হাবিবুর রহমান সাগর,জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোেট চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। শান্ত ও স্বাভাবিক পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলে স্থাপিত ২২৪টি বুথে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
ভোটার ও প্রার্থী সংখ্যা
এবারের জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮ জন এবং ছাত্র ৬ হাজার ১৫ জন।
কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি, ‘দ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ↓ ১৭৮ জন প্রার্থী।
সহসভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক
(জিএস) পদে ৯ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন।
একইসঙ্গে ২১টি হল সংসদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি হলে ১৫টি করে মোট ৩১৫টি পদের জন্য লড়ছেন ৪৭৭ জন প্রার্থী। তবে ছাত্রীদের ১০টি হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রার্থী নেই এবং ৬৭টি পদে একক প্রার্থী থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হচ্ছেন তারা। সে হিসেবে মাত্র ২৪টি পদে ভোট হবে।
প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী
জাকসুতে মোট আটটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে চারটি পূর্ণাঙ্গ এবং তিনটি আংশিক প্যানেল রয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ প্যানেল: ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল, ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’, প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের ‘সম্প্রীতির ঐক্য’, এবং গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ-সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’।
আংশিক প্যানেল: স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন, স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ, এবং ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের ‘সংশপ্তক পর্ষদ’। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ক্যাম্পাসে বিশেষ ব্যবস্থা
জাকসু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ক্যাম্পাসজুড়ে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত মীর মশাররফ হোসেন হল গেট ও প্রান্তিক গেট ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সব গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত
ক্যাম্পাসের ভাসমান দোকান, টারজান পয়েন্ট, পুরাতন পরিবহন চত্বর, মুরাদ চত্বর, প্রান্তিক গেট সংলগ্ন কাপড়ের মার্কেট এবং প্রধান গেটের দোকানগুলো বন্ধ থাকবে। তবে আবাসিক হলের ক্যান্টিন খোলা রাখা এবং পর্যাপ্ত খাবার মজুদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যা থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত (১২ সেপ্টেম্বর দুপুর পর্যন্ত) জরুরি বিভাগ ছাড়া সব
ধরনের মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের
স্টিকারযুক্ত গাড়ি এবং নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে।
আজ সব স্টাফ বাস প্রান্তিক গেট ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে।