রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
সম্প্রতি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তারা যথাযদ ব্লাসফেমি আইনেরও দাবি তোলেন। যা কোনো ধর্ম, পবিত্র বস্তু বা দেব-দেবীর প্রতি অবমাননা, অশ্রদ্ধা বা অবজ্ঞা প্রদর্শনকে এবং ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেওয়া নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়। এটি লঙ্ঘিত হলে কারাদণ্ড ও জরিমানাসহ কঠোর শাস্তির বিধান থাকে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) জবি শিক্ষার্থীরা ধর্ম অবমাননার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করার পাশাপাশি ব্লাসফেমি (ধর্ম অবমাননা) আইন প্রণয়নের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও স্লোগানের মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ ও দাবিসমূহ তুলে ধরেন।
পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র বায়তুল হক বলেন, “ইসলাম আমাদের আবেগের জায়গা। এখানে কেউ আঘাত করলে আমরা চুপ করে থাকব না। কুরআন শরীফ ও নবীর অবমাননা আমরা মেনে নেব না। সেই অপমানের যথোচিত জবাব দেবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।”
শাখা ইসলামি ছাত্র শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জায়েদ বলেন, “কুরআন অবমাননা করা মানে আল্লাহকে অবমাননা করা; এটি মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষাত্মক আচরণ। যারা কুরআন অবমাননা করবে তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।”
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “শেখ হাসিনা তার বাবার হত্যাকারীদের আজীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন, কিন্তু নবী (সা.)-কে অপমান করার শাস্তি সংক্রান্ত কোনো স্বতন্ত্র আইন নেই। ইন্টারিম সরকার যদি ৯০ শতাংশ মুসলমানের আকাঙ্ক্ষা বিবেচনা করে ব্লাসফেমি আইন প্রণয়ন করে, তাতে এই ধরনের অপমানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে উঠবে।”
তিনি আরও বলেন, “নতুন আইনে ধর্ম অবমাননার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হলে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন দুঃসাহস দেখাবে না।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের নামে পবিত্র কুরআন অবমাননার অভিযোগযুক্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ঘটনাটির পর সারাদেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।