ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণের একদিন আগে শীর্ষ প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইডি ডিজেবল হয়ে পড়ায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার ভোট হওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই শিবির সমর্থিত ঐকবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম ও এজিএস প্রার্থী মহিউদ্দিন খানের আইডি হঠাৎ অচল হয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একই প্যানেলের গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রার্থী সাজ্জাদ হোসাইন খানের অ্যাকাউন্টও আক্রান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এরপর শেখ তানভীর বারী হামিমের আইডিও বিকল হয়ে পড়ে, যদিও পরে তিনি তা ফিরে পান। ফেসবুকে প্রথম এই অভিযোগ জানান তানভীর আল হাদী মায়েদ, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার আইডিও ডিজেবল হয়ে যায়। এতে করে নির্বাচন পূর্ববর্তী পরিবেশে সাইবার আক্রমণের অভিযোগ আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সাইবার অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। বিবৃতিতে বলা হয়,
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের প্রচারণাকালে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতীতের কর্মকাণ্ড নিয়ে সাইবার বুলিং এবং ব্যক্তিগত চরিত্রহননের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিশেষত ছাত্রী প্রার্থীদের নিয়েও নানাভাবে সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা ঘটছে, যা মানবাধিকার পরিপন্থি।”
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, কারও বিরুদ্ধে এমন অপরাধ প্রমাণিত হলে রিটার্নিং কর্মকর্তাগণের নেতৃত্বে গঠিত ডাকসু আচরণবিধি টাস্কফোর্স এবং সাইবার নিয়ন্ত্রণ সেলের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের সাইবার বুলিং বা অপপ্রচার বরদাশত করা হবে না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্ররাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। শিবির সমর্থিত প্যানেল দাবি করছে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, কোনো ধরনের অপরাধ ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই সাইবার ইস্যু ছাত্র সমাজে নতুন করে বিতর্ক ও উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।