শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আপনাদের পাশে চাই : যবিপ্রবি উপাচার্য

যবিপ্রবি প্রতিনিধি: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে যবিপ্রবির অর্জন ঈর্ষনীয়। কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পা দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা ও গবেষণায় ইতোমধ্যে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে জায়গা করে নিয়েছে। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আমি আপনাদেরসহ যশোরের সকল শুভানুধ্যয়ী ও বিদ্যানুরাগীদের পাশে চাই। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় যবিপ্রবির […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৫১


যবিপ্রবি প্রতিনিধি:

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে যবিপ্রবির অর্জন ঈর্ষনীয়। কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পা দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা ও গবেষণায় ইতোমধ্যে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে জায়গা করে নিয়েছে। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আমি আপনাদেরসহ যশোরের সকল শুভানুধ্যয়ী ও বিদ্যানুরাগীদের পাশে চাই।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় যবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত “শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নের লক্ষ্যে” সাংবাদিকবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ সাংবাদিকদের প্রতি এ আহ্বান জানান। সূচনা বক্তব্যে তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে ২০২৪-এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে যাঁরা শহিদ হয়েছেন তাঁদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। আর ২০২৪-এর আন্দোলনে যাঁরা আহত হয়ে এখনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন, তাদের আশু সুস্থতা কামনা করেন।

মতবিনিময় সভায় অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিয়ে বলেন, যোগদান পরবর্তী সময় থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি পূরণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্ঠা করে যাচ্ছি। আমার মূল লক্ষ্য হলো যবিপ্রবি-কে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্বমানে উন্নীতকরণ এবং উন্নত শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তরিত করা।

শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তরিত করতে শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নের লক্ষ্যে ন্যাশনাল কনফারেন্স, উচ্চশিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজনের ধারা অব্যহত থাকবে। জুলাই উদযাপনের কার্যক্রম হিসেবে জুলাই কর্ণারের কাজ চলমান আছে।

এছাড়াও, যবিপ্রবির প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর যেটি অত্যন্ত অযত্ন্ন ও অবহেলায় পড়ে ছিল, সেটিকে সম্মানের সাথে সুন্দরভাবে পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে। সেই সাথে নামফলক বরাবর দৃষ্টিনন্দন নতুন গেইটের ডিজাইন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যার কাজও দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

যবিপ্রবি উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবী প্রেক্ষিতে যবিপ্রবি’র দুইটি নতুন হল চালু, লিফট এর সমস্যা সমাধান, শিক্ষার্থীদের জন্য হলের ভেতরে সকল ধরণের নাগরিক সুবিধা চালু, সকল হলের ডাইনিং আধুনিকীকরণ, বিভিন্ন ভবনের নাম পরিবর্তন, রাস্তা ও ফুটপাত সংস্কার ও প্রশস্তকরণ, পরিবহন সমস্যার স্থায়ী সমাধান, পরিবহন পুলে যানবাহন সংখ্যা বৃদ্ধি, বিভিন্ন রুটে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পরিবহন সংযোজন. বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া চালু,

প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের কনফারেন্স রুম আধুনিকায়ন, একাডেমিক ভবনের ক্যান্টিন পুনঃসংস্কার, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত প্রকাশের জন্য অনলাইন ভিত্তিক কার্যক্রম আধুনিকায়ন, সার্বক্ষণিক জরুরী সেবা প্রদানের লক্ষ্যে জরুরী সেবা কেন্দ্র চালু, যবিপ্রবির ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরলস প্রচেষ্টায় গত ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল (বিভিসি) এর আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন লাভসহ নানা ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণের জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়কে র‌্যাগিং ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মোতাবেক রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও শিক্ষামুখী করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এবারই বৃত্তি প্রদানের জন্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং বৃত্তির পরিমাণ উভয়ই বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এছাড়াও যবিপ্রবির স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করার লক্ষ্যে রিসার্চ ফেলোশিপ চালু করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যবিপ্রবিতে সেন্টার ফর ট্রেইনিং অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট (সিটিএসডি) যাত্রা শুরু করেছে। যশোরের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা যেন এই সুবিধা পেতে পারে সে লক্ষ্যে যশোর শহরে এই সেন্টারের একটি শাখা খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের বেকারত্বের হার হ্রাসকরণে ও কর্মসংস্থানের অভাব দূরীকরণে যবিপ্রবি ইনোভেশন অ্যান্ড স্টার্ট-আপ সাপোর্ট সেল গঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)। আইকিউএসি সেলকে সহায়তা করতে গঠন করা হয়েছে অ্যাক্রেডিটেশন সাপোর্ট সেল।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গ ও বৃহত্তর যশোর জেলার জনমানুষের কল্যাণে যবিপ্রবি কাজ করে যাবে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ আগস্ট যবিপ্রবির উদ্ভাবিত আধুনিক ও উন্নতমানের-রোগমুক্ত জারবেরা ফুলের অনুচারা ফুলের রাজ্য খ্যাত গদখালির পানিসারার মাঠ পর্যায়ে সরাসরি নিয়োজিত বাণিজ্যিক ফুলচাষীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। যশোরের মানুষের কল্যাণে দ্রুতই যশোর শহরস্ত নির্ধারিত স্থানে ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের আওতায় ফিজিও কেয়ার খোলা হবে।

এছাড়াও নার্সিং কেয়ার খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে মলিকুলার রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনিস্টিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে যবিপ্রবি। উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ব্রাকিশ ওয়াটার সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে সাতক্ষিরায় “কোস্টাল অ্যান্ড ব্রাকিশওয়াটার সেন্টার” স্থাপন করা হবে। ‘যশোরের যশ খেজুরের রস’ এই ক্রমহ্রাসমান ঐতিহ্য রক্ষার জন্য খেজুরের জাত উন্নয়ন, বাণিজ্যিকভাবে খেজুরের গাছ চাষের প্রসার, খেজুরের রস, গুড় ও পাটালি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্র তৈরির বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার আওতাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভবিষ্যতে Pilot Workshop for Light Engineering Industry ¯’vcb, Regional Energy Research Hub স্থাপন Ges ২ টি Research Building স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও, বর্তমান বিশ্বে অধিক চাহিদা সম্পন্ন Nanotechnology বিভাগ, Aerospace Engineering বিভাগ, Artificial Intelligence (AI) বিভাগসহ বেশ কয়েকটি বিভাগ নতুভাবে খোলার পরিকল্পনা আছে।

যবিপ্রবি উপাচার্য শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে সাংবাদিকদের পাশে থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, যবিপ্রবির আয়তন মাত্র ৩৫ একর। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মপরিধি ও কলেবর ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতো অল্প জায়গায় ক্রমবিকাশমান শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণ করা অতীব প্রয়োজন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) নতুন প্রজেক্ট প্রোপোজাল পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে উক্ত প্রোপোজালটির কিছু বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে পুনরায় প্রেরণের জন্য ইউজিসি থেকেও পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। প্রোপোজাল সংশোধনীর কাজ চলমান রয়েছে।

অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধিত প্রোপোজালটি ইউজিসি-তে প্রেরণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বৃহত্তর যশোরবাসীর প্রাণের দাবী। এজন্য আপনাদের মাধ্যমে আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও এ বিশ্ববিদালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

যশোরের শিক্ষা ও সংস্কৃতির ইতিহাস অনেক পুরোনো। আপনাদের দীর্ঘদিনের দাবী এবং আকাঙ্খার ফলস্বরূপ এই প্রাণের বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যদিও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এই বিশ্ববিদ্যালয়কে পিছিয়ে দিতে এবং প্রশাসনকে জনসমক্ষে অকার্যকর প্রমাণ করতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরণের ষড়যন্ত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিভিন্ন অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তবুও আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতি ধরে রাখার জন্য আমি আপনাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। আপনাদের সকলের সাহায্য ও সমর্থনে যবিপ্রবি শিক্ষা ও গবেষণায় আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মতিবিনিময় সভায় সাংবাদিকবৃন্দ বিভিন্ন গঠনমূলক প্রশ্ন ও পরামর্শ দেন। যবিপ্রবির প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রশ্ন ও পরামর্শগুলো ইতিবাচক গ্রহণ করে ভবিষ্যতে তা কার্যকর করার জন্য লিপিবদ্ধ করা হয়।

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।