আতিকুর রহমান, রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে দোয়া চেয়ে অনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শেষ করেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল সম্মেলিত শিক্ষার্থী জোট। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন এই দোয়া তারা।
এসময় লিখিত বক্তব্যে সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের জিএস পদপ্রার্থ ফাহিম রেজা বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন দল-সমর্থিত ও স্বতন্ত্র প্যানেল এতে অংশ নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উদ্দীপনামুখর পরিবেশে প্রচারণা চালিয়েছে। প্রতিটি প্যানেলের প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের মাঝে গিয়ে প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন, মতামত শুনেছেন এবং প্রত্যাশা জানার চেষ্টা করেছেন।
“আমরা বারবার শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়েছি, প্রজেকশন মিটিংসহ বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিয়েছি, তাদের মতামত শুনেছি এবং আমাদের কর্মপরিকল্পনা শেয়ার করেছি। শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বসিত সাড়া আমাদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।”
তারা আরও বলেন, আন্তরিক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। যাদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি, তাদের কাছেও সমর্থন ও দোয়া চেয়েছেন। পাশাপাশি দীর্ঘ প্রচারণায় কথাবার্তা বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
প্যানেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা একটি শক্তিশালী রাকসু দেখতে চান, যা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়াও, তারা আগামী ১৬ অক্টোবর আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের দলে দলে এসে আনন্দের সঙ্গে ভোট প্রদান করার আহ্বান জানান।
নির্বাচনের শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে সব প্যানেল, প্রার্থী ও সমর্থকদের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন— “আমরা চাই প্রত্যেক শিক্ষার্থী ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করোক। শিক্ষার্থীরা সচেতন ও শিক্ষিত; তারা যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন। প্রশাসনকেও তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় একাধিকবার তারিখ পরিবর্তন ও নানা নাটকীয়তা দেখা গেছে। নির্বাচন বানচালের চেষ্টাও হয়েছে, এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারেনি। তবে শিক্ষার্থীদের সোচ্চার ভূমিকার কারণেই নির্বাচনের পথে এগোনো সম্ভব হয়েছে।
“আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কোনো দল বা ব্যক্তিকে প্রাধান্য না দিয়ে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখবেন, যাতে শিক্ষার্থীরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন।”