কবি নজরুল কলেজ, প্রতিনিধি
রাজধানীর অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবি নজরুল সরকারি কলেজে মশার কামড়ে শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে।শ্রেণিকক্ষে, লাইব্রেরিতে কিংবা কলেজের আশেপাশে সব জায়গায় মশার উপদ্রবে শিক্ষার্থীদের জন্য পরিণত হয়েছে অসহনীয় দুর্ভোগ।
কলেজের রিডিং রুম, লাইব্রেরি, কমনরুম, মাঠের পাশে বসার স্থানে সর্বত্রই মশার উপদ্রব।এতো পরিমাণে মশা যাতে শিক্ষার্থীরা মশার যন্ত্রণায় ভুগছেন বিভিন্ন রোগে।কলেজের পাশে খোলা ড্রেন,ময়লার স্তূপ, পরিত্যক্ত জিনিস সহ বাথরুম গুলো অপরিষ্কার থাকর কারণে মশার উপদ্রব বেড়েছে। এজন্য প্রশাসন মশা নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বা ঔষধ ছিটাচ্ছেন না।
ক্যাম্পাসের এমন কোনো জায়গা পাওয়া যায় না,যেখানে মশার উপদ্রব নেই।দিনের বেলাও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রমের সময় মশা অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা।এমনকি মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে মশার কামড় খেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
বাংলা বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আবদুন নুর বলেন,মশার কথা বলতে গেলে বলতে হয় এ এক ভয়ঙ্কর নাম। এমনিতেই আমাদের কলেজ টা অনেক পুরানো তার মধ্যে সব জায়গায় পরিপূর্ণ আলো নেই, আর তার মধ্যে যদি ঠিকমত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকে তাহলে তো মশা জন্মাবেই। আমি যদি উল্লেখ করে বলতে চাই তাহলে আমাদের কলেজের সামনে যে ফুড কার্ড গুলো বসে এগুলো ফেলে যাওয়া ময়লা পানি জমে থাকে সেখান থেকে মশা জন্মায়, এবং কলেজের ময়লা পানি পার হওয়ার ড্রেন এতটাই বাজে অবস্থা যেখানে পানি জমে থাকে দিনের পর দিন। রাতের কথা নাই বললাম দিনের বেলায় কলেজের লাইব্রেরী এবং মাঠে কোথাও মশার যন্ত্রণায় বসা যায় না।
তিনি বলেন,এইতো অল্প কিছুদিন আগেও ডেঙ্গু মশার কামড়ে কলেজের বেশ কিছু শিক্ষার্থী জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হসপিটালে ভর্তি ছিল। তখনো কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় নি কলেজ প্রশাসনের।তাই প্রশাসনের প্রতি আহ্বান থাকবে কলেজের আঙ্গিনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা প্রতি আরো মনোযোগী হওয়ার এবং মশা যাতে না জন্মায় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার।
গণিত বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইউশাহ বিন আলম বলেন, কলেজের রিডিং রুম,লাইব্রেরি,বিতর্ক ক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির রুমেও দিনে রাতে সবসময় ব্যাপক মশা থাকে। রুমের ভিতর ছাড়াও ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে, মুক্তমঞ্চে সবখানে মশার উপস্থিতি। চারদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সকলে।এমন অবস্থায় ক্যাম্পাসে এতো মশার উপস্থিতি ভালো লক্ষন নয়।
রিডিং রুম ও লাইব্রেরিতে মশা তাড়ানোর কোনো ব্যবস্থা নেই কলেজ প্রশাসনের।
তিনি বলেন,সন্ধ্যার পরে রিডিং রুমে আমরা সকলে টাকা দিয়ে মশার কয়েল কিনে এনে কয়েল জ্বালিয়ে পড়াশোনা করি। কয়েলের ধোয়ায় অনেকেরই শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কিন্তু কিছু করার নেই মশার কামড় থেকে বাঁচতে, ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে কয়েল জ্বালানো ছাড়া উপায় নেই।
ক্যাম্পাসের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো নেই, রিডিং রুমের পাশেই ওয়াসরুমের বেহাল দশা, বিতর্ক ক্লাবরুমের পাশে পরিত্যাক্ত টেবিল ফেলে রাখা হয়েছে কয়েকমাস ধরে। এগুলোর নিছে পঁচা পানি জমে থাকে যার কারণে জম্ম নিচ্ছে মশা।
তিনি আরও বলেন, অধ্যক্ষ স্যারকে ওয়াসরুমের বিষয়ে অবগত করেছিলাম গত কয়েকদিন আগে যখন স্যার লাইব্রেরি পরিদর্শনে আসলেন তখন কিন্তু স্যার কোনো আশানূরুপ কথা না বলে দায়সারা বক্তব্য দিলেন।যদি ক্যাম্পাসে মশার কামড়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হলে এর দায়ভার কলেজ প্রশাসনকেই নিতে হবে।
এ বিষয়ে কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন,মশার সমস্যা নিয়ে আমরা একাধিকবার সিটি কর্পোরেশন কে চিঠি দিয়েছি কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।আর নিয়মিত ফগিং না করার কারণেই মশার উপদ্রব বেড়েছে।
তিনি বলেন,এই প্রতিষ্ঠান সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত। তারা ঔষধ কম দেওয়ার কারণে মশার এত উপদ্রব বেড়েছে তিনি এই বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের গাফিলতি বলে মনে করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন।