ইরফান উল্লাহ, ইবি প্রতিনিধি:
জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ‘খুলনার মাহবুব হত্যা নিশ্চিত করতে তার রগ কাটা হয়েছে। আমরা জানি কারা এই রগ কাটার সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী। তাদের উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল করে নির্বাচন বিলম্বিত করা। আমরা ধৈর্য ধরে আছি কিন্তু মাঠে নামলে আপনাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।
রাজনৈতিক মোকাবেলা করতে চাইলে স্বনামে আসেন, সাধারণ ছাত্রের নামে কেন আসছেন। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানকে নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ কথা ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ তা সহ্য করবে না। এর পরেও যদি আপনারা এসব কুরুচিপূর্ণ কথা ও অবমাননা চালিয়ে যান আমরা এর দাঁত ভাঙা জবাব দিবো।’
সোমবার (১৪ জুলাই) জিয়াউর রহমানের ছবি অবমাননা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্লোগানের প্রতিবাদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। একই দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।
অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন আরও বলেন, ‘আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই সোহাগ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান আসামি মঈনকে গতকাল গ্রেফতার করা হয়েছে, কিন্তু মঈনের সঙ্গে আমরা এনসিপির দুইজন নেতার ছবি দেখতে পাই। তাহলে আমরা কি মনে করতে পারি না যে,
এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে এবং এর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছে বিএনপির উপরে। শহিদ জিয়াউর রহমান এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন অথচ তাকেই আপনারা অপমান করছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করা, সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, গুপ্ত সংগঠন কর্তৃক মব সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদল। এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের সামনে থেকে তিনটি আলাদা ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসন ভবন চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে ইবি জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ইউট্যাব ইবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, ইবি জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বক্তব্য রাখেন।
এসময় সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা ‘জিয়ার সৈনিক, এক হও লড়াই করো’, এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে, ‘জামাত শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘দিল্লি গেছে স্বৈরাচার, পিণ্ডি যাবে রাজাকার’, ‘রাজাকার আর স্বৈরাচার মিলেমিশে একাকার’, স্বৈরাচার গেছে যেই পথে, রাজাকার যাবে সেই পথে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।