রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের আর্থিক সমস্যার কথা বিবেচনা করে একটি ‘সহায়তা ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন।
২১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) জুবায়েদ হত্যাকাণ্ডে আয়োজিত শোকসভার বক্তব্যে তিনি এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা বিপদের সময় কোথায় যাবে? কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে, কারও জীবন সংকটে পড়ে, কিন্তু আমরা তখন কিছুই করতে পারি না। তাই এখনই একটি স্থায়ী সহায়তা ফান্ড গঠন করা জরুরি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিলের আহ্বান জানিয়ে জবি উপাচার্যকে উদ্দেশে করে তিনি বলেন, “আমরা কি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটা সহায়তা ফান্ড করতে পারি না? শিক্ষার্থীরাও সেখানে কন্ট্রিবিউট করবে, ১০ টাকা, ২০ টাকা করে হলেও। প্রশাসন চাইলে এটাকে একটি নীতিমালার আওতায় আনতে পারে।”
তিনি জানান, এই ফান্ড থেকে হঠাৎ অসুস্থ, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বা জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এমন শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া যাবে। এছাড়াও তিনি বলেন, “এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে শিক্ষার্থীরা অন্তত বিপদের সময় একা থাকবে না।”
শিক্ষার্থীদের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার গিঞ্জি পরিবেশে সীমিত সুযোগে পড়াশোনা করে। থাকার জায়গা নেই, খাওয়ার সঠিক ব্যবস্থা নেই। কেউ কেউ হতাশায় আত্মহত্যা পর্যন্ত করছে।”
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “অঙ্কন নামের এক মেধাবী ছাত্রী আত্মহত্যা করেছিল, কিন্তু আজও কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না, সেটি আত্মহত্যা ছিল নাকি হত্যা। আবার অবন্তিকার ঘটনার ছয় মাস পার হয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি নেই।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বিচার নিশ্চিত না হলে, শিক্ষার্থীদের জীবন-সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ না নিলে, আরও অনেক জুবায়েদকে হারাতে হবে আমাদের। তাই আজ থেকেই পরিবর্তন শুরু করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শিক্ষক, প্রশাসন ও শিক্ষার্থী সবাই এক পরিবারের অংশ। যদি সবাই মিলে দায়িত্ব নেই, তাহলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সত্যিকার অর্থে মানবিক ও নিরাপদ ক্যাম্পাসে পরিণত হবে।”
এ বিষয়ে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ইতোমধ্যেই একটি স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা বা ইনস্যুরেন্স (Insurance) চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষক সমিতি সাধারণ সম্পাদক যে শিক্ষার্থী সহায়তা ফান্ড চালু করার কথা বলেছেন সে এতটুকুই বলবো যে,
যদিও অনেকগুলো সমস্যা থাকার কারণে আমরা হয়তো এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি, তবে এই বিষয়টি আমাদের জানায় আছে এবং আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে তা অর্জন করতে পারবো বলে আশা রাখি। এজন্য আমরা সকলের সহযোগিতা চাই।”