দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। আগামীকাল (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ১১টি এবং ছাত্রীদের ১০টি হলে একযোগে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। এ নিয়ে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে বলে জানা গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগের রাতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, জাকসু নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে সংগঠনের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, “জাকসু নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে ষড়যন্ত্র শুরু। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপ্লবী শিক্ষার্থীরা সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। হাসবুনাল্লাহ।”
শিবির সভাপতির এ বক্তব্য নির্বাচনের আগমুহূর্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিন দশকেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত এই জাকসু নির্বাচন শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, পুরো দেশের ছাত্ররাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তৈরি করবে। ক্যাম্পাসে ছাত্রসংসদ পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া তোলার একটি বৈধ প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে।
অন্যদিকে নির্বাচনকে ঘিরে নানা গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। শিবির সভাপতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সেই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামীকালকের নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ বিরতির পর নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্য দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হবে বলেও আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।