রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য ড. মাঈন উদ্দিন খানকে লাঞ্ছনার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রাধ্যক্ষ পরিষদ। এতে ঘটনায় জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কারও দাবি করা হয়। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ড. শরমিন হামিদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) দাপ্তরিক কার্যক্রম সমাপ্ত করে দুপুরের খাবারের উদ্দেশ্যে বাসায় যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠেন। এমতাবস্থায়, কতিপয় ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসী জোরপূর্বক তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেয়। তবে তারা এখানেই ক্ষান্ত হয়নি: উপ-উপাচার্য মহোদয়কে অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্যের মাধ্যমে অসম্মানিত করে এবং তাঁর গাড়ির ওপর ভিক্ষার টাকা ছুড়ে বিদ্রুপ প্রদর্শন করে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য উপ-উপাচার্য মহোদয় পায়ে হেঁটে নিজ বাসভবনে রওনা দেন। কিন্তু উশৃঙ্খল ছাত্ররা তাঁর বাসভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে সেটি বন্ধ করে দেয়। উপ-উপাচার্য মহোদয় উপায়ান্তর না দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাসভবন ও ক্লাব হিসেবে পরিচিত জুবেরী ভবনে আশ্রয় গ্রহণের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
জুবেরী ভবনে যাওয়ার পথে উশৃঙ্খল ছাত্ররা তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন অশালীন কটূক্তি করে, শারীরিকভাবে ধস্তাধস্তি ও লাঞ্ছিত করে। এ সময় উপ-উপাচার্য মহোদয়ের সঙ্গে থাকা প্রক্টর, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ ও ব্যক্তিগত সহকারীও শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হন।
আরও বলা হয়েছে, পরিস্থিতি আরও ন্যাক্কারজনক রূপ ধারণ করে যখন উক্ত ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীরা প্রক্টর মহোদয়ের পকেট থেকে দশ হাজার টাকা এবং হাতে থাকা ঘড়ি পর্যন্ত ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে উপ-উপাচার্য মহোদয় জুবেরী ভবনের দোতলার একটি কক্ষে আশ্রয় নিতে গেলে তাঁকে পুনরায় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়: এমনকি তাঁর গলা চেপে ধরা হয় এবং ধাক্কা মেরে সিঁড়িতে ফেলে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে জুবেরী ভবনেরে ঐ কক্ষে উপ-উপাচার্য মহোদয়সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। উশৃঙ্খল ছাত্ররা তাদের দাবির পক্ষে ঘোষণা দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের মাত্র ১০ মিনিট সময় বেঁধে দেয়। একপর্যায়ে তারা উক্ত কক্ষে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং খাবার পানির সরবরাহও বন্ধ করে দেয়। জুবেরী ভবন একটি আবাসিক ভবন ও শিক্ষকদের ক্লাব, যেখানে বহু পরিবার বসবাস করে, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত।
উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থীরা সেখানে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি ও অরুচিকর স্লোগান প্রদান করে। এর ফলে ঐ ভবনে বসবাসকারী পরিবারগুলো আতঙ্কিত হয়ে নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক প্রাঙ্গণে এমন অমানবিক ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও কল্পনাতীত।
যে সকল ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে আবাসিক ভবনে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক সৃষ্টির মতো ঘৃণ্য ও হীন কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে-তাদের এ ন্যাক্কারজনক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রোভস্ট কাউন্সিল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে কাউন্সিল সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করছে।