আবু তাহের, জাককানইবি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপদ, মানসম্মত ও ন্যায্যমূল্যের খাবারের সংকটে ভুগছেন তারা। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও পরিচ্ছন্নতার অভাবেও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ডাইনিংগুলোতে পরিবেশিত খাবার মানহীন ও দামের তুলনায় পরিমাণে অপ্রতুল। রান্নার পরিবেশও সবসময় অপরিষ্কার ও অস্বাস্থ্যকর থাকে। অনেক সময় আগের দিনের বাসি খাবার ও বারবার ব্যবহৃত তেলে রান্না করা তরকারি পরিবেশন করা হয়। এসব নিয়ে অভিযোগ জানালেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায় না।
শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমানে ভাতের প্লেটপ্রতি দাম বাড়লেও পরিমাণ কমে গেছে। মাছ বা মুরগির মাংসের টুকরোও অত্যন্ত ছোট—যা দৈনিক পুষ্টি চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিম্নমানের খাবারের কারণে অনেকে অসুস্থও হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থীর দৈনিক ২,০০০–৩,০০০ কিলোক্যালরি শক্তি ও প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১.২ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। কিন্তু মানহীন ও অপর্যাপ্ত খাবারের কারণে শিক্ষার্থীরা পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে পড়ছেন। তাছাড়া পোড়া তেল, বাসি খাবার ও ভেজাল মসলা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে—যার ফলে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও লিভারের সমস্যার আশঙ্কা বাড়ে।
শিউলীমালা হলের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘ভাত অনেক সময় আধা সিদ্ধ থাকে, তরকারির পরিমাণ কম দেওয়া হয়, এমনকি খিচুড়িতেও কোনো সবজি থাকে না। প্রভোস্ট ম্যাডামকে বললে তিনি বলেন, ‘ওরা তো ব্যবসা করে, মেয়েরা ডাইনিংয়ে কম খায়।”
দোলনচাঁপা হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘খাবার সময়মতো পরিবেশন করা হয়, তবে সম্প্রতি চালের মান কমেছে—ভাতে মাঝে মাঝে পোকা পাওয়া যায়। নিয়মিত তদারকি ও মেনুতে বৈচিত্র্য আনলে মান উন্নত হবে।’
অগ্নিবীণা হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ছেলেদের দুই হলের খাবারের মান প্রায় একই। কোথাও ভাত ভালো, কোথাও তরকারি। কিন্তু আগের দিনের খাবার গরম করে পরিবেশন করা হয়—যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। হল প্রশাসনের উচিত খাবারে ভর্তুকি দেওয়া এবং রান্নায় আরও সতর্কতা অবলম্বন করা।’
বিদ্রোহী হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কিছু খাবার ভালো, কিছু একেবারেই নিম্নমানের। ফ্রিজ ও রান্নাঘরের সরঞ্জাম অপরিষ্কার থাকে, পচা সবজি ব্যবহার করা হয়, তেল বারবার ব্যবহার করে কালো হয়ে যায়। সব মিলিয়ে পরিবেশটি অস্বাস্থ্যকর।’
এ বিষয়ে শিউলীমালা হলের প্রভোস্ট ড. হাবিবা সুলতানা বলেন, ‘আমরা নিয়মিতভাবে খাবারের মান তদারকি করি। কোনো ত্রুটি চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। ভবিষ্যতে নিম্নমানের চাল, পোকাযুক্ত বা বাসি খাবার যাতে ব্যবহার না হয়—সেদিকে কঠোর নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ অনুযায়ী মেনুতে নতুন খাবার যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’