শেকৃবি প্রতিনিধিঃ
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য নবীনবরণ ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে শেকৃবি ছাত্রশিবির।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় আর্কাইভ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চার শতাধিক শিক্ষার্থীদের হাতে পবিত্র কুরআন ও ইসলামিক বই উপহার ও ইফতার বিতরণের মাধ্যমে আয়োজিত হয় অনুষ্ঠানটি।
শেকৃবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি এইচ এম সালাউদ্দিন, কৃষিবিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আলী আফজাল, বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ মাহমুদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও দেশে সাম্য ও ন্যায়বিচারের অভাব রয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, জুলাইয়ের পর থেকে ১৮৯টি হত্যাকাণ্ড, ৭২টি শিশু নির্যাতন এবং ১১৭টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যা সমাজের অবক্ষয়েরই প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, “নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিবর্তে শুধুমাত্র বস্তুবাদী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে শত আন্দোলন সত্ত্বেও সমাজ থেকে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ কমছে না।”
নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ মামলার বিচার হয় এবং দোষীরা কিছুদিনের মধ্যেই মুক্ত হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম দাবি করেন, “১৯৭৭ সাল থেকে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ বা চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তবে অতীতে ‘রগকাটা’ সংক্রান্ত মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে শিবির সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা হয়েছে। এখন নতুন প্রজন্ম সচেতন এবং শিবিরের আদর্শ ও কার্যক্রম তাদের আকর্ষণ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রশিবিরের কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হল দখল বা টেন্ডারবাজির উদাহরণ নেই। কারণ, এসব আমাদের আদর্শের অংশ নয়।”
নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইসলাম নারীকে ঘরে আটকে রাখে না, বরং যথাযথ মর্যাদা দিয়েছে। রাসুল (সা.)-এর যুগেও নারীরা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, সমাজে অবদান রেখেছেন, এমনকি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।