ইরফান উল্লাহ, ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন,“শেখ হাসিনার মতোই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অথর্ব হয়ে পড়েছে। শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডেও ফ্যাসিবাদের ছাপ স্পষ্ট। সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফ্যাসিস্ট হারুন-উর-রশিদ আসকারীকে— যিনি শেখ হাসিনার আস্থাভাজন, বাংলা অ্যাকাডেমির সাবেক চেয়ারম্যান এবং শেখ মুজিবুর রহমানের মুরাল নির্মাণে ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছিলেন। আমরা এ নিয়োগ বোর্ডের তীব্র নিন্দা এবং ফ্যাসিস্টদের দ্রুত বাদ দেওয়ার দাবি জানাই।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার, খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের নিয়োগ বোর্ড থেকে বাতিলের দাবিতে শাখা ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের নিচে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
সাহেদ আহম্মেদ বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করে আসছি দীর্ঘ ১৭ বছর। ছাত্রলীগের হামলা, পুলিশের মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি তবুও আলহামদুলিল্লাহ বেঁচে আছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী দুই ভাই ওয়ালীউল্লাহ ও মোকাদ্দাস গুম হয়েছেন।
ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মীও গুম-খুনের শিকার হয়েছেন কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব ভুলে গেছে। তারা শুধু এসি রুমে বসে থেকে ফ্যাসিবাদ কায়েম করে।
সাজিদ আব্দুল্লাহর খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের প্রতি আস্থা আছে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দিচ্ছি তারপর কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আমাদের নম্রতা দুর্বলতা নয়। প্রশাসন যদি ছাত্রদলকে ‘ড্যাম কেয়ার’ করে, আমরাও তাদেরকে ‘ড্যাম কেয়ার’ করব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের সিট বণ্টনের বিষয়ে তিনি বলেন, সিট বণ্টনে বৈষম্য দূর করতে হবে। বিশেষ করে ধর্মতত্ত্ব কেন্দ্রিক তিনটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা একটানা সিট পায় আর বাকি ৩৩টা বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে সিট কম দেয়া হয়।
এ বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে দাবি, ৪১তম বিসিএসসহ আসন্ন সব পরীক্ষার্থীর জন্য বাসের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রতিটি হলে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য-সচিব মাসুদ রুমী মিথুন, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, যুগ্ম-আহ্বায়ক আহসান হাবিব, আনারুল ইসলাম, সদস্য রাফিজ আহমেদ, নুরউদ্দিনসহ প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।
এদিকে, ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও দিল্লির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে শাহাদাতবরণ করা আবরার ফাহাদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দোয়া পরিচালনা করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব আশরাফ উদ্দিন খান। দোয়া মাহফিল শেষে মসজিদের সামনে বৃক্ষরোপণ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম,
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান, থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আ ব ম সিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী, শাখা ছাত্রদল, শিবির, সাবেক বৈবিছাআ এর নেতৃবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।