বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

উচ্চশিক্ষা

শাহবাগের বিরুদ্ধে স্লোগান মধ্যরাতে উত্তাল জাবি

 হাবিবুর রহমান সাগর,জাবি প্রতিনিধি  মব সন্ত্রাসের প্রতিবাদ এবং শাহবাগের জুডিশিয়াল কিলিং এর বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাস ভূকম্পিত করে বিক্ষোভ মিছিল করছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১২ মার্চ) ভোর রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে বিক্ষোভমিছিলটি শুরু হয়ে একুশটা হল এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বটতলায় এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১২ মার্চ ২০২৫, ১৩:০৯

 হাবিবুর রহমান সাগর,জাবি প্রতিনিধি 

মব সন্ত্রাসের প্রতিবাদ এবং শাহবাগের জুডিশিয়াল কিলিং এর বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাস ভূকম্পিত করে বিক্ষোভ মিছিল করছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১২ মার্চ) ভোর রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে বিক্ষোভমিছিলটি শুরু হয়ে একুশটা হল এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বটতলায় এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে “অন টু থ্রি ফোর, শাহাবাগী নো মোর”, “শাহাবাগী রাজাকার এই মুহুর্তে বাংলা ছাড়”, “লতে লাকি, তুই হাসিনা তুই হাসিন”, “সন্ত্রাসী শাহাবাগীদের আস্তানা, এই বাংলায় হবে না”, “শাহাবাগীদের গদিতে, আগুন জ্বালো এক সাথে’, “শাহাবাগী দালালেরা, হুশিয়ার সাবধান”, “শাহবাগ না শাপলা, শাপলা শাপলা”, “শাহবাগ সন্ত্রাস করে, ইন্টেরিম কি করে” ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

সমাবেশ নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শোয়াইব হোসেন বলেন, ২০১৩ সালের শাহবাগ এই ২০২৫ এ এসে প্রতিষ্ঠিত হতে দিবো না। বাংলাদেশের বুকে আর একটা জুডিয়াশিয়াল কিলিং হতে দিবো না। আরেকটা শাহবাগ করতে হলে আমাদের লাশের ওপর দিয়ে। করতে হবে। কারা জুডিশিয়াল কিলিং এর রাস্তা তৈরি করেছিল, আমরা ভুলি নাই। এই সরকারকে বলতে চাই দ্রুত এদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসুন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিত বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাফায়েত মীর বলেন, ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার তৈরি করা শাহাবাগীদের আবার উত্থান হয়েছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। লাকিকে অতি দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে নতুন করে শাপলায় আবারও রক্ত ঝরতে আমরা দেবনা। সোনার বাংলায় দিল্লির ষড়যন্ত্র আমরা কায়েম করতে দেব না। ইসলাম বিদ্বেষ ও ভারতীয় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেই এই শাহাবাগের উৎথান।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর আমরা ভেবেছিলাম তারা শুধরাবে কিন্তু তারা শুধরায়নি। আমরা রাজপথে আছি শাহাবাগীদের রাজপথেই আমরা মোকাবেলা করবো। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের সময় জাহাঙ্গীনগরের আন্দোলনকেও এই শাহাবাগীরা বাঞ্চাল করতে চেয়েছিলো। আমরা এখনো মারা যাই নাই, শহীদদের রেখে যাওয়া স্বপ্ন আর ২৪’র চেতনাকে ধারণ করে শাহাবাগের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।

সমাবেশে সিএসই বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আলি জাকি শাহরিয়ার বলেন, ‘আমরা জানি কিভাবে এই শাহবাগ ফ্যাসিস্টদের দোসর এবং তারা কিভাবে ফ্যাসিস্টদের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। আমরা এটাও দেখেছি এরা দেশে কিভাবে বিচারিক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। আমরা অবাক হই ২৪’র পরবর্তী সময়ে এসে কিভাবে এই লাকি আক্তার অবাধে বিচরণ করে বেড়াচ্ছে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সাধারণ আপামর জনতা এই শাহবাগীদের বিচার চাই। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই যতদিন না এই শাহবাগীদের মূল উৎপাটন হচ্ছে, শাহবাগীদের শিরচ্ছেদ হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আমাদের লড়া চলবে।’

