রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

“প্রকৃতিকন্যা বাকৃবি : ৬৫ বছরের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যের যাত্রা”

বাকৃবি প্রতিনিধি  সবুজ শ্যামল প্রান্তর দ্বারা ময়মনসিংহের বুক চিরে বয়ে চলা প্রাচীন ব্রহ্মপুত্রের পশ্চিম তীরে বিস্তৃত। তারই কোলে দাঁড়িয়ে আছে এক স্বপ্নপুরী, এক আলোকদ্বীপ- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার ইতিহাসে যার অবদান নদীর জলের মতোই অবিরাম, স্থির অথচ প্রাণময়। গ্রামবাংলার প্রাণ-প্রকৃতি, কৃষকের ঘাম ও মাটির গন্ধে ভরা এই ক্যাম্পাস যেন প্রকৃতির নিজ হাতে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ আগস্ট ২০২৫, ০২:০৯

বাকৃবি প্রতিনিধি

 সবুজ শ্যামল প্রান্তর দ্বারা ময়মনসিংহের বুক চিরে বয়ে চলা প্রাচীন ব্রহ্মপুত্রের পশ্চিম তীরে বিস্তৃত। তারই কোলে দাঁড়িয়ে আছে এক স্বপ্নপুরী, এক আলোকদ্বীপ- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার ইতিহাসে যার অবদান নদীর জলের মতোই অবিরাম, স্থির অথচ প্রাণময়।

গ্রামবাংলার প্রাণ-প্রকৃতি, কৃষকের ঘাম ও মাটির গন্ধে ভরা এই ক্যাম্পাস যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক কাব্য। আজ এই বিশ্ববিদ্যালয় ৬৫ বছরে পা রাখল, এ যেন সংগ্রামী যাত্রায় মাটির সন্তানদের গৌরবময় মাইলফলক।

১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট। ব্রহ্মপুত্রের কোলঘেঁষে ১২শ একর জমির ওপর জন্ম নেয় কৃষিবিদ তৈরির এই স্বপ্নসিঁড়ি। ৬টি অনুষদ ও ৪৬টি বিভাগ নিয়ে যা আজ বিশ্বমানের গবেষণালয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি মোট ৫৭ হাজার ৮শ ৯ শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দিয়েছে।

যাদের মধ্যে স্নাতক ডিগ্রিধারী ৩২ হাজার ৯শ ১৭ জন, স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ২৩ হাজার ৮শ ৪৩ জন, পিএইচ.ডি ডিগ্রিধারী ১ হাজার ৪৯ জন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। আর তাঁদের পথপ্রদর্শক আছেন ৫শ ১৪ জন শিক্ষক।

শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পথ সুগম করতে এখানে রয়েছে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার যার বর্তমান সংগ্রহ সংখ্যা- পুস্তক ২ লক্ষ ৩১ হাজার ৯শ ৭২ ভলিউম (২২ হাজার ৬শ ১৬ টি থিসিস এবং ৪৭ হাজার ৬১ ভলিউম বাধাইকৃত সাময়িকী), ই-বুকস ৪১শ’টি টাইটেল এবং বিভিন্ন অনলাইন জার্নাল প্লাটফর্ম (যেমন- LiCoB, BIPC, Research4life, AGORA, HINARI, OARE, ARDI, GOALI, UDL, BANGLAJOL)।

শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য বর্তমানে রয়েছে মোট ১৪ টি হল। ছেলেদের জন্য আবাসিক হল রয়েছে ৯টি ও মেয়েদের জন্য আবাসিক হল রয়েছে ৫ টি। এছাড়াও মেয়েদের জন্য আরও ২টি হল নির্মাণধীন আছে।

শুধু সংখ্যা নয়, স্বপ্নের মাপকাঠিই হলো আসল গুণমান। তাই শিক্ষা ও গবেষণার মানদণ্ডে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করে বাকৃবি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ (টিএইচই) ২০২৫ সালের এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ৪০১-৫০০ এর মধ্যে অবস্থান করছে বাকৃবি।

ওয়েবমেট্রিক্সের সাম্প্রতিক র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম, দেশের পাবলিক-প্রাইভেট সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নবম, আর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ২৩২৩তম অবস্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই শিক্ষাঙ্গন।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠেছে কৃষিবিজ্ঞান ও গবেষণার উর্বর ক্ষেত্র। কৃষির প্রতিটি ধাপে আছে তাঁদের হাতের স্পর্শ। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ, লবণাক্ত সহিষ্ণু ধান, খরা সহিষ্ণু ফসল, উচ্চফলনশীল জাত, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, প্রাণিজ ভ্যাকসিন, আধুনিক যন্ত্রপাতি, এসবই বাকৃবির অবদান।

গবেষণাগারে জেগে ওঠা অসংখ্য উদ্ভাবনের মধ্যে আছে বাউধান-৬৩, বাউধান-২, বাউধান-৩; বাউকুল ‘সম্পন্ন’ ও ‘সম্বল’; শর্ষের জাত বাউ-এম/৩৯৫, বাউ-এম/৩৯৬, অল্টারনারিয়া ব্লাইট প্রতিরোধী বাউ শর্ষে-৪, ৫, ৬। আছে সয়াবিনের জাত ‘ডেভিস’, ‘ব্র্যাগ’, ‘সোহাগ’ ও ‘বিএস-৪’; আলুর জাত ‘কমলা সুন্দরী’ ও ‘তৃপ্তি’; কচুরমুখি ‘লতিরাজ’, ‘বিলাসী’, ‘দৌলতপুরী’; মিষ্টি আলুর তিনটি উন্নত জাত।

আছে সৌরতাপে বীজ রোগনিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি, শুকনো পদ্ধতিতে বোরো চাষ, অ্যারোবেক প্রযুক্তি, রাইজোবিয়াল জৈব সার,মাটি ও পানিতে ব্যবহারযোগ্য পরিবেশবান্ধব ছত্রাকনাশক ও সয়েল টেস্টিং কিট।

প্রাণিসম্পদ খাতে যোগ হয়েছে যুগান্তকারী সাফল্য। প্রাণিসেবা সহজ করতে তৈরি করা হয় মোবাইল অ্যাপ: ‘ডিজিটাল খামারি’। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউক্যাসলের ভ্যাক্সিন, গবাদিপশুর ম্যাসটাইটিসের ভ্যাক্সিন, ব্রুসেলা ভ্যাক্সিন, ফাউল কলেরার ভ্যাক্সিন, উন্নতজাতের পশুপাখি, প্রোবায়োটিক খাদ্য, ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন, ক্লোনিং প্রযুক্তি -সবই বাকৃবি গবেষকদের মেধার অবদান।

মৎস্য খাতেও সাফল্যের ব্যাপক সমারোহ আছে। দেশি মাছের কৃত্রিম প্রজনন, হাইব্রিড তেলাপিয়া ও মাগুর, খাঁচায় মাছ চাষ, ধানখেতে মাছ চাষ, মাছের জিনোম সিকোয়েন্স, পোনার ব্ল্যাক সোলজার খাদ্য প্রযুক্তি-সবই কৃষকের হাতে তুলে দেয়া হয় নতুন সম্ভাবনা।

১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম’ এবং ১৯৮৯ সালে গড়ে ওঠা ‘সম্প্রসারণ কেন্দ্র’ মাঠপর্যায়ে নিয়ে গেছে ল্যাবের উদ্ভাবনগুলো। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবিষ্কৃত বীজ, সার, মাছ চাষ পদ্ধতি কিংবা প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প সবই কৃষকের ঘরে পৌঁছে গেছে।

ক্যাম্পাসেই আছে দেশ-বিদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ফুড সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট, হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটসহ নানা প্রতিষ্ঠান এখানে গড়ে তুলেছে গবেষণার স্বর্ণক্ষেত্র।

এছাড়া দেশের প্রথম কৃষি জাদুঘর, উপমহাদেশের প্রথম মৎস্য জাদুঘর, প্রায় সাড়ে চার হাজার বৃক্ষের বোটানিক্যাল গার্ডেন আর ১১ হাজারেরও বেশি উদ্ভিদ প্রজাতির জার্মপ্লাজম সেন্টার-সব মিলিয়ে ক্যাম্পাস যেন এক জীবন্ত কৃষি-অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার।

২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট ভোরের আলো ফুঁড়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে উড়ল জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা। কবুতর অবমুক্ত হলো, বেজে উঠল আনন্দর‌্যালির ঢোল। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ আর সেমিনারে মুখর হলো ক্যাম্পাস।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে “গৌরবের ৬৪ বছর: অর্জন ও সম্ভাবনা” শীর্ষক আলোচনায় মিলল অতীতের সাফল্য আর ভবিষ্যতের স্বপ্নের রূপরেখা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ-মন্দিরে কৃষির অগ্রগতি ও দেশের কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা হলো আন্তরিকতায়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী তানজিলা হক বলেন, “বাকৃবি আমার কাছে কেবল একটা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এটা আমার দ্বিতীয় বাড়ি। প্রতিটি গাছ, প্রতিটি লেক, প্রতিটি গবেষণাগারে আমি যেন নিজের স্বপ্নকে বেড়ে উঠতে দেখি। যখন শুনি আমাদের উদ্ভাবিত নতুন ধান বা সবজির জাত কৃষকের মাঠে ফলছে, তখন বুক ভরে যায় গর্বে। আমি মনে করি এই মাটির সঙ্গে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার আত্মার যোগ রয়েছে।”

ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “আমি গ্রাম থেকে এসেছি। ছোটবেলায় গরু-ছাগল অসুস্থ হলে আমরা ভেবেছি, যদি কেউ সাহায্য করত! আজ সেই স্বপ্ন নিয়েই আমি বাকৃবিতে পড়ছি। এখানে দাঁড়িয়ে মনে হয় আমি শুধু ডাক্তার হচ্ছি না, আমি কৃষকের ভরসা হয়ে উঠছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনগুলো দেখলে বুঝি, আমি সঠিক জায়গায় এসেছি। এ জায়গার প্রতি আমার ভালোবাসা আজীবন বহন করব।”

মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, “আমাদের গ্রামে মাছ ধরা মানেই ছিল জীবনযুদ্ধ। বাকৃবিতে এসে দেখলাম মাছ শুধু খাবার নয়, এটা এক বিশাল সম্ভাবনা। যখন শুনি দেশি মাছের প্রজনন বা খাঁচায় মাছ চাষের প্রযুক্তি এখান থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন চোখে পানি চলে আসে। মনে হয় আমার বিশ্ববিদ্যালয় শুধু আমাকে গড়ে তুলছে না, পুরো বাংলাদেশকে গড়ে তুলছে।”

কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থী শিহাব উদ্দিন বলেন, “প্রথম দিন যখন এই ক্যাম্পাসে পা রাখি, মনে হয়েছিল আমি স্বপ্নের ভেতর ঢুকে গেছি। চারদিকে সবুজ, গবেষণাগারে নতুন প্রযুক্তি, শিক্ষকদের স্নেহ -সব মিলিয়ে এটা যেন আলোকিত পৃথিবী। আমি বিশ্বাস করি, বাকৃবি শুধু জ্ঞান দেয় না, দায়িত্বও শেখায়। এখানকার প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে মনে করিয়ে দেয় আমি এমন এক পরিবারের অংশ, যারা কৃষি আর কৃষকের ভবিষ্যৎ বদলে দিচ্ছে।”

বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সম্পর্কে বলেন, বিশ্বমানের পাঠ্যসূচি, অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি এবং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-সহযোগিতার মাধ্যমে বাকৃবির শিক্ষার্থীরা আজ অর্জন করছে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া ডিগ্রিসমূহ অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং এর চাহিদা রয়েছে বিশ্বব্যাপী।

এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ গ্র্যাজুয়েটদের সরাসরি দেশের সেবায় নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। মাতৃসম এ বিশ্ববিদ্যালয় হতে উত্তীর্ণ কৃষিবিজ্ঞানীদের অনেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পুরস্কৃত হয়েছেন এবং একই সাথে পেশাগত পূর্ণতায় বিকশিত হয়ে দেশের কৃষি-সংস্কৃতির পরিমণ্ডলকে করেছেন সমৃদ্ধ ও আলোকিত।

ফলে দেশ আজ ক্রমবর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে অসামান্য সাফল্য লাভ করতে পেরেছে। কৃষিক্ষেত্রে  গ্র্যাজুয়েটদের – এটি আজ সর্বজন স্বীকৃত। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এই পরম লগ্নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, তাদের অভিভাবক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই, জেলা প্রশাসন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও প্রতিবেশীসহ সকল স্তরের জনগণকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

এই বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষাঙ্গন নয়, এটি প্রকৃতির কন্যা-যে মাটির বুকে জন্ম নিয়ে কৃষকের ঘামকে রূপান্তর করেছে সোনালি ধানে, মাছের ঝাঁকে, প্রাণীর স্বাস্থ্যোন্নয়নে, আর প্রযুক্তির নতুন দিগন্তে। ৬৫ বছরের স্বপ্নযাত্রা একদিকে ইতিহাস, অন্যদিকে ভবিষ্যতের দিশা।

আজ যখন জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি, কৃষিজমির ক্রমহ্রাস, খাদ্যনিরাপত্তার চাপ আমাদের সামনে, তখন বাকৃবি এক নির্ভরতার নাম। আগামী দিনেও এই প্রকৃতিকন্যা তার সবুজ হাতছানি দিয়ে কৃষিকে, কৃষককে, আর বাংলার মানুষকে বাঁচিয়ে রাখবে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায়।

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।