বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

উচ্চশিক্ষা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কবি নজরুল কলেজের ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা

কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি: ২৪-এর জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা ছিল অনন্য। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজের ছাত্ররাজনৈতিক সংগঠনগুলোও এ আন্দোলনে রেখেছে গৌরবময় ভূমিকা। আন্দোলনে এই কলেজের চার শিক্ষার্থী শহীদ হোন। বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ […]

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কবি নজরুল কলেজের ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা

ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ আগস্ট ২০২৫, ১৬:৪৯

কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি:

২৪-এর জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা ছিল অনন্য। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজের ছাত্ররাজনৈতিক সংগঠনগুলোও এ আন্দোলনে রেখেছে গৌরবময় ভূমিকা। আন্দোলনে এই কলেজের চার শিক্ষার্থী শহীদ হোন।

বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।

ইট, লাঠি, যা পেয়েছি তা দিয়েই প্রতিহত করার চেষ্টা করেছি :

কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোঃ নাজমুল হাসান বলেন, জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত এই ছাত্র-জনতার আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান, যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলে।

বিপ্লবের সূচনা হয় কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে। পর্যায়ক্রমে এটি রূপ লাভ করে এক দফা দাবিতে। অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে এবং শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

তিনি বলেন , ১৯ জুলাই, ২০২৪ সারা দেশে শেখ হাসিনা সরকার কারফিউ জারি করে। আমাদের নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল প্রেসক্লাবে। আমি বাসা থেকে বের হয়ে জুমার নামাজ আদায় করে প্রেসক্লাবের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। রিকশায় করে লক্ষীবাজার পৌঁছে দেখি, এখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সংঘর্ষ চলছে।

তাই সেদিন প্রেসক্লাবে না গিয়ে আমিও লক্ষীবাজার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিই। আমরা সব মিলিয়ে ৩০/৪০ জন আন্দোলনকারী এখানে ছিলাম।পথের দুপাশে দাঁড়িয়ে ছিল শত শত উৎসুক জনতা। পুলিশ ও ছাত্রলীগ আমাদের কবি নজরুল সরকারি কলেজের সামনে থেকে ধাওয়া দিয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজ পর্যন্ত নিয়ে যায়। আমরা আবার পাল্টা ধাওয়া দিয়ে তাদের ভিক্টোরিয়া পার্ক পর্যন্ত নিয়ে যাই।

এভাবেই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য সংঘর্ষ চলতে থাকে। এরপর পুলিশ ও ছাত্রলীগ একযোগে আমাদের ওপর টিয়ারশেল, রাবার বুলেট এবং গুলি চালায়।

তিনি আরও বলেন, সেদিন বিকেলের দিকে পাতলাখান লেনের সামনে রাস্তায় পুলিশের ছোড়া গুলিতে কবি নজরুল সরকারি কলেজের ছাত্র ইকরাম হোসেন কাউসার শহীদ হন। গুলিটি তার মাথায় লাগতেই মগজ বের হয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। সেদিন কলেজের একে একে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুপুর থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছি।

সেদিন আমার সঙ্গে ছিলেন কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আহমদ উল্লাহ, রুহুল আমিন, নোমান, স্বপনীল, আবির, শাওন বিশ্বাস রিপনসহ আরও অনেক সাহসী সহযোদ্ধা। আবির সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়, বহু আন্দোলনকারী আহত হন। আমরা ইট, লাঠি, যা কিছু পেয়েছি তা দিয়েই প্রতিহত করার চেষ্টা করি।

মৃত্যুর মুখ থেকে একটুর জন্য বেঁচে ফিরি। সকলের সম্মিলিত লড়াই,সংগ্রাম আর হাজারো বীর শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে। সকল বীর সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

কোর্টের ভিতর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা :

কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাসিব বিন হাসান বলেন, আমাদের ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় ভাবেই আমাদের নির্দেশনা দিয়ে দেয় এই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।

১৪ জুলাই কবি নজরুল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন করে প্রতিনিধি আলোচনায় বসি যেখানে কেন্দ্রীয় মেহমান ছিল। এখান থেকে সিদ্ধান্ত হয় আমাদেরকে সমস্ত আন্দোলনে বিশেষ করে কোটা আন্দোলনকে বাস্তবায়ন করতেই হবে। ১৫ তারিখ হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত আসলো আমাদের শহীদুল্লাহ হলে যেতেই হবে ।

তখন আমাদের কবি নজরুল কলেজের যে জনশক্তি আছে তাদের নিয়ে তাৎক্ষণিক চলে যায়। আমাদের সভাপতি বায়জিদ মাহমুদ ভাই স্ট্যাম্প নিয়ে পরে চলে আসে এবং ওখানে কিছু সময় দাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ছিল বাংলাদেশের সমস্ত পেশাজীবী, শ্রমজীবী বিশেষ করে ছাত্রজনতাকে আন্দোলনে স্পিড জাগানোর একটা অন্যতম দিন। সেদিন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে শাপলা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে আমরা ভিক্টোরিয়া পার্কে যাই। সেখানে ছাত্রলীগ আমাদের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুল বান্না জিসানকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন তৎকালীন জগন্নাথ ছাত্রশিবিরের সভাপতি ধাওয়া দিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, এরপর আমরা মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারের দিকে রওনা দিই। তখন হঠাৎ কোর্টের ভিতর থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আমার সামনে দুজন ভাই গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর আমার বাম হাতে গুলি লাগে। সভাপতি বায়জিদ মাহমুদ ভাই ও বন্ধু নাঈম আমাকে দয়াগঞ্জে নিয়ে যান, সেখানে অপারেশনের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়া হয়।

ঢাকায় কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়, বাধ্য হয়ে আমাকে গ্রামের বাড়ি যেতে হয়। কিন্তু সেখানেও বাড়িতে থাকতে পারিনি থাকতে হয়েছে পাশের বাড়ি এবং পাশের এলাকায়। শেষ পর্যন্ত ওই এলাকাও ছাড়তে হয়েছে, আশ্রয় নিতে হয়েছে এক আত্মীয়র বাসায়।

আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আন্দোলনে যাওয়ার পথে তুলে নেয় ছাত্র অধিকারের নেতাকে :

কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, স্বাধীনতার পরও এ দেশের মানুষ বৈষম্য থেকে মুক্তি পায়নি। কোটা প্রথা নামক বৈষম্য ছাত্রসমাজের বুকের উপর চেপে বসে ছিল। এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে নুর, রাশেদ, হাসান আল মামুন ও ফারুকের নেতৃত্বে ছাত্ররা রাজপথে নেমে কোটা প্রথা বিলুপ্ত করে।

কিন্তু ২০২৪ সালে এসে আবার কোটা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিলে শিক্ষার্থীরা আবারও রাস্তায় নামে আসে। ৩৬ দিনের এ আন্দোলনে আমিও ধারাবাহিকভাবে মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিই। আমি নারায়ণগঞ্জে থাকি তাই সেখানে আন্দোলনকে কিভাবে বেগবান করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করি। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করি।

তিনি বলেন, ১২ জুলাই শাহবাগে আন্দোলনে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যায় অচেনা অজানা জায়গায়। সেখানে ১২ ঘণ্টা ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়, লাঠি ও লাথি দিয়ে মারধর করে এবং গালিগালাজ করে।

একপর্যায়ে নানা অঙ্গীকার নিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে কয়েকজনের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি হই। ১৪ জুলাই অসুস্থ শরীর নিয়েই নারায়ণগঞ্জে প্রথম মিছিল করি এবং শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে কোটার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলি। সেদিন রাতেই সবাই রাজপথে নেমে স্লোগান দেয় তুমি কে, আমি কে, রাজাকার রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার।

তিনি আরও বলেন , দেশের এরকম পরিস্থিতির মধ্যে আমার ছোট বোনকে হল থেকে একটি মেসে উঠাইতে যাই জীবন মৃত্যু হাতে নিয়ে। সে সময়ের কথা মনে হলে এখনো গা শিউরে উঠে। ৪ তারিখের মহাসমাবেশ থেকে বলা হয় পরশু নয় আগামীকালই লংমার্চ টু ঢাকা। এই গণঅভ্যুত্থান সফল করার লক্ষ্যে আমরা যাত্রাবাড়ীতে অবস্থান করি। ৫ তারিখের গণঅভ্যুত্থানের মধ্যেই সরকারের পতন ঘটে।

বন্ধুর মৃতদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পুলিশের গুলির মুখে জীবনবাজি রাখে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন নেতা :

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি দেওয়ান মুহাম্মদ তাজিম বলেন, কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কলেজস্থ ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। পুলিশ ও ছাত্রলীগের ভয় উপেক্ষা করে তারা ঝুঁকি নিয়ে মিছিলের আয়োজন করে এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বীরদর্পে রাজপথে অবস্থান নেয়।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, কবি নজরুল কলেজ শাখার নেতাকর্মীদের এই সাহসী ভূমিকার মূল প্রেরণা ছিলেন দেশের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক রাহাবার পীর সাহেব চরমোনাই এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম। তার নির্দেশেই শুরু থেকে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শাহবাগে কোটা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে পুরো আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়।

তিনি বলেন, তখন আমি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলাম। ক্যাম্পাস থেকে বাসা দূরে হওয়ায় নিজ এলাকা সাইনবোর্ড-যাত্রাবাড়ি থেকে কবি নজরুল কলেজের প্রতিনিধি হিসেবে আন্দোলনে অংশ নিই। কোটা সংস্কার ইস্যু থেকে জুলাই আন্দোলনের সূচনা হয়। শুরু থেকেই পীর সাহেব চরমোনাই ছাত্রদের পাশে ছিলেন।

পরে আন্দোলন যখন পুলিশি দমন-পীড়নের কারণে সরকার পতনের দাবিতে রূপ নেয়, তখনও তার নির্দেশে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামি এবং সমন্বয়কদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাই। ১৫ জুলাই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে একত্রিত হয়ে আমি ঢাবির মলচত্বরে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের সাথে মুখোমুখি লড়াই করেছি। সেদিন মলচত্বরে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হামলায় অনেক শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়।

শিক্ষার্থীদের রক্তের প্রয়োজন পড়লে দ্রুত কেন্দ্রীয় নেতা আল আমিন বাবুল ভাইয়ের সাথে ছুটে যাই ঢাকা মেডিকেলে রক্ত দিতে।

তিনি আরও বলেন, কলেজ শাখার তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক, মোস্তফা কামাল এই আন্দোলনে পুলিশের হেনেস্তার শিকার হয়। তিনি তার বিভাগের বন্ধুদের নেতৃত্ব দিয়ে একত্রে আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। রাজপথে থাকাকালেই তার ঘনিষ্ট বন্ধু ওমর ফারুক পুলিশের গুলিতে মারা যায়। বন্ধুর মৃতদেহ পরিবারের নিকট পৌঁছে দিতে গিয়ে পুলিশের গুলির মুখে জীবনবাজি রেখেছে তিনি।

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

জবিতে উদীচীর কক্ষে গাজার আসর, নিষেধ করায় সাংবাদিককে হুমকি

রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) উদীচীর কক্ষে নিয়মিত গাজাসেবনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কিছু শিক্ষার্থীকে গাজা সেবনরত অবস্থায় ধরে ফললে এবং তা করতে নিষেধ করলে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেন নাট্যকলা বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোস্তাকিনসহ সৌমিক বোস, রুদ্র ও তার সহযোগীরা। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে অবকাশ ভবনের […]

জবিতে উদীচীর কক্ষে গাজার আসর, নিষেধ করায় সাংবাদিককে হুমকি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৫ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩১

রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) উদীচীর কক্ষে নিয়মিত গাজাসেবনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কিছু শিক্ষার্থীকে গাজা সেবনরত অবস্থায় ধরে ফললে এবং তা করতে নিষেধ করলে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেন নাট্যকলা বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোস্তাকিনসহ সৌমিক বোস, রুদ্র ও তার সহযোগীরা।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে অবকাশ ভবনের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অবকাশ ভবনের চতুর্থ তলায় প্রেসক্লাবের সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলছিল। এ সময় উদীচীর কক্ষ থেকে তীব্র গাজার গন্ধ পাওয়া গেলে কয়েকজন সাংবাদিক গন্ধের উৎস জানতে সেখানে যান। তারা জানতে চান, উদীচীর কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত আছেন কি না।

থাকলে তার সাথে কথা বলতে চান। তখন নাট্যকলা বিভাগের ১৬ ব্যাচের শোভন নামের এক শিক্ষার্থী নিজেকে দায়িত্বশীল বলে জানালে সাংবাদিকরা তাকে জানান এখান থেকে তীব্র গাজার গন্ধ আসছে। তারা কাউকে গাজা সেবন করতে দেখেছেন কিনা।

তখন নাট্যকলা বিভাগের শোভন নামের ওই শিক্ষার্থী বলেন অনেকেই সেখানে যাওয়া আসা করছে। কে গাজা সেবন করেছে তাকে তারা দেখেন নি। পরে সাংবাদিকরা উদিচির জানালার পাশে সেবন করা গাজার ছাই দেখতে পান। সেখান থেকে তীব্র গাজার গন্ধও ভেসে আসছিল। পরে সাংবাদিকরা বলেন, এখান থেকেই গাজার গন্ধ আসছিল।

এখনও আছে। আপনাদের মধ্যে হয়তো কেউ হতে পারে। এগুলো এখানে করা ঠিক না। গাজার গন্ধে পাশের রুমগুলোতেও থাকা যায়না। এই কথা বলে সাংবাদিকরা সেখান থেকে চলে আসতে ধরল গাজাসেবনের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “এখানে অনেকেই আসে, তাদের মধ্যে কেউ হতে পারে; আমরা কিছু জানি না।”

তবে সাংবাদিকরা জানান, ঘটনার সময় বাইরে কেউ প্রবেশ বা বের হননি। গন্ধের কারণে পাশের কক্ষে থাকা অসুবিধা হচ্ছে, এ কথা জানিয়ে তারা বের হয়ে আসার চেষ্টা করলে উদীচীর কক্ষের ভিতর থেকে নাট্যকলা বিভাগের ১৬ ব্যাচের মনন মোস্তাকিন নামের এক শিক্ষার্থী তেড়ে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয়। তখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, এ সময় উদীচীর কক্ষ থেকে নাট্যকলা বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোস্তাকিন এসে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সাংবাদিকরা তাকে উদীচীর দায়িত্বশীল কিনা জানতে চাইলে তিনি উল্টো চিৎকার করে বলেন, “আমিই উদিচির দায়িত্বশীল। কি করার আছে কর।” তখন সাংবাদিকরা তাকে বলেন, “এখান থেকে গাজার গন্ধ আসছিল, আশেপাশে গন্ধে থাকা যাচ্ছেনা। আপনাদের প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারির সাথে এবিষয়ে কথা বলবো।”

তখন মোস্তাকিন সবার উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে এসে চিৎকার করে বলে, “আমি গাজা খাই। ভিসি ভবনের সামনে চল, মাইকিং করে সবাইকে বলবো আমি গাজা খাই।” এরপর তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আরো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে তাঁদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়। এ সময় কক্ষে উপস্থিত দুই নারী শিক্ষার্থীও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অশোভন অঙ্গভঙ্গি করেন।

এছাড়াও নিজেদের উদীচীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তাদের মধ্যে একজন আলোচিত বাংলাদেশ পত্রিকার সাংবাদিক রাকিবুল ইসলামের ছবি তুলে নিয়ে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এবং নাট্যকলা ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী সৌমিক বোসসহ উপস্থিত রুদ্র, মোস্তাকিন ও আরও কয়েকজন উপস্থিত একাধিক সাংবাদিককে হুমকি প্রদান করেন।

পরে উদিচীর বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমরিন জাহান অমি এসে বলেন, “এমন ঘটনা আগেও অনেক ঘটেছে। অনেককেই আমিও সামনের জায়গাটায় গাজাসেবন সহ অনৈতিক কাজ করতে দেখেছি। আমি নিষেধও করেছি।

উদীচীর আগের কমিটির অনেকেও অফিসে বসেই এসব করতেন। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর উদীচীর সদস্যদেরও বারবার এসব বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। আমরাও এবিষয়ে অভিযোগ দেবো। এর আগেও আমরা প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দিয়েছিলাম।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “আমি ঘটনাটি শুনেছি। একজন সহকারী প্রক্টরকে সেখানে পাঠিয়েছিলাম। ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শিক্ষাঙ্গন

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার […]

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:০৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আলতাফ হোসেন শরিফ ওসমান হাদিকে কটূক্তিমূলকভাবে ‘জংলি’ আখ্যা দেন।

ওই পোস্টে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে হাদির নাম জড়িয়ে মন্তব্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের মতে চরম অবমাননাকর ও উসকানিমূলক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—‘হাদিকে যিনি জংলি বলেন, তিনি নিজেই জঞ্জাল’, ‘আপনি জংলি কাকে বলেন? জুলাই যোদ্ধাকে?’, ‘হাদি ভাইয়ের মতো আমরা সবাই জংলি, এই জঙ্গলে আমরা এমন শিক্ষক চাই না’—ইত্যাদি।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অপতৎপরতা বন্ধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা,

ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদির নামে হল বা স্থাপনার নামকরণ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন বিপ্লবীকে ‘জংলি’ বলা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং দেশের জন্য আত্মত্যাগ ও জাতির সম্মানকে অপমান করার শামিল। তারা দাবি করেন, যিনি জাতির বিবেক গঠনের দায়িত্বে আছেন, তাঁর কাছ থেকে এমন ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ক্যাম্পাসে আবারও ফ্যাসিবাদী মানসিকতা মাথাচাড়া দিতে পারে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন বর্তমানে স্কটল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।