সমাপনী বক্তব্যে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনজুম শাহরিয়ার বলেন, জুলাই ২৪’র রক্তঝরা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যখন ভেবেছিলাম যে, ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে, তখনই আবার দেখতে পাচ্ছি সেই পুরনো ফ্যাসিস্ট ফিরে আসছে। দুই হাজার ছাত্রজনতার রক্তের বিনিময়ে আমরা যে মুক্তি পেয়েছি, সেই মুক্তিকে আজ আবার হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শাহবাগে যে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ এবং ‘মব জাস্টিস’-এর সূচনা হয়েছিল, সেই শাহবাগী সন্ত্রাসী লাকি আক্তার যখন এই বাংলায় এসে আবারো মব জাস্টিস এর ডাক দেয় তখন আমরা সেই পুরনো ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার স্বরূপকেই দেখতে পাই। শাহবাগে জুডিশিয়াল কিলিং কায়েম করার মাধ্যমে আমাদের ভাইদেরকে তাজা রক্তে রঞ্জিত করা হয়েছিল তা আজ আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। সেই সময় যেভাবে ছাত্রদের রক্ত ঝরিয়ে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছিল, ঠিক তেমনই একটি মহল এখনো একই অপকৌশলে দেশকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে চাচ্ছে।

শাহরিয়ার আরও উল্লেখ করেন, আমরা ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই-বাংলার ছাত্র জনতা আর কোনো মব জাস্টিস মেনে নেবে না। যদি কেউ বিচার ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে নিজস্ব স্বার্থে জনগণের নামে বিচার করতে চায়, যদি আবার কোনো ষড়যন্ত্র করে আরেকটি ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ ঘটানোর চেষ্টা করা হয়, তবে ছাত্র জনতা তা কঠোর হস্তে প্রতিহত করবো।

আমরা ফ্যাসিবাদী শক্তির রূপ আজও স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি। একসময় শাহবাগকে ব্যবহার করে যে স্বৈরশাসন কায়েম করা হয়েছিল, আজ আবার সেই শক্তিগুলো নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিতে চাই-এই বাংলার ছাত্র জনতা আর কোনো ফ্যাসিবাদ বরদাশত করবে না।

বর্তমানে ইন্টেরিম সরকার একটি সুষ্ঠু বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কিছু কুচক্রী মহল বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নানা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইছে। ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের নামে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মন কায়েমের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়বিচারকে হুমকির মুখে ফেলছে। আমরা এই ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

জবিতে উদীচীর কক্ষে গাজার আসর, নিষেধ করায় সাংবাদিককে হুমকি

রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) উদীচীর কক্ষে নিয়মিত গাজাসেবনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কিছু শিক্ষার্থীকে গাজা সেবনরত অবস্থায় ধরে ফললে এবং তা করতে নিষেধ করলে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেন নাট্যকলা বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোস্তাকিনসহ সৌমিক বোস, রুদ্র ও তার সহযোগীরা। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে অবকাশ ভবনের […]

জবিতে উদীচীর কক্ষে গাজার আসর, নিষেধ করায় সাংবাদিককে হুমকি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৫ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩১

রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) উদীচীর কক্ষে নিয়মিত গাজাসেবনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কিছু শিক্ষার্থীকে গাজা সেবনরত অবস্থায় ধরে ফললে এবং তা করতে নিষেধ করলে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেন নাট্যকলা বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোস্তাকিনসহ সৌমিক বোস, রুদ্র ও তার সহযোগীরা।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে অবকাশ ভবনের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অবকাশ ভবনের চতুর্থ তলায় প্রেসক্লাবের সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলছিল। এ সময় উদীচীর কক্ষ থেকে তীব্র গাজার গন্ধ পাওয়া গেলে কয়েকজন সাংবাদিক গন্ধের উৎস জানতে সেখানে যান। তারা জানতে চান, উদীচীর কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত আছেন কি না।

থাকলে তার সাথে কথা বলতে চান। তখন নাট্যকলা বিভাগের ১৬ ব্যাচের শোভন নামের এক শিক্ষার্থী নিজেকে দায়িত্বশীল বলে জানালে সাংবাদিকরা তাকে জানান এখান থেকে তীব্র গাজার গন্ধ আসছে। তারা কাউকে গাজা সেবন করতে দেখেছেন কিনা।

তখন নাট্যকলা বিভাগের শোভন নামের ওই শিক্ষার্থী বলেন অনেকেই সেখানে যাওয়া আসা করছে। কে গাজা সেবন করেছে তাকে তারা দেখেন নি। পরে সাংবাদিকরা উদিচির জানালার পাশে সেবন করা গাজার ছাই দেখতে পান। সেখান থেকে তীব্র গাজার গন্ধও ভেসে আসছিল। পরে সাংবাদিকরা বলেন, এখান থেকেই গাজার গন্ধ আসছিল।

এখনও আছে। আপনাদের মধ্যে হয়তো কেউ হতে পারে। এগুলো এখানে করা ঠিক না। গাজার গন্ধে পাশের রুমগুলোতেও থাকা যায়না। এই কথা বলে সাংবাদিকরা সেখান থেকে চলে আসতে ধরল গাজাসেবনের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “এখানে অনেকেই আসে, তাদের মধ্যে কেউ হতে পারে; আমরা কিছু জানি না।”

তবে সাংবাদিকরা জানান, ঘটনার সময় বাইরে কেউ প্রবেশ বা বের হননি। গন্ধের কারণে পাশের কক্ষে থাকা অসুবিধা হচ্ছে, এ কথা জানিয়ে তারা বের হয়ে আসার চেষ্টা করলে উদীচীর কক্ষের ভিতর থেকে নাট্যকলা বিভাগের ১৬ ব্যাচের মনন মোস্তাকিন নামের এক শিক্ষার্থী তেড়ে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয়। তখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, এ সময় উদীচীর কক্ষ থেকে নাট্যকলা বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোস্তাকিন এসে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সাংবাদিকরা তাকে উদীচীর দায়িত্বশীল কিনা জানতে চাইলে তিনি উল্টো চিৎকার করে বলেন, “আমিই উদিচির দায়িত্বশীল। কি করার আছে কর।” তখন সাংবাদিকরা তাকে বলেন, “এখান থেকে গাজার গন্ধ আসছিল, আশেপাশে গন্ধে থাকা যাচ্ছেনা। আপনাদের প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারির সাথে এবিষয়ে কথা বলবো।”

তখন মোস্তাকিন সবার উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে এসে চিৎকার করে বলে, “আমি গাজা খাই। ভিসি ভবনের সামনে চল, মাইকিং করে সবাইকে বলবো আমি গাজা খাই।” এরপর তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আরো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে তাঁদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়। এ সময় কক্ষে উপস্থিত দুই নারী শিক্ষার্থীও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অশোভন অঙ্গভঙ্গি করেন।

এছাড়াও নিজেদের উদীচীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তাদের মধ্যে একজন আলোচিত বাংলাদেশ পত্রিকার সাংবাদিক রাকিবুল ইসলামের ছবি তুলে নিয়ে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এবং নাট্যকলা ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী সৌমিক বোসসহ উপস্থিত রুদ্র, মোস্তাকিন ও আরও কয়েকজন উপস্থিত একাধিক সাংবাদিককে হুমকি প্রদান করেন।

পরে উদিচীর বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমরিন জাহান অমি এসে বলেন, “এমন ঘটনা আগেও অনেক ঘটেছে। অনেককেই আমিও সামনের জায়গাটায় গাজাসেবন সহ অনৈতিক কাজ করতে দেখেছি। আমি নিষেধও করেছি।

উদীচীর আগের কমিটির অনেকেও অফিসে বসেই এসব করতেন। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর উদীচীর সদস্যদেরও বারবার এসব বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। আমরাও এবিষয়ে অভিযোগ দেবো। এর আগেও আমরা প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দিয়েছিলাম।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “আমি ঘটনাটি শুনেছি। একজন সহকারী প্রক্টরকে সেখানে পাঠিয়েছিলাম। ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শিক্ষাঙ্গন

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার […]

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:০৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আলতাফ হোসেন শরিফ ওসমান হাদিকে কটূক্তিমূলকভাবে ‘জংলি’ আখ্যা দেন।

ওই পোস্টে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে হাদির নাম জড়িয়ে মন্তব্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের মতে চরম অবমাননাকর ও উসকানিমূলক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—‘হাদিকে যিনি জংলি বলেন, তিনি নিজেই জঞ্জাল’, ‘আপনি জংলি কাকে বলেন? জুলাই যোদ্ধাকে?’, ‘হাদি ভাইয়ের মতো আমরা সবাই জংলি, এই জঙ্গলে আমরা এমন শিক্ষক চাই না’—ইত্যাদি।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অপতৎপরতা বন্ধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা,

ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদির নামে হল বা স্থাপনার নামকরণ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন বিপ্লবীকে ‘জংলি’ বলা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং দেশের জন্য আত্মত্যাগ ও জাতির সম্মানকে অপমান করার শামিল। তারা দাবি করেন, যিনি জাতির বিবেক গঠনের দায়িত্বে আছেন, তাঁর কাছ থেকে এমন ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ক্যাম্পাসে আবারও ফ্যাসিবাদী মানসিকতা মাথাচাড়া দিতে পারে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন বর্তমানে স্কটল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।