ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন ফাতিমা তাসনিম জুমা। শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার ৬৩১ ভোট, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৪৭০ ভোট।
যদিও জুমা শিবিরের প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি নিজেকে পরিচয় দেন ‘ইনকিলাব মঞ্চের’ কর্মী হিসেবে। ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি ইনকিলাবের জুমা।” সেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে ছাত্রদল করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত শরিফ ওসমান হাদির নেতৃত্বাধীন ইনকিলাব মঞ্চকে বেছে নেন।
জুমা জানান, জুলাই আন্দোলনের আগে তিনি ছিলেন রাজনৈতিকভাবে সচেতন কিন্তু সক্রিয় নন। স্বৈরাচার হাসিনার পতনের পর তিনি রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে ছাত্রদলে যোগদানের চিন্তা করলেও, ছাত্রদল ক্ষমতার ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ায় তিনি তাদের বিরোধী অবস্থান থেকে ইনকিলাব মঞ্চে যুক্ত হন। তার ভাষায়, “বরাবর আমি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করাদের দলে থাকতে চেয়েছি। সেই তাড়নায় কালচারাল ফ্যাসিজমকে এড্রেস করা ইনকিলাব মঞ্চ হয়ে উঠে আমার ভয়েস তোলার জায়গা।”
নিজের রাজনৈতিক বিকাশ নিয়ে তিনি লেখেন, “পলিটিক্যাল পার্টি ছাড়া পলিটিক্স শুরু করা আমার পলিটিক্যাল বয়স দেড় বছর। এই দেড় বছরে আমার গ্রুমিং হয়েছে হাদি ভাই, জাবের ভাইদের মতো মানুষের হাতে। ইনডিড আমি লাকিয়েস্ট।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নানা প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচারের মধ্যেও ইনকিলাব মঞ্চ, পরিবার ও সহযোদ্ধাদের অবিচল সমর্থন তাকে শক্তি দিয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, “প্রচণ্ড ভাঙাচোরা জুমাকে আজকের স্ট্রংগেস্ট জুমা বানিয়েছে এই কয়েকজন।”
ডাকসুর নবনির্বাচিত এই নেত্রী বলেন,
“যে মানুষগুলোর শ্রমের বিনিময়ে রাষ্ট্রের মালিকানার অংশীজন হয় এলিটরা, তাদের শরিকানা দেওয়ার বেলায় যতো টালবাহানা। এই শরিকানাটুকু নিশ্চিত করতে, শহিদদের সিলসিলা জারি রাখতে জুমা মাঠে মাটি কামড়ে পড়ে ছিল, আছে, সামনেও ইনশাআল্লাহ থাকবে।”
তার লক্ষ্য, বাংলার নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা এবং অহংকার, অহমিকা ও হিংসা থেকে দূরে থেকে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। শেষ পর্যন্ত তিনি দোয়া প্রার্থনা করেছেন যেন ইনকিলাব মঞ্চ ও তার আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে বাংলাদেশের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন।