ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী মাহিন সরকারকে মন্ত্রীপাড়ার চাপের মুখে প্যানেল থেকে সরতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একই প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী জামালুদ্দীন মুহাম্মদ খালিদ।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
জামালুদ্দীন খালিদ বলেন, ‘আমরা প্যানেল ঘোষণা করার আগ থেকেই এটি ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। মাহিন সরকার আমাদের সাথে যোগ দেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগেও তাকে প্যানেলে না আসার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম, তিনি শেষ পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাবেন।’
তিনি আরও জানান, ‘গতকাল মাহিন আমাকে ফোন দিয়ে বলেছেন, তার এলাকায় প্রতিনিয়ত হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা কান্নাকাটি করছেন। ফলে তার পক্ষে এখানে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। আমি তাকে বলেছি—এখন বসে গেলে নিজের রাজনৈতিক জীবনে শেষ পেরেক ঠুকে দেবেন। এটিই তার সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়।’
খালিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘শুরু থেকেই ব্যাপক চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। মাহিন আমাদের সঙ্গে থাকলেও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেননি। শুধু মাহিনই নয়, প্যানেলের অন্য সদস্যদের ওপরও মন্ত্রীপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা নির্বাচনে অংশ না নেন। এমনকি কারও ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে।’
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে খালিদ বলেন, প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে মাহিন সরকার নাকি জুলাই শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে আলাদা সারি ঘোষণা করেছে। তাহলে আমাদের সঙ্গে থাকা অন্যরা কি জুলাইয়ের শক্তি নয়? তারাও তো তখন অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদপ্রার্থী ফাতেহা শারমিন এ্যানি বলেন, কোনো একক ব্যক্তির কারণে আমরা ভাঙব না। আমরা মাঠে লড়াই করে তৈরি হয়েছি, দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির বিপক্ষে আমরা স্পষ্ট অবস্থানে আছি। ৯ সেপ্টেম্বর জয়ী হই বা না হই, মূলত আমরাই বিজয়ী।