ইরফান উল্লাহ, ইবি
সাজিদ হত্যার বিচার, ইকসুর নীতিমালা প্রণয়ন, ডিজিটাল পেমেন্ট চালু, এ বছরেই নির্মাণাধীন হল উদ্বোধন এবং মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রশিবির।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় আগামী সাত দিনের মধ্যে পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটালাইজেশনসহ অন্যান্য দাবিগুলোর অগ্রগতি না হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশাসন অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ার দেন তারা।
সমাবেশে সংগঠনের শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, সেক্রেটারি ইউসুব আলী, অফিস সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফি, অর্থ সম্পাদক শেখ আল আমিন, প্রচার সম্পাদক আবসার নবী হামজা,
দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক হাসানুল বান্না অলিসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মিছিলে তারা, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘সাজিদ মৃত্যুর তদন্ত, দ্রুত করো, করতে হবে’, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করো, শিক্ষার্থীদের রক্ষা করো,’ ‘হলগুলো চালু করো, ভোগান্তি দূর করো,’ ‘ইকসুর তারিখ ঘোষণা করো,’ ছাত্রসংসদ নিশ্চিত করো,’ ‘বিশ্ব যখন আধুনিক, ইবি কেন যান্ত্রিক,’ ‘ডিজিটাল পেমেন্ট চালু হোক, ভোগান্তি দূর হোক,’ ‘নিয়োগ হবে স্বচ্ছ, শিক্ষক হবে দক্ষ,’ ‘মেধা আর স্বচ্ছতা, নিয়োগে চাই ন্যায্যতা,’ ‘আবু সাইদের বাংলায়, নিয়োগ বাণিজ্যের ঠাই নাই’সহ নানা স্লোগান দেয়।
মিছিল শেষে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কার ও স্বচ্ছতার অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। ৯৩ দিন পার হলেও সাজিদ হত্যার বিচার এখও হয়নি, ছাত্রসংসদ নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, ফি প্রদানের সেকেলে পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলছে, আর নির্মাণাধীন হলগুলো বছরের পর বছর অসম্পূর্ণ পড়ে আছে। তারা বলেন, দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান না হলে শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনে নামবে।
সমাবেশে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন,
“সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ৯৩ দিন পেরিয়ে গেলেও খুনিদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, যা প্রশাসনের ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ। ভিসেরা রিপোর্টে প্রমাণিত হয়েছে সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল তবুও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। প্রশাসন ও তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায় এড়াতে পারে না।”
ছাত্রসংসদের বিষয়ে মাহমুদুল হাসান বলেন,
“প্রশাসন আইনের অজুহাত দেখিয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করছে না। অথচ বেরোবি ও জবির মতো নবীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের আইন পাস করে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন ১৫ তারিখের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত করার আশ্বাস দিলেও ১৮ তারিখ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”
পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটালাইজেশনের বিষয়ে তিনি বলেন,
“প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটাল করা সম্ভব। এ বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের দপ্তর অচল করে দিবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন হলগুলোর দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“২০১৮ সালে টেন্ডার হওয়া হলের নির্মাণকাজ ২০২৫ সালেও শেষ হয়নি, যা শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটকে তীব্রতর করছে। চলতি বছরের মধ্যেই সকল হলের নির্মাণকাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের কাছে হস্তান্তর ও মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন করতে হবে।”
মাহমুদুল হাসান বলেন,
“একটি নির্দিষ্ট মহল আবারও আওয়ামী লীগের শাসনামলের মতো করে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, যেখানে প্রাধ্যক্ষরাও সহযোগিতা করছেন। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনোভাবেই হলগুলোকে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিতে দেওয়া হবে না। যদি এমন কোনো চেষ্টা করা হয়, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।”
শিক্ষক সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন,
“বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগে ৫টি বা এমনকি ৭টি ব্যাচ চলমান থাকলেও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন, যা শিক্ষার মানকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। দ্রুত ন্যায্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তারা।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা চাই দ্রুত শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া হোক। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা কঠোর কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেবে।”