রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

গকসু নির্বাচন : ভিপি পদে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ

গবি সংবাদদাতা: গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে মনোনয়ন নেওয়া একাধিক প্রার্থীর রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থীদের তালিকা যাচাই করে দেখা গিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে মনোনয়ন নিয়েছেন ১০ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু এদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। গকসুর গঠনতন্ত্রের […]

নিউজ ডেস্ক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৯

গবি সংবাদদাতা:

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে মনোনয়ন নেওয়া একাধিক প্রার্থীর রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

প্রার্থীদের তালিকা যাচাই করে দেখা গিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে মনোনয়ন নিয়েছেন ১০ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু এদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

গকসুর গঠনতন্ত্রের ১৭(খ) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে—কোনো রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনে যোগ দিলে বা ওই সংগঠনের পদে থাকলে প্রার্থীর সদস্যপদ বাতিল হবে। তবে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন বলেছে, লিখিত অভিযোগ বা প্রমাণ না থাকায় এখনই কাউকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়নি।

এ নিয়ে ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ের শিক্ষার্থীরা প্রার্থী হচ্ছেন?

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ক্যাম্পাসে কমিটি গঠন করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সেই কমিটির সভাপতি মো: নির্জন গকসু নির্বাচনের ভিপি পদের মনোনয়ন নিয়েছেন। তিনি আইন বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।

নির্জন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের একটি কমিটি থাকলেও প্রশাসন সেটিকে বৈধতা দেয়নি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোনো দলীয় কার্যক্রম করিনি। দীর্ঘ সাত বছর পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ। গঠনতন্ত্রে শুধু দলীয় রাজনীতি নয়, আরও নানা বিষয়ে কথা বলেছে—সব আইন কি মানা হচ্ছে?”

তিনি আরো বলেন, “একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমারও তো প্রার্থী হওয়ার অধিকার আছে। তিনি যোগ করেন, শিক্ষার্থীদের মনোভাবকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন এবং তারা যদি দলীয় রাজনীতি না চান তবে তিনিও তা সমর্থন করবেন না।”

একই বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী, ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খোদার নুর রনি মনোনয়ন নিলেও শিক্ষাবিরতির কারণে প্রাথমিকভাবে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন।

আইন বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের আরেক শিক্ষার্থী রাকিব মুসুল্লিও ভিপি পদে লড়ছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ঘনিষ্ঠ ’জয় বাংলা’ ক্লাবের সভাপতি, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতেন। তার এ সংক্রান্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে রাকিবের দাবি, ‘জয় বাংলা’ ক্লাব একটি ক্রীড়া সংগঠন, রাজনৈতিক নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্থানীয় এমপি মহিবুর রহমান মহিবের সঙ্গে পারিবারিক আত্মীয়তার সূত্রে একবার তার নির্বাচনে কাজ করতে হয়েছিল। এটা নৌকা প্রতীকের কারণে নয়, উনি যেকোনো প্রতীকে আসলেও একইভাবে করতাম। স্থানীয় ভাইস চেয়ারম্যান আমাকে সন্তান বলে সম্বোধন করতেন, যোগাযোগ থাকলেও কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। আওয়ামী লীগের কোনো অঙ্গসংগঠনের সঙ্গেও কখনো যুক্ত ছিলাম না। উল্টো আমি সক্রিয়ভাবে জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছি, আমার সহযোদ্ধারা সাক্ষী।”

আরেক প্রার্থী রাজিব হোসেন ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের কর্মী হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতেন। তবে জুলাই আন্দোলন চলাকালে তিনি আন্দোলনের পক্ষে ভূমিকা রাখেন। তিনি ফলিত গণিত বিভাগের ৭ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।

রাজিব জানান, ৫ আগস্টের আগে তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে কোনো পদে ছিলেন না।

