আবু তাহের, ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কোনো বিধান ছিল না। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও ধারাবাহিক দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সম্প্রতি প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাধিক উন্মুক্ত আলোচনার পর ‘নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (নাকসু)’ এবং হল সংসদ গঠনের জন্য একটি খসড়া গঠনতন্ত্র প্রকাশ করেছে। তবে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, শুধু খসড়া প্রকাশ যথেষ্ট নয়। তাদের দাবি—দ্রুততম সময়ে একটি রোডম্যাপ ও নির্দিষ্ট তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করা উচিত।
শিক্ষার্থীদের কাছে এটি শুধুই একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার, অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব বিকাশের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা পালনের সুযোগ। তারা আশা করছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অচিরেই একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে নাকসু গঠিত হবে।
নির্বাচিত সংসদ শুধু শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের মতামতের অন্তর্ভুক্তি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করেন, এটি জাককানইবির শিক্ষামূলক ও সামাজিক পরিবেশে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
ছাত্র সংসদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের
নৃবিজ্ঞান বিভাগ ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী হালিমা তুস সাদিয়া বলেন, ‘২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এখনো ছাত্র সংসদ পায়নি। শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ছাত্র সংসদ জরুরি।
এটি হলে শিক্ষার্থীরা হল দখল ও সিট বাণিজ্য থেকে মুক্ত হয়ে মুক্ত সংস্কৃতি ও শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবে। রাজনৈতিক দলীয় আধিপত্য নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধি তাদের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে। ছাত্র সংসদ আবাসন সংকট, নিরাপদ ক্যাম্পাস, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।’
অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী শেখ ফাবিয়া তাসমিম চৌধুরী বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ জরুরি। এতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ জানানোর প্ল্যাটফর্ম পাবে, নেতৃত্ব তৈরি হবে, সমস্যা সমাধান সহজ হবে এবং দলীয় স্বার্থ নয়, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীর স্বার্থ রক্ষা হবে। নিয়মিত ও দলীয় চাপমুক্ত নির্বাচনই এর মূল শর্ত।’
লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালন বিদ্যা বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী সচিব কান্তি চাকমা বলেন, ‘২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পরও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ হয়নি, ফলে শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট, নিরাপত্তা, যানবাহন সমস্যা ও ধর্মীয় বৈষম্যের মতো নানা বিষয়ে কার্যকরভাবে কণ্ঠ তুলতে পারে না।
ছাত্র সংসদ হলে শিক্ষার্থীরা একত্রে দাবি জানাতে পারবে, নেতৃত্ব তৈরি হবে, প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা হবে এবং সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও গবেষণায় অংশ নিতে পারবে। এটি দলীয় সংগঠন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম, যা শিক্ষার্থীর প্রকৃত স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে। আমাদের প্রত্যাশা—ছাত্র সংসদ হবে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর ও আস্থার জায়গা।’