রোকুনুজ্জামান, জবি
নানান সীমাবদ্ধতা ও সংকটে জর্জরিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। যা নিরসনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) কাছে প্রায় ১০ মাস আগে থেকেই আবেদনের ফাইল পাঠিয়েছে জবির অর্থ ও হিসাব দপ্তর। কিন্তু এখন পর্যন্ত অন্ধকারেই পরে রয়েছে জবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির উন্নয়ন বরাদ্দ। ফলে নতুন করে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে জবি প্রশাসন।
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি পর্যবেক্ষণ পূর্বক সরজমিনে দেখা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ তলা বিশিষ্ট সাজিদ ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটিতে শিক্ষার্থীদের তুলনায় নেই পর্যাপ্ত আসন। যার ফলে লাইব্রেরিতে থাকা ২৬০ টি আসনে শুধুমাত্র যারা শুরুতে আসেন সেসব শিক্ষার্থীই জায়গা পান। এছাড়াও পর্যাপ্ত সংখ্যক ফ্যান না থাকায় শিক্ষার্থীদের তীব্র গরমে পড়াশুনায় অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
আবার কাগজ সত্যায়িত করা সহ বিভিন্ন কাজের জন্য লাইব্রিরর মাঝখান দিয়ে অফিসে লোকজন যাওয়া আসা করায় লাইব্রেরির পড়াশুনা উপযোগী নিরব পরিবেশ বিনষ্ট হয়।
এছাড়াও লাইব্রেরিতে আলো-বাতাসের প্রবেশের সেরকম সুযোগ নেই। কারন জানালার পাশের দিকে লাইব্রেরির কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুধুমাত্র লাইব্রেরির অফিস কর্মকর্তাদের রুমে স্থাপন করা এসি এবং জানালা দিয়ে প্রবেশকৃত আলো-বাতাস উভয় থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। যা পড়াশুনা উপযোগী একটি পরিবেশ তৈরির সবচেয়ে বড় অন্তরায় বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
পাশাপাশি লক্ষ্য করা যায়, লাইব্রেরিতে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়াশরুমের সংকট রয়েছে এবং ব্যাগ রাখারও পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগ সময় তাদের ব্যাগগুলো লাইব্রেরির পাশের গ্রিলে বা দরজার বাইরে মেঝেতে রাখতে হয়।
এসব সমস্যা সমাধানে ২০২৪ সালের ১২ই ডিসেম্বরে জবির অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আবদনে লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের সার্বিক ভোগান্তিগুলো তুলে ধরে ৬১,৯২,৭৬২ (একষট্টি লক্ষ বিরানব্বই হাজার সাতশত বাষট্টি) টাকার বরাদ্দ চাওয়া হয়।
আবেদনে বলা হয়, লাইব্রেরিটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে দরজা-জানালা না থাকার কারণে প্রয়োজনীয় আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে না বিধায় ভ্যাপসা অবস্থা বিরাজ করে, যা লাইব্রেরীতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষর্থীরা এসি স্থাপনের জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছে এবং বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার আন্দোলন ও করেছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও লাইব্রেরীর বর্তমান পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে জরুরী ভিত্তিতে এসি স্থাপন করা আবশ্যক।
তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর পড়া-লেখার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে এসি স্থাপন ও বৈদ্যুতিক কাজ বাবদ ৬১,৯২,৭৬২/- (একষট্টি লক্ষ বিরানব্বই হাজার সাতশত বাষট্টি) টাকা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ প্রদানের অনুরোধ করা হয়।
কিন্তু আবেদনের প্রায় ১০ মাস পরেও আলোর মুখ দেখেনি জবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সেই উন্নয়ন বরাদ্দ। ফলে লাইব্রেরির নানাবিধ সমস্যা ও সীমাবদ্ধতায় ক্ষুব্ধ হয়ে একাধিকবার শিক্ষার্থীরা আন্দোলনও করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দীর্ঘ দিন আগেই শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে আমরা এই আবেদনটি করেছিলাম। কিন্তু ইউজিসি সেই বরাদ্দ এখনও অনুমোদন করেনি। যার ফলে এতোদিন লাইব্রেরিতে এসি স্থাপনসহ সার্বিক আরো কিছু কাজ করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।”
সর্বশেষ ১৭ সেপ্টেম্বর জকসুসহ লাইব্রেরি ও ক্যান্টিনের মানোন্নায়নের ৩ দফা দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করেন জবির কিছু শিক্ষার্থীরা। যার ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে লাইব্রেরির সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে আবেদনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
লাইব্রেরির উন্নয়ন কার্যক্রমের সর্বশেষ গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “ইতোমধ্যেই লাইব্রেরির বাথরুমের কিছু কাজ আমরা করেছি। এরপরও এসি স্থাপনসহ অনেক কাজ বাকী। যেগুলোর চাহিদাপত্র সহ সকল ডকুমেন্টস রেডি করে আমরা জমা দিয়েছি। আশা খুব দ্রুতই দৃশ্যমান কাজ শিক্ষার্থীরা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।”