বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

গকসু নির্বাচন : ভিপি পদে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ

গবি সংবাদদাতা: গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে মনোনয়ন নেওয়া একাধিক প্রার্থীর রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থীদের তালিকা যাচাই করে দেখা গিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে মনোনয়ন নিয়েছেন ১০ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু এদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। গকসুর গঠনতন্ত্রের […]

নিউজ ডেস্ক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৯

গবি সংবাদদাতা:

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে মনোনয়ন নেওয়া একাধিক প্রার্থীর রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

প্রার্থীদের তালিকা যাচাই করে দেখা গিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে মনোনয়ন নিয়েছেন ১০ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু এদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

গকসুর গঠনতন্ত্রের ১৭(খ) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে—কোনো রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনে যোগ দিলে বা ওই সংগঠনের পদে থাকলে প্রার্থীর সদস্যপদ বাতিল হবে। তবে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন বলেছে, লিখিত অভিযোগ বা প্রমাণ না থাকায় এখনই কাউকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়নি।

এ নিয়ে ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ের শিক্ষার্থীরা প্রার্থী হচ্ছেন?

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ক্যাম্পাসে কমিটি গঠন করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সেই কমিটির সভাপতি মো: নির্জন গকসু নির্বাচনের ভিপি পদের মনোনয়ন নিয়েছেন। তিনি আইন বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।

নির্জন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের একটি কমিটি থাকলেও প্রশাসন সেটিকে বৈধতা দেয়নি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোনো দলীয় কার্যক্রম করিনি। দীর্ঘ সাত বছর পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ। গঠনতন্ত্রে শুধু দলীয় রাজনীতি নয়, আরও নানা বিষয়ে কথা বলেছে—সব আইন কি মানা হচ্ছে?”

তিনি আরো বলেন, “একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমারও তো প্রার্থী হওয়ার অধিকার আছে। তিনি যোগ করেন, শিক্ষার্থীদের মনোভাবকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন এবং তারা যদি দলীয় রাজনীতি না চান তবে তিনিও তা সমর্থন করবেন না।”

একই বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী, ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খোদার নুর রনি মনোনয়ন নিলেও শিক্ষাবিরতির কারণে প্রাথমিকভাবে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন।

আইন বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের আরেক শিক্ষার্থী রাকিব মুসুল্লিও ভিপি পদে লড়ছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ঘনিষ্ঠ ’জয় বাংলা’ ক্লাবের সভাপতি, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতেন। তার এ সংক্রান্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে রাকিবের দাবি, ‘জয় বাংলা’ ক্লাব একটি ক্রীড়া সংগঠন, রাজনৈতিক নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্থানীয় এমপি মহিবুর রহমান মহিবের সঙ্গে পারিবারিক আত্মীয়তার সূত্রে একবার তার নির্বাচনে কাজ করতে হয়েছিল। এটা নৌকা প্রতীকের কারণে নয়, উনি যেকোনো প্রতীকে আসলেও একইভাবে করতাম। স্থানীয় ভাইস চেয়ারম্যান আমাকে সন্তান বলে সম্বোধন করতেন, যোগাযোগ থাকলেও কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। আওয়ামী লীগের কোনো অঙ্গসংগঠনের সঙ্গেও কখনো যুক্ত ছিলাম না। উল্টো আমি সক্রিয়ভাবে জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছি, আমার সহযোদ্ধারা সাক্ষী।”

আরেক প্রার্থী রাজিব হোসেন ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের কর্মী হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতেন। তবে জুলাই আন্দোলন চলাকালে তিনি আন্দোলনের পক্ষে ভূমিকা রাখেন। তিনি ফলিত গণিত বিভাগের ৭ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।

রাজিব জানান, ৫ আগস্টের আগে তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে কোনো পদে ছিলেন না।

তিনি বলেন, “আমাদের গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট বলা আছে, পদধারীরা নির্বাচন করতে পারবে না। আমি সাবেক সাংসদ সাইফুল ইসলামের নির্বাচনে কাজ করেছিলাম, কিন্তু তখন তিনি অপরাধে জড়াননি। পরে যখন জুলাই আন্দোলন শুরু হয়, তখন তাদের বিপক্ষে আমিই প্রথম দাঁড়াই। আমি ন্যায়ের পক্ষে ছিলাম এবং স্থানীয় শক্তির বিরুদ্ধেও আন্দোলনে সবাইকে সম্পৃক্ত করি। ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতি আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আমার শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকা পর্যন্তও আমি এর বিরোধিতা করব।”

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে অপর ভিপি পদপ্রার্থী নাসিমের বিরুদ্ধে। তিনি রসায়ন বিভাগের ৭ম সেমিস্টারে অধ্যায়নরত আছেন।

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমার বেড়ে ওঠা। চরম আওয়ামী দুঃশাসনের মধ্যেও আমি আওয়ামী বিরোধী অবস্থান ধরে রেখেছি। সেই সময় থেকেই ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিটি শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। বহু আন্দোলনে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নিয়েছি, বক্তব্য রেখেছি; তবে কোনো বিশেষ দলীয় কার্যক্রম বা এজেন্ডা বাস্তবায়নে কখনো যুক্ত হইনি।”

তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের পর গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) গঠিত হলে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সহ প্রায় ৩৫ জন সেদিনই প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করি।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আরেক ভিপি প্রার্থী ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান। তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তিনি সাভারের সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ এর কর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক সভাতেও সরব উপস্থিতি ও সদ্য গ্রেফতার হওয়া ছাত্রলীগ নেতা ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন বলেও জানা যায়।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “গ্রেফতার হওয়া ছাত্রলীগ নেতা ইমন আমার আপন ফুপাতো ভাই। তিনি ছাত্রলীগ করতেন এবং আওয়ামী লীগ নেতা মুরাদ জংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আত্মীয়তার কারণে অনেক সময় তার কথা ফেলতে পারিনি, তাই সর্বোচ্চ এক-দুবার দলীয় কর্মসূচিতে যেতে হয়েছে।”

অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই, কোনো পদ-পদবিও নেই। বরং জুলাই আন্দোলনেও আমি সক্রিয় ছিলাম। ইমন ভাইয়ের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকার কারণে বিভিন্ন মহলে আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে।”

আইন বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের প্রার্থী রিফাত আল মুক্তাদির। তিনি জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিভিন্ন সময়ে নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রচারণা চালিয়ে থাকেন।

পারিবারিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে রিফাত জানান, “আমার পরিবার রাজনীতির সাথে জড়িত। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত না। একজনের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে, তবে আমি তো কোনো রাজনৈতিক দলের পদে ছিলাম না! আমি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগামীও নই। এমনকি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে আমার সম্পৃক্ততা কেউ প্রমাণ করতেও পারবে না। কেউ যদি কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবি দেখাতে পারে, আমি গকসু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবো।”

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় প্রার্থীতা বাতিল হবে কিনা প্রশ্নে রিটার্নিং অফিসার ও উপাচার্য ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্যও দেননি তারা।

রিটার্নিং অফিসারের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, “যেসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রার্থীকে যোগ্য বিবেচনা করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। এখানে আলাদা কোনো তথ্য সংযোজনের এখতিয়ার আমাদের নাই। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা কোনো শাস্তি প্রাপ্তসহ এমন কোনো তথ্য থাকলে তা নিশ্চিত করবে প্রশাসন (রেজিস্ট্রার)। তাদের পক্ষ হতে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের যোগ্য বলা হয়েছে।”

লিখিত অভিযোগের ব্যপারে তারা জানান, কারো বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ আসেনি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আবুল হোসেন বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অফিশিয়াল সম্পৃক্ততার তথ্য নেই।”

তিনি জানান, “তাদের কার্যক্রম মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কখনো দেখা যায়নি। তবে বাইরে তারা বিভিন্ন দলে যুক্ত হতে পারে, সেটি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো হয়, তাহলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি আমরা আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পর্যালোচনা করেছি। কোনো প্রমাণিত বা অফিশিয়াল তথ্য ছাড়া তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত ভিত্তি নেই। তাই তাদের প্রার্থীতা বাতিল করার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই। এটি সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত।”

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার […]

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:০৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আলতাফ হোসেন শরিফ ওসমান হাদিকে কটূক্তিমূলকভাবে ‘জংলি’ আখ্যা দেন।

ওই পোস্টে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে হাদির নাম জড়িয়ে মন্তব্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের মতে চরম অবমাননাকর ও উসকানিমূলক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—‘হাদিকে যিনি জংলি বলেন, তিনি নিজেই জঞ্জাল’, ‘আপনি জংলি কাকে বলেন? জুলাই যোদ্ধাকে?’, ‘হাদি ভাইয়ের মতো আমরা সবাই জংলি, এই জঙ্গলে আমরা এমন শিক্ষক চাই না’—ইত্যাদি।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অপতৎপরতা বন্ধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা,

ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদির নামে হল বা স্থাপনার নামকরণ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন বিপ্লবীকে ‘জংলি’ বলা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং দেশের জন্য আত্মত্যাগ ও জাতির সম্মানকে অপমান করার শামিল। তারা দাবি করেন, যিনি জাতির বিবেক গঠনের দায়িত্বে আছেন, তাঁর কাছ থেকে এমন ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ক্যাম্পাসে আবারও ফ্যাসিবাদী মানসিকতা মাথাচাড়া দিতে পারে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন বর্তমানে স্কটল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

নাফিউল করিম হত্যাকারীর বিচারের দাবিতে গবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

সানজিদা খানম উর্মি, গবি প্রতিনিধি: সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ফার্মেসী বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিউল করিম সোহান (২৩) হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর)  দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বর থেকে শুরু করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাইশমাইলে ‘জ্ঞানের প্রবেশদ্বার’ সংলগ্ন গেইটের সামনে অবস্থান করে মানববন্ধন পালন করেন […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০:৩৬

সানজিদা খানম উর্মি, গবি প্রতিনিধি:

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ফার্মেসী বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিউল করিম সোহান (২৩) হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর)  দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বর থেকে শুরু করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাইশমাইলে ‘জ্ঞানের প্রবেশদ্বার’ সংলগ্ন গেইটের সামনে অবস্থান করে মানববন্ধন পালন করেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এ সময় তারা ‘নাফিউল হত্যার বিচার চাই, ঘাতকদের ফাঁসি চাই’, ‘ঘাতকদের গ্রেফতার করো, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করো’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ স্লোগান দিতে থাকেন।

বিচারের দাবি জানিয়ে নাফিউলের সহপাঠী শফিকুল ইসলাম শিপন বলেন, ‘আমার বন্ধুকে বারবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল, আর আজ সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডে আমরা ছাত্র সমাজ শোকাহত ও ক্ষুব্ধ। এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

পুলিশ ও প্রশাসনের তালবাহানা আমরা মেনে নেব না। নাফিউলের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার না হলে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব। সুষ্ঠু বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে আমরা ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক থেকে পাবনা কোর্ট পর্যন্ত যাব।’

ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) কোষাধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুর রহিম বলেন, ‘নাফিউল করিমকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে। আরও উদ্বেগের বিষয়—এই হত্যাকাণ্ডকে তাঁর কাকা, কাকাতো ভাই ও ভাতিজাবউ গোপন করার চেষ্টা করেছেন। নাফিউলের পরিবার বাড়তি অভিযোগ দিয়েছে এবং মামলা তুলতে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রশাসনকে জানাতে চাই,

আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় না আনা হলে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র সমাজ কঠোর অবস্থানে যাবে। আমরা দাবি করি, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে সঠিক তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি নাফিউলের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

ফার্মেসী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোছা: রোজিনা পারুল বলেন, ‘নাফিউলের অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। মাত্র ছয় মাসের মাথায় আমরা আমাদের বিভাগের এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ফার্মেসি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা দৃঢ়ভাবে দাবি জানাচ্ছি—এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে মর্মাহত, কারণ আমরা আমাদের একজন কৃতী ছাত্রকে হারিয়েছি। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাই। তার পরিবারের কাছ থেকে আমরা আরও জেনেছি যে,

অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের গড়িমসি চলছে। তাই প্রয়োজন হলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি জিডি করার উদ্যোগ নেব, যাতে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।’

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো: ওহিদুজ্জামান, ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, নিহত নাফিউল করিম সোহান পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া গ্রামের রেজাউল করিম-নাসিমা আক্তার দম্পতির সন্তান। তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।