তিনি বলেন, “আমাদের গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট বলা আছে, পদধারীরা নির্বাচন করতে পারবে না। আমি সাবেক সাংসদ সাইফুল ইসলামের নির্বাচনে কাজ করেছিলাম, কিন্তু তখন তিনি অপরাধে জড়াননি। পরে যখন জুলাই আন্দোলন শুরু হয়, তখন তাদের বিপক্ষে আমিই প্রথম দাঁড়াই। আমি ন্যায়ের পক্ষে ছিলাম এবং স্থানীয় শক্তির বিরুদ্ধেও আন্দোলনে সবাইকে সম্পৃক্ত করি। ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতি আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আমার শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকা পর্যন্তও আমি এর বিরোধিতা করব।”

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে অপর ভিপি পদপ্রার্থী নাসিমের বিরুদ্ধে। তিনি রসায়ন বিভাগের ৭ম সেমিস্টারে অধ্যায়নরত আছেন।

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমার বেড়ে ওঠা। চরম আওয়ামী দুঃশাসনের মধ্যেও আমি আওয়ামী বিরোধী অবস্থান ধরে রেখেছি। সেই সময় থেকেই ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিটি শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। বহু আন্দোলনে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নিয়েছি, বক্তব্য রেখেছি; তবে কোনো বিশেষ দলীয় কার্যক্রম বা এজেন্ডা বাস্তবায়নে কখনো যুক্ত হইনি।”

তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের পর গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) গঠিত হলে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সহ প্রায় ৩৫ জন সেদিনই প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করি।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আরেক ভিপি প্রার্থী ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান। তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তিনি সাভারের সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ এর কর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক সভাতেও সরব উপস্থিতি ও সদ্য গ্রেফতার হওয়া ছাত্রলীগ নেতা ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন বলেও জানা যায়।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “গ্রেফতার হওয়া ছাত্রলীগ নেতা ইমন আমার আপন ফুপাতো ভাই। তিনি ছাত্রলীগ করতেন এবং আওয়ামী লীগ নেতা মুরাদ জংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আত্মীয়তার কারণে অনেক সময় তার কথা ফেলতে পারিনি, তাই সর্বোচ্চ এক-দুবার দলীয় কর্মসূচিতে যেতে হয়েছে।”

অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই, কোনো পদ-পদবিও নেই। বরং জুলাই আন্দোলনেও আমি সক্রিয় ছিলাম। ইমন ভাইয়ের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকার কারণে বিভিন্ন মহলে আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে।”

আইন বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের প্রার্থী রিফাত আল মুক্তাদির। তিনি জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিভিন্ন সময়ে নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রচারণা চালিয়ে থাকেন।

পারিবারিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে রিফাত জানান, “আমার পরিবার রাজনীতির সাথে জড়িত। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত না। একজনের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে, তবে আমি তো কোনো রাজনৈতিক দলের পদে ছিলাম না! আমি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগামীও নই। এমনকি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে আমার সম্পৃক্ততা কেউ প্রমাণ করতেও পারবে না। কেউ যদি কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবি দেখাতে পারে, আমি গকসু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবো।”

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় প্রার্থীতা বাতিল হবে কিনা প্রশ্নে রিটার্নিং অফিসার ও উপাচার্য ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্যও দেননি তারা।

রিটার্নিং অফিসারের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, “যেসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রার্থীকে যোগ্য বিবেচনা করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। এখানে আলাদা কোনো তথ্য সংযোজনের এখতিয়ার আমাদের নাই। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা কোনো শাস্তি প্রাপ্তসহ এমন কোনো তথ্য থাকলে তা নিশ্চিত করবে প্রশাসন (রেজিস্ট্রার)। তাদের পক্ষ হতে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের যোগ্য বলা হয়েছে।”

লিখিত অভিযোগের ব্যপারে তারা জানান, কারো বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ আসেনি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আবুল হোসেন বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অফিশিয়াল সম্পৃক্ততার তথ্য নেই।”

তিনি জানান, “তাদের কার্যক্রম মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কখনো দেখা যায়নি। তবে বাইরে তারা বিভিন্ন দলে যুক্ত হতে পারে, সেটি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো হয়, তাহলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি আমরা আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পর্যালোচনা করেছি। কোনো প্রমাণিত বা অফিশিয়াল তথ্য ছাড়া তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত ভিত্তি নেই। তাই তাদের প্রার্থীতা বাতিল করার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই। এটি সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত।”

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।