জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী অমর্ত্য রায় জনের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রবিবার সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা
হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর ই-মেইলের মাধ্যমে নোটিশটি পাঠান।
নোটিশে বলা হয়, জাকসু নির্বাচনের গঠনতন্ত্রের ৪ ও ৮ ধারা অনুযায়ী অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বেআইনি, স্বেচ্ছাচারী এবং ন্যায়বিচারের নীতি ও সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩৮ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। একইসঙ্গে নোটিশ প্রাপ্তির ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রার্থিতা বহালের নিশ্চয়তা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায়, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আকারে উপস্থাপন করা হবে এবং এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।
প্রার্থিতা বাতিলের পটভূমি
গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এতে বলা হয়, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ও আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অমর্ত্য নিয়মিত শিক্ষার্থী নন। গঠনতন্ত্রের ৪ ও ৮ ধারা অনুযায়ী অনিয়মিত শিক্ষার্থীরা ভোটার বা প্রার্থী হতে পারেন না। তাই তার নাম ভোটার ও প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একে এম রাশিদুল আলম, সদস্য অধ্যাপক এম মাফরুহী সাত্তার ও অধ্যাপক লুৎফুল এলাহী স্বাক্ষর করেন। তবে কমিশনের আরেক সদস্য অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা স্বাক্ষর করেননি। তিনি জানান, অসুস্থ থাকায় মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত
সিন্ডিকেট সূত্রে জানা যায়, ১১ আগস্ট অমর্ত্য মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করলে একাডেমিক কাউন্সিল দেখে যে তিনি এখনো স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারেননি। বিশেষ করে ৪০৮ নম্বর কোর্সে দুইবার অকৃতকার্য হন। একাডেমিক কাউন্সিল বিশেষ বিবেচনায় তাকে পরীক্ষার সুযোগ দিলেও তাকে অনিয়মিত হিসেবে ধরা হয়। পরে এই তথ্য নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয় এবং তার ভিত্তিতেই প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
নির্বাচনী গঠনতন্ত্রের ৪ ধারায় বলা আছে, কেবলমাত্র নিয়মিত ও বৈধ শিক্ষার্থীরাই জাকসুর সদস্য এবং ভোটার হিসেবে বিবেচিত হবেন। অন্যদিকে, ৮ ধারায় উল্লেখ আছে, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করা শিক্ষার্থীরাই সংসদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
অমর্ত্যের প্রার্থিতা বাতিলের ঘোষণার পর শনিবার রাত ৯টায় ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত বলে অভিহিত করেছে।