কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি:
নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের জেরে শ্রমিকদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে কবি নজরুল সরকারি কলেজ নীলফামারী জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ শাখা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা তিনটায় কলেজের মূল ফটকে এই বিক্ষোভ প্রতিবাদ মিছিল করে।
নিহত শ্রমিকের নাম হাবিবুর রহমান (২১)। তিনি ইকু ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি নিটিং কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের কাজীরহাট গ্রামে,বাবার নাম দুলাল উদ্দিন।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন,নীলফামারী জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি,মোঃলতিফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক,মাসুমুল হক জয়।উপদেষ্টা,মোঃ মনিরুজ্জামান মনির।ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক,কামরুল ইসলাম কাননসহ কলেজ শাখার রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
নীলফামারী জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মোঃ লাতিফুল ইসলাম বলেন,নীলফামারী জেলা হলো দরিদ্র পীড়িত শহর সেখানকার মানুষ দিন আনে দিন খায় অর্থাৎ দিনমজুর।তারা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় এসে বসবাস করে। কিন্তু সেই জায়গায় তাদের যেই ন্যায্য দাবি দাওয়া আদায়ের মাঠে নামে তখন আজকে উগ্র প্রশাসন সেখানে হামলা চালায়।এখানে আমার প্রশ্ন হলো দুইটা এক,সেখানে তারা কি চাঁদাবাজি করতে গিয়েছে নাকি ন্যায্য দাবির জন্য গিয়েছে। তারা অবশ্যই তাদের ন্যায্য দাবির জন্য সেখানে গিয়েছে।দুই, তাদের উপর ডিরেক্ট গুলি চালানোর পরিবর্তে সাউন্ড গ্রেনেড বা টিয়ার সেল ছিলনা প্রশাসনের কাছে।
তিনি বলেন,সেখানে শ্রমিকদের উপর কেন ডিরেক্ট গুলি করা হলো তারা কি সেখানে ভাঙচুর করেছে নাকি চাঁদাবাজি করেছে। এখন যে শ্রমিক নিহত হয়েছে এর দায় কে নেবে।এর দায় কি প্রশাসন নিবে। এই সাহস তাদেরকে দেয় কে।তাদের এই সাহস নিশ্চয়ই ইনটেরিয়াম সরকার দেয়।যদি ইনটেরিয়াম এই সাহস দেয় তাহলে নিশ্চয়ই তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে।তার যে মৃত্যুর কারণ প্রশাসন তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
এসময়ে সাধারণ সম্পাদক,মাসুমুল হক জয় বলেন,আপনারা জানেন আজকে নীলফামারী ইপিজেডে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবির আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে গেলে সেনাবাহিনী তাদের উপর হামলা করে এবং এতে ১ জন নিহত ও ১০ জন আহত হন।যেই সেনাবাহিনী হওয়ার কথা ছিল মানুষের রক্ষাকর্তা।সেই সেনাবাহিনী কেন একজন মানুষের জীবননাশের কারণ হয়ে দাঁড়ালো।অন্তর্বর্তী সরকারের প্রদান উপদেষ্টার কাছে আমি এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য দাবি জানাই।
এছাড়াও ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক,মোঃকামরুল ইসলাম কানন বলেন,আপনারা জানেন নীলফামারী ইপিজেডে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে গেলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে নির্মমভাবে গুলি করা হত্যা করে।আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।জুলাই অভ্যুত্থানের পরে মানুষ তাদের ভোটাধিকার তাদের বাক স্বাধীনতা, ও ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য মাঠে আন্দোলন সংগ্রাম করতে পারে এবং মতামত প্রকাশ করতে পারে সেট কামনা করি।কিন্তু আপনারা দেখছেন নীলফামারী উত্তরা ইপিজেডে সেনাবাহিনীর উগ্র সৈনিকের গুলিতে সাধারণ শ্রমিকরা আহত ও নিহত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন,বাংলাদেশের কোন মানুষের রক্ত এভাবে ঝরালে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করলে আমরা ছাত্র সমাজ এভাবে বসে থাকব না। আমরা অনতিবিলম্বে বলতে চাচ্ছি এখানে দোষী সেনা কর্মকর্তা ও প্রশাসনের যারাই রক্ত ঝরিয়েছে তাদেরকে তদন্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।