ইবি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জহির রায়হান বলেছেন, “ছাত্রদলকে আদু ভাই ট্যাগিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “অনেক সময় অনেকে ট্যাংগিং করে আদু ভাই। আমি এক কথায় বলে দেই যে বাংলাদেশের কোন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ রানিং শিক্ষার্থী না। সবাই শিক্ষার্থী কিন্তু কেউ রানিং না।”
আজ রবিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও অগ্রগতি জানতে এবং নতুন কমিটি গঠনের জন্য নবীনদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করতে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্নারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জহির রায়হান বলেন,“যেহেতু ছাত্রশিবির নিজেদের ইসলামী সংগঠন হিসেবে দাবি করে, সেহেতু ইসলামের সব নীতি মেনে চলা উচিত। নবী করিম (সা.) প্রকাশ্যে যুদ্ধ করেছেন, প্রকাশ্যে মক্কা বিজয় করেছেন কিন্তু তারা কখনো প্রকাশ্যে আসে না। এটি ইসলামী মূল্যবোধের পরিপন্থী।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা আগে থেকেই হলে থাকার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু আমাদের সংগঠনের কেউ দীর্ঘদিন হলে থাকতে পারেনি। ফলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনে শুধু দল নয়, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিও বড় প্রভাব ফেলে।”
ছাত্রশিবিরের প্রভাব নিয়ে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “হলগুলোতে অঘোষিতভাবে ছাত্রশিবিরের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাদের অপ্রকাশিত কমিটিও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আমরা দীর্ঘদিন হলে না থাকার কারণে তাদের মতো প্রভাব বিস্তার করতে পারিনি।
আগের ডাকসু নির্বাচনে ব্যালট পেপারগুলো অরক্ষিত ছিল, কোথায় ছাপানো হয়েছে তারও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি নীলক্ষেতের মতো জায়গায় ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছিল—যা নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং নিয়মবহির্ভূত।”
ছাত্র সংসদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিগত চারটি ছাত্র সংসদ নির্বাচন আমাদের নানা অভিজ্ঞতা দিয়েছে, যা বর্তমান প্রক্রিয়াকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছি এবং সেই ফলাফলও সন্তোষজনক, আলহামদুলিল্লাহ।”
রানিং শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, “ইতিমধ্যেই ডাকসু, রাকসু, চাকসু আমাদেরকে ফেস করতে হয়েছে। তো আমাদের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম বা ব্যস্ততার ভিতর দিয়েও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সারা বাংলাদেশে একযোগে যেহেতু কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছি।
তো একসাথে কাজ করাটা একটু কঠিন। তবুও এবার আমি এসেছি সাংগঠনিক সফরের অংশ হিসেবেই এবং আমরা কমিটি গঠনের লক্ষ্যেই কাজ করছি। যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী তাদের কাছ থেকে আমরা সিভি সংগ্রহ করছি এবং তাদের সাথে কথা বলছি।
যারা বিগত সময় আন্দোলন সংগ্রামে ছিল আমরা তাদেরকে অগ্রাধিকার দিব। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে ওয়েল কানেক্টেড এবং যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী তাদেরকেই আমরা সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিব।”