রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
ঢাকার সাত কলেজকে কেন্দ্র করে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ এর খসড়া কাঠামো নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কলেজগুলোতে কর্মরত শিক্ষকরা। তাদের অভিযোগ, খসড়া প্রস্তাবে সাত কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কবি নজরুল সরকারি কলেজের বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
সেখানে শিক্ষকরা জানান, এ বিষয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করছেন এবং ইতোমধ্যে ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। কিন্তু তাদের প্রস্তাব ও উদ্বেগকে উপেক্ষা করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ইউনিট থেকে শিক্ষকরা নিম্নোক্ত ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন:
১. সাত কলেজের নাম বা কাঠামো পরিবর্তন করে কোনো অনুষদ বা স্কুলে রূপান্তর করা যাবে না।
২. কলেজগুলোর লোগোসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে, কোনোভাবেই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে হস্তান্তর করা যাবে না। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পৃথক স্থানে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৩. সাত কলেজকে পরীক্ষাগার বা গিনিপিগে পরিণত করা যাবে না; শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে এবং সকল পদে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
৪. বিদ্যমান কোনো বিষয় বাদ দেওয়া যাবে না। বিশেষত আরবি ও ইসলাম শিক্ষা বাদ দেওয়ার চেষ্টা ইসলামবিদ্বেষ হিসেবে গণ্য হবে।
৫. উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
৬. নারী শিক্ষার সুযোগ সংকোচন করা যাবে না; বিশেষত ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা কলেজে।
৭. সাত কলেজের কোনো কর্মচারীর চাকরি বা স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা যাবে না।
৮. কাঠামো পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত গ্রহণ ও যৌক্তিকতা যাচাই করতে হবে এবং এজন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রিভিউ কমিটির মাধ্যমে খসড়া পর্যালোচনা করতে হবে।
এছাড়া শিক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যরা ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসনিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত নন। তাই যেসব শিক্ষাবর্ষ প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতাভুক্ত, তাদের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার আইনি ভিত্তি তাদের নেই।
তাদের স্পষ্ট ঘোষণা, “খসড়া অধ্যাদেশে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত না করা হলে তারা ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করবেন না। তবে যেসব শিক্ষাবর্ষ এখনো কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাদের কার্যক্রম যথারীতি চলবে।”