে সম্পূর্ণভাবে অসামর্থ্যের মুখে।
পরিবার জানায়, গত কয়েক বছরে নূর নবীর চিকিৎসায় বাড়ি-জমি সহ প্রায় সব সম্পদ বিক্রি করতে হয়েছে।
ক্যান্সার আক্রান্ত জবি শিক্ষার্থী নূর নবী বলেন, “আমার চিকিৎসা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। তখন আমার হাড়ে ক্যান্সার হয়েছিলো। যার জন্য প্রথমে দেশে চিকিৎসা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে ভারতেও চিকিৎসা নিতে হয়। তখন আমার একটি পা কেটে ফেলতে হয়।
অনেক লড়াইয়ের পর কিছুটা সুস্থ ছিলাম। ডাক্তাররা বছরে একবার চেকআপের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি জানতে পারলাম ক্যান্সারটি আবার ফুসফুস ও হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন চিকিৎসার ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেশি।”
তিনি আরও জানান, “সামনে আমাকে আবার উচ্চমাত্রার কেমোথেরাপি নেওয়ার প্রয়োজন। ডাক্তাররা বলেছেন ডিসেম্বরের দিকেই চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ শুরু করতে হবে। তখন প্রায় চার থেকে আট সাইকেল কেমোথেরাপি দিতে হতে পারে। একটি কেমোথেরাপির খরচই প্রায় এক লাখ টাকা। এর সঙ্গে থাকার জায়গা, বাসা, যাতায়াত ও অন্যান্য চিকিৎসা খরচ মিলিয়ে ব্যয় আরও অনেক বৃদ্ধি পায়।”
পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমার পরিবার ভালো নেই। বাবা ছিলেন হাইস্কুল শিক্ষক, এখন অবসরে। তিনি নিজেও স্ট্রোক করেছেন। আমার পূর্বের চিকিৎসার ব্যায়ভার করতে গিয়েই আমাদের পরিবার ব্যাপকভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আমাদের ঋণ পর্যন্ত করতে হয়েছে।”
এ বিষয়ে ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বায়েজিদ আলী জানান, “তিন থেকে চার দিন আগে আমাদের বিভাগের একাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে দুইজন ছাত্রের বিষয়ে আলোচনা হয়। একজন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু হওয়া ১০ম ব্যাচের ছাত্র এবং অন্যজন নূর নবী। বিভাগীয় আপতকালীন ফান্ড থেকে ১৫তম ব্যাচের ছাত্র নূর নবীর জন্য ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া বিভাগের ১৬ জন শিক্ষক প্রত্যেকে ৩,০০০ টাকা করে দিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “নূর নবী অত্যন্ত মেধাবী এবং সংগ্রামী। আমরা বিভাগ থেকে তাকে সহায়তা করছি, তবে তার চিকিৎসার ব্যয় এত বেশি যে সমাজের বৃহত্তর অংশের সহায়তা এখন খুবই প্রয়োজন।”