রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসাইন হত্যাকান্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত মাহির রহমানের মা রেখা রহমান দাবি করেছেন, ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য মা হয়ে নিজেই তার ছেলেকে থানায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
রবিবার (২০ অক্টোবর) রাত ৮ টার দিকে সাংবাদিকদের মুঠোফোনে তিনি এসব তথ্য জানান।
মাহির রহমানের মা রেখা রহমান বলেন, “আমি আজ সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে নিজে আমার ছেলে মাহিরকে সাথে করে নিয়ে গিয়ে চকবাজার থানায় পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছি। পরে তারা আমাকে জানান, ঘটনাটি বংশাল থানায় হওয়ায় মাহিরকে বংশাল থানা পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।
পরে বংশাল থানা পুলিশের একটি টিম মাহিরকে চকবাজার থানা থেকে নিয়ে যায়। আমাকে জানানো হয়, পরে যোগাযোগ করে মাহিরের বিষয়ে আমাকে জানানো হবে। তবে এরপর থেকে আমি আর কোনো খোঁজ পাইনি। আমি ওই ছেলের (জোবায়েদ) মৃত্যুর ঘটনা শোনার পর সারা রাত আমার ছেলেকে বুঝিয়ে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য নিজে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।
আমার ছেলে যদি অপরাধ করে থাকে, তবে সেই অনুযায়ী শাস্তি পেলে আমার আপত্তি নেই। তবে অপরাধ না করে থাকলে যাতে বিনা কারণে শাস্তি না দেওয়া হয়। ন্যায় বিচার যাতে হয়।”
মাহিরের মা রেখা রহমান জানান, “মাহিরের সাথে বর্ষার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাস খানেক আগে মাহিরকে বাসায় ডেকে নিয়ে বর্ষার মা বাবা কথা বলে। বর্ষা জোবায়েদকে পছন্দ করে বলে জানিয়ে মাহিরের সাথে সম্পর্ক শেষ করে দেয়।
বিয়ের কথাবার্তা চলছিল বলেও মাহিরকে জানায়। এই কথাগুলো মাহির এসে আমাকে বলে। মাহিরের কাছে মাহির আর বর্ষার ব্যক্তিগত কিছু ছবি ছিল। সেসব ছবি ডিলেট করে দেওয়ার জন্য মাহিরকে বর্ষা কিছুদিন থেকেই বলছিল বলে গুতকাল আমাকে জানায় মাহির।”
তিনি আরো বলেন, “গতকাল রোববার বিকেলে মাহির দৌড়ে বাসায় আসে। তার হাতের কয়েক জায়গায় কাটা ছিল। পরে আমি তাকে কয়েকটি হাসপাতল ঘুরিয়ে কাটা জায়গায় সেলাই দিয়ে বাসায় আনি। জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়। সে ও তার দুই বন্ধু বাসার বর্ষার বাড়ির পাশের ওয়ি রাস্তা দিয়েই আসছিল। তখন জোবায়েদের সাথে দেখা হয়। জোবায়েদ তাকে বাসার গেইটের ভিতরে ডেকে নিয়ে কথা বলতে চায়।
তখন মাহিরের ফোনে থাকা ছবি ডিলেট করতে বলে। এক পর্যায়ে দুইজনের মধ্যে নাকি কিছুটা ধস্তাধস্তি হয়। এসবের সত্যমিথ্যা জানিনা। মাহির আমাকে যা বলেছে, আমি তাই বলছি। সেই সময় জোবায়েদ নামের ওয়ি ছেলে নাকি ছুরি বের করে। পরে মাহির নাকি নিজেকে বাচানোর চেষ্টা করতে ছুরি কেড়ে নিতে গেলে, মাহিরের হাত কেটে যায়। পরে মাহিরের হাতে ছুড়ি আসলে জোবায়েদ পড়ে যাওয়ার সময় ওয়ি ছেলের গলায় ছুরি ঢুকে যায়।
এরপর ভয়ে মাহির নাকি দৌড়ে এখানে চলে আসে। সে জানায় তখনও নাকি বেচে ছিল। কিছু হয়নি। এসব কথা মাহির আমকে জানায়। সত্য নাকি মিথ্যা তা আমি জানিনা।
তার বলা কথাই তুলে ধরলাম। পরে আমি যখন খবর পাই, ওই ছেলে মারা গেছে। আমার ছেলে খুব উত্তপ্ত ছিল রাগে। পরে তাকে সারারাত বুঝিয়ে সকালে থানায় পুলিশের কাছে তুলে দিয়ে আসি।”
তিনি আরো বলেন, “তার সাথে যে দুইজন বন্ধু ছিল, তারা কিছু করেনি বলে মাহির আমাকে জানিয়েছে। তারা নির্দোষ। আমার ছেলে অপরাধী হয়ে থাকলে শাস্তি হোক। কিন্তু ন্যায় বিচার যাতে হয়। বিনা অপরাধে যাতে শাস্তি না হয়। আমাদের পরিবার গরীব বলে বর্ষার মা বাবা ছেলের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। এই ঘটনাই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।”