আবু তাহের, ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি
বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে দেশজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। দেবী দুর্গার আগমনে রঙিন সাজে সেজে উঠেছে পূজামণ্ডপগুলো। ভক্তিময় পরিবেশে প্রতিটি আয়োজন উপভোগ করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
এই উৎসবের ছোঁয়া লেগেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়েও। পূজার ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা ফিরেছেন নিজ নিজ গ্রামে। কেউ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কাটাচ্ছেন আনন্দঘন সময়, কেউবা অংশ নিচ্ছেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধুনুচি নাচ কিংবা প্রতিমা দর্শনে।
শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পূজার আনন্দ আরও বেড়ে উঠেছে। তাদের উচ্ছ্বাসে প্রতিফলিত হচ্ছে মিলন, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের অমলিন বার্তা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিয়তা পাল দিয়া বলেন, ‘এবারের পূজোটা ভীষণ আনন্দে কাটছে। সকাল থেকেই অঞ্জলির জন্য মণ্ডপে ভিড়, আর রাতে প্রতিমা দর্শনের উপচে পড়া মানুষের ঢল—সব মিলিয়ে চারদিকে উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়েছে।
যদিও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেকেই খানিকটা আতঙ্কে আছে, তবুও ঢাকের শব্দ আর আলো-ঝলমলে সাজে চারপাশ উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন পর এই আনন্দ সবার মধ্যে একসাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।’
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী কৌশিক পাল বলেন, ‘এবারের পূজো ভীষণ আনন্দে কাটছে। ক্যাম্পাস থেকে বাড়ি ফিরে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার আনন্দই আলাদা। সকালে অঞ্জলির জন্য মণ্ডপে ভিড়, রাতে প্রতিমা দর্শনের উৎসাহ—সব মিলিয়ে চারদিকে উৎসবের আমেজ।
বাড়ির সবাই মিলে প্রতিমা দর্শনে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর মোটরসাইকেল ভ্রমণ যেন মনে বিশেষ তৃপ্তি আনে। রাতে মণ্ডপের রঙিন আলো উৎসবের আবহকে আরও বর্ণিল করে তোলে। বর্তমান পরিস্থিতির আতঙ্ক থাকলেও ঢাকের শব্দে সব ভুলে সবাই আনন্দে মেতে ওঠে। এই উৎসব আমাদের একসঙ্গে মিলিত হওয়ার এক অনন্য সুযোগ এনে দিয়েছে।’
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী প্রবাল রাম ঘোর বলেন, ‘পূজোর ছুটি মানেই আমার কাছে পরিবারকে সময় দেওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে মিলন আর শৈশবের স্মৃতিতে ফেরা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অঞ্জলি দেওয়া থেকে শুরু করে প্রতিমা দর্শন—সবকিছুতেই আনন্দ খুঁজে পাচ্ছি। মনে হচ্ছে পূজো আমাদের সবার মধ্যে সম্পর্কগুলো আরও দৃঢ় করে দেয়।’
দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী কেয়া রানী রায় বলেন, ‘সনাতনীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা, যা বছরে একবারই আসে। এবারের দুর্গাপূজা আমার কাছে আনন্দ, উৎসব আর আবেগের এক বিশেষ মিশ্রণ। দুর্গাপূজা মানেই শুধু পূজা নয়, বরং এক মিলনমেলা, উৎসব, সংস্কৃতি আর পারিবারিক বন্ধনের স্মৃতি।
শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি থেকেই প্রতীয়মান হয়—দুর্গোৎসব শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি এক অনন্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির প্রতীক। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই উৎসব ছড়িয়ে দিচ্ছে মিলন ও সহমর্মিতার বার্তা, পারিবারিক বন্ধনকে করছে আরও দৃঢ়, আর নব প্রজন্মকে যুক্ত করছে নিজেদের সংস্কৃতির শিকড়ে।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে, শারদীয় দুর্গোৎসব হোক শান্তি, সৌহার্দ্য ও শুভের প্রতীক—এই কামনায় মুখর হয়ে উঠেছেